
দেশী-বিদেশী পাখিদের নিত্য আনাগোনা
বর্ষার অবিশ্রান্ত ধারায় প্রকৃতি এখন স্নিগ্ধ। নদী, খাল, বিল জলে থৈ থৈ। মাঝেমাঝে চলছে প্রবল থেকে মাঝারি বৃষ্টি। আবার হঠাৎই মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে আলোর ঝিকিমিকি। চারিদিকে সবুজের বন্যা – এই তো আমাদের গ্রামবাংলার দৃশ্য। অনেক শিল্পীই বাংলার এই বৃষ্টিভেজা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন রং-তুলিতে। তাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম বর্ষার দৃশ্য দেখতে। চললাম নদী ঘেরা সবুজের দেশ পিয়ালির উদ্দেশ্যে।
সবুজ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়
সুন্দরবনের নদী
সুন্দরবন বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জল, জঙ্গল, মাছ ধরার নৌকো, পাখি ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পিয়ালি সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজে ঘেরা গ্রাম্য জীবনের জলছবিতে পরিপূর্ণ পিয়ালি। কলকাতা থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গাড়ি বা ট্রেনে পৌঁছে যাওয়া যায় এই দ্বীপে।
নৌকোর জীবন
নদী আরও সতেজ হয় বর্ষায়
আরও পড়ুন
পাহাড়ের নির্জন স্বর্গ রিশ্যপ
চারদিক থেকে নদীতে ঘেরা এই দ্বীপ। পিয়ালি নদী মিলেছে সুন্দরবনের মাতলা নদীর বৃহৎ অংশে। এক বৃষ্টিভেজা সকালে আমরা গাড়ি নিয়ে পৌঁছলাম পিয়ালি। নদীর ধারে সবুজ দৃশ্য অন্যদিকে বিস্তৃর্ণ ধানখেত – তার মাঝখান দিয়ে রাস্তা এসে থামল কেল্লার বাজারে। চারিদিকে শুধুই সবুজ। আমাদের মতো শহরবাসীর কাছে যেন এটা অসাধারণ প্রাপ্তি। এই অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতেই সকালের ব্রেকফাস্ট সারলাম। দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা রকমের জানা-অজানা পাখি। পিয়ালি পক্ষীপ্রেমিকদের খুব প্রিয় জায়গা। তারপর হেঁটে এগিয়ে চললাম অনেকদূর। চারিদিকে সবুজের হাতছানি, বৃষ্টিতে ভেজা গাছগুলির সবুজ রং যেন আরও গাঢ় হয়েছে। জলাশয়ে ভেসে আছে শাপলা ফুল। পিয়ালিতে শীতের সময়ে আসে নানা রকমের পরিয়ায়ী পাখির দল। এছাড়া শীতকালে শান্ত পিয়ালিতে করা যায় নৌকোভ্রমণও।
কেল্লা বাজার
উদাস প্রকৃতি
বিকেলে চললাম ব্রিজ পেরিয়ে গ্রামের বাজার দেখতে। পৌঁছালাম কেল্লা বাজারে। দেখি আম-কাঁঠালের পসরা নিয়ে বসেছেন গ্রামের মানুষ ও চাষিরা। পিয়ালি নদী থেকে সদ্য জেলেদের ধরা চিংড়ি ও পারশে মাছও আছে। বৃষ্টিভেজা বিকেলে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা চায়ের দোকানগুলিতে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামের মানুষ। মাটির ভাঁড়ে খাঁটি দুধের চায়ে চুমুক দিতে দিতে বিকেল গড়িয়ে গেল। দেখলাম নদীর পার জুড়ে জেলেদের নৌকোর প্রস্তুতি চলছিল। এঁরা সবাই কাকভোরে পাড়ি দেবেন মাছ ধরার জন্য। বর্ষায় নদী এখন জলে টইটম্বুর। নদীর পাড়ও হারিয়ে গেছে নদীর বুকে। বৃষ্টিতে নদীর যেন এক অন্য রূপ।
পিয়ালি দ্বীপের স্মৃতি
সবুজের সমারোহ
পিয়ালি দ্বীপের অবস্থান
পরের দিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম গ্রাম ও নদী ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। গ্রামের লোকেদের জীবনযাত্রা থেকে কতই আছে দেখার ও শেখার। সেই বৃষ্টিতে ভিজেই চলছে মাছ ধরা। আরও জোরে বৃষ্টি পড়া শুরু হল। বড়ো বড়ো ফোঁটাগুলি জলে পড়ে মিলিয়ে যাচ্ছিল। দূরে ভাসমান মাছধরার নৌকা, নদী অনেকটা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা। সঙ্গে রইল বৃষ্টির পিয়ালি। এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
নদী গিয়ে মিশেছে দিগন্তে
মৎস্যজীবী
মাতলা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
