
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শের’-এর উদ্যোগ
জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গভীর অরণ্যে পাড়ি দেন সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা। জঙ্গলে রান্নার কাঠ সংগ্রহে গিয়ে বাঘের কবলে পরেছেন অনেকেই। এবার মাছ ধরার নৌকোতেই জ্বালানির বন্দোবস্ত করতে তাঁদের বিতরণ করা হল এলপিজি সিলিন্ডার।
মাছ ধরতে নৌকো চেপে সুন্দরবনের সংরক্ষিত ব্যাঘ্র প্রকল্পের এলাকায় যান মৎস্যজীবীরা। বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে তিন-চারদিন সেখানেই থাকেন। রান্নার জন্য শুকনো কাঠের খোঁজে জঙ্গলে নামতে হয় তাঁদের। মানুষের অবাঞ্ছিত আনাগোনা যেমন বাঘেদের অসুবিধেয় ফেলে, তেমনি বাঘের হামলায় মৎস্যজীবীদের প্রাণ যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। কাঠ আনতে যাতে জঙ্গলে যেতে না হয়, তার জন্য নৌকোতেই পোর্টেবল গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করল বন্যপ্রাণ সংস্থা ‘শের’। এতে বাঘ-মানুষ সংঘাত এড়ানো যাবে, কমবে গাছ কাটাও।
বক্তব্য রাখছেন জয়দীপ কুণ্ডু
শুক্রবার ৭ আগস্ট রাজ্য বনদপ্তরের সহায়তায় সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের বসিরহাট ডিভিশনের ঝিল্লা অফিসে মৎস্যজীবীদের হাতে তুলে দেওয়া হল স্টোভ আকারের এলপিজি সিলিন্ডার। এগুলি সহজেই নৌকোয় বসিয়ে রাখা যায়। প্রাথমিকভাবে ১০০ জন মৎস্যজীবীকে ছোটো আকারের সিলিন্ডারগুলি বিতরণ করা হল। হাজির ছিলেন বনদপ্তরের চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন রবিকান্ত সিনহা, সুন্দরবন ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর তাপস দাস, বসিরহাটের রেঞ্জ অফিসার বিপ্লব ভৌমিক, কুমিরমারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দেবাশিস মণ্ডল এবং অন্য বিশিষ্টজনেরা। শেরের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বন্যপ্রাণ উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য জয়দীপ কুণ্ডু এবং কলকাতার অনারারি ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন সুচন্দ্রা কুণ্ডু। অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক সংখ্যক মৎসজীবীদের হাতে এলপিজি সিলিন্ডার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শের।
মৎস্যজীবীরা
শেরের কর্ণধার জয়দীপ কুণ্ডু আমাদের জানালেন, “সুন্দরবনে এমন উদ্যোগ আমরাই প্রথম শুরু করলাম। আগামী দিনে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব আমরা। এটিকে যৌথ বন পরিচালনা ব্যবস্থার দ্বিতীয় পর্যায় বলা যেতে পারে।” সুন্দরবন ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর তাপস দাস বললেন, “জীবিকার থেকে জীবন গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্যজীবী ভাইদের কাছে অনুরোধ, যেখানে মাছ ধরতে যাওয়া বারণ, সেখানে যাবেন না। যেই জমিতে নামা বারণ, নামবেন না। তাহলেই আপনাদের প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারব”।
