
পাখিরালয় গ্রামে হয়ে গেল ৬ দিনের বিশেষ ক্যাম্প
সুন্দরবন। এক অর্থে গোটা বাংলার ঢাল। বাংলার জীববৈচিত্র্যের একটা বড়ো অংশকে বুকে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের প্রায় সমস্ত ঘূর্ণিঝড়ের দাপট সহ্য করে বাংলার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে সুপ্রাচীন এই বাদাবন। সেখানেই বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকে মূলমন্ত্র করে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে চলেছে শের- সোসাইটি ফর হেরিটেজ অ্যান্ড ইকোলজিকাল রিসার্চেস (SHER- Society for Heritage and Ecological Researches)। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ ও মানুষের সংঘাত এবং সম্পর্ক নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছে এই সংস্থা। এবার তাঁরা নিলেন এক নতুন উদ্যোগ, সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের রেজিস্টার্ড স্থানীয় গাইডদের পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে তাঁদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সুন্দরবনের স্থানীয় গাইডদের স্পোকেন ইংলিশের ট্রেনিং দেওয়া।

‘শের’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক জয়দীপ কুণ্ডু বঙ্গদর্শন.কম-কে জানান, “সুন্দরবন শুধুমাত্র জীববৈচিত্র্য আর বাস্তুতন্ত্রের জন্য প্রসিদ্ধ নয়, এটি একটি প্রখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। প্রতি বছর এখানে ভিনরাজ্য এবং ভিনদেশ থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। তাঁরা ভরসা করেন স্থানীয় গাইডদের উপর। স্থানীয় গাইডরা সুন্দরবনের জঙ্গলকে হাতের তালুর মতন চেনেন, কিন্তু অনেকসময় ভাষার দূরত্ব পর্যটক ও গাইডদের মধ্যে বার্তালাপের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তা দূর করার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা।” সংগঠনের আরও একজন প্রতিষ্ঠাতা সুচন্দ্রা কুণ্ডু যোগ করলেন, “এখানকার বহু স্থানীয়রা পর্যটনের ওপর ভর করে জীবন চালান। তাঁরা যদি বিদেশি ও ভিনরাজ্যের পর্যটকদের সঙ্গে আরও বেশি স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন, তবে পর্যটকদের কাছে সুন্দরবনের আকর্ষণ আরও বাড়বে। পর্যটকেরা সুন্দরবনকে আরও ভালো করে চিনতে ও বুঝতে পারবেন।”

সুন্দরবনের পাখিরালয় গ্রামে রয়েছে শের সংগঠনের মাল্টিপারপাস কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার ‘বাঘ বন’ (Multipurpose Community Resource Centre Bagh Bon)। সেখানে আছে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম। রয়েছে বিবিধ ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা। সেখানেই গত ২২ থেকে ২৭ মে, ইউএস কনস্যুলেটের নিউ দিল্লির আঞ্চলিক ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অফিস (Regional English Office of U.S. Consulate, New Delhi) এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের সহযোগিতায় হয়ে গেল এই ৬ দিনের ক্যাম্প। জয়দীপবাবু জানালেন, ব্যাঘ্র প্রকল্পের ৩৬ জন রেজিস্টার্ড গাইডকে নিয়ে হয়েছিল এই ট্রেনিং ক্যাম্প। ইউএস কনস্যুলেটের ইংরেজি ভাষার ফেলো ম্যাডিসন নুনেস (Madison Nunes) স্থানীয় গাইডদের শেখালেন বিভিন্ন বিষয়- বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে বার্তালাপের আদবকায়দা, একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার কায়দা, পরিবেশ দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব সুন্দরবনের উপর কীভাবে পড়ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যটক এবং সংগঠনকে তথ্য দেওয়া এবং সচেতন করা। ৩৬ জনকে ছয়টি দলে ভাগ করে তাঁদের বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। দেখা হয়েছিল কে বেশি ভালোভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। ইউএস কনস্যুলেট থেকে এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী গাইডদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধিকর্তা।

কিন্তু এর মাধ্যমে কোন কোন উপকার হবে সুন্দরবনের? জয়দীপ কুণ্ডু এবং সুচন্দ্রা কুণ্ডুর কথায় উঠে এল তার নির্যাস। স্থানীয় গাইডরা আরও ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পারবেন, সুন্দরবনে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে কী ধরনের কাজ করছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। ভিনরাজ্য ও ভিনদেশী পর্যটকদের কী কী দরকার, তা বুঝতে পারবেন। তাঁদেরকে বিশদে বোঝাতে পারবেন সুন্দরবনের বাদাবন ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে। সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক এবং বাস্তুতান্ত্রিক গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতে পারবেন, ভিনরাজ্য ও ভিনদেশের মানুষদের বোঝাতে পারবেন সুন্দরবনের সার্বিক গুরুত্ব, বিশ্ব উষ্ণায়ন সম্পর্কে করতে পারবেন তথ্য আদানপ্রদান। এককথায়, সুন্দরবনকে তুলে ধরতে পারবেন সারা বিশ্বের কাছে। তাতে সুন্দরবনের আকর্ষণ আর নিরাপত্তা দুই-ই বাড়বে। জয়দীপবাবু জানালেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘শের’ সুন্দরবনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। যাতে এমনই আরও সাশ্রয়ী এবং সমাজবান্ধব প্রচেষ্টাগুলির পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। তার ফলে নতুন করে পুনঃস্থাপিত হচ্ছে ইউএস-ইন্ডিয়া গ্লোবাল কম্প্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এর মূল অঙ্গীকার।
সুন্দরবনের পাখিরালয় গ্রামে রয়েছে শের সংগঠনের মাল্টিপারপাস কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার ‘বাঘ বন’ (Multipurpose Community Resource Centre Bagh Bon)। সেখানে আছে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম। রয়েছে বিবিধ ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা। সেখানেই গত ২২ থেকে ২৭ মে, ইউএস কনস্যুলেটের নিউ দিল্লির আঞ্চলিক ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অফিস (Regional English Office of U.S. Consulate, New Delhi) এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের সহযোগিতায় হয়ে গেল এই ৬ দিনের ক্যাম্প। জয়দীপবাবু জানালেন, ব্যাঘ্র প্রকল্পের ৩৬ জন রেজিস্টার্ড গাইডকে নিয়ে হয়েছিল এই ট্রেনিং ক্যাম্প।

জয়দীপবাবু বললেন, সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকরা সবসময় এই উদ্যোগের পাশে ছিলেন। গাইডদের বেছে দেওয়া থেকে তাঁদের এই ক্যাম্পের গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝানো, অন্যান্য অনেকরকমের সহায়তাই জয়দীপবাবুরা পেয়েছেন তাঁদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, “ওঁদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড়ো উদ্যোগ সুষ্ঠভাবে আয়োজন করা যেত না।” ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন কনস্যুলেটকেও। তিনি জানালেন, বাকি গাইডদেরও পরবর্তীকালে এই উদ্যোগে সামিল করা হবে।
