বর্ষায় অপরূপ কার্শিয়াং

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত শহর

সাধারণ অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বর্ষাকাল পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার সঠিক সময় নয়। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। কার্শিয়াংয়ে বর্ষাকালে গিয়ে থাকলে পাহাড় ধরা দেবে অপরূপ হয়ে। বিশিষ্ট আলোকচিত্রী তন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের তোলা ছবিতে পাবেন তারই আমেজ৷ বর্ষায় তিনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন কার্শিয়াংয়ের মায়াবী কিছু দৃশ্য।

কার্শিয়াংয়ের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ফুটের সামান্য কম। দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে ৩৪ কিলোমিটার এবং দার্জিলিং থেকে ৩২ কিলোমিটার। সড়কপথ এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েজের মাধ্যমে এই দুটি শহরের সঙ্গে যুক্ত। সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর বাগডোগরা (৩৮ কিলোমিটার)। কাছের সবথেকে বড়ো ব্রডগেজ রেলস্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি৷ দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার। সহজেই দুই জায়গা থেকে সড়কপথে পৌঁছনো যায় কার্শিয়াং।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে কার্শিয়াংয়ের ইগল'স ক্রেগ ভিউপয়েন্ট থেকে চোখে পড়ে রাজকীয় হিমালয় পর্বত। কয়েশো কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত একের পর এক শৃঙ্গ। বেশিরভাগই অপরিচিত। বর্ষায় দেখা পাওয়ার সুযোগ কম৷ তবে ঠান্ডা কুয়াশা, নিচু মেঘ, নীল পাহাড় আর সবুজ গাছপালা এমন রূপকথার পরিবেশ তৈরি করে, যে মন ভরে যাবে।

বেসরকারি আবাসিক স্কুল, গির্জা এবং চা বাগানের জন্য কার্শিয়াং বিখ্যাত। সুভাষচন্দ্র বসু ও তাঁর পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এই শহর। গিদ্দারপাহাড় অঞ্চলে সুভাষের বড়ো দাদা শরৎচন্দ্র বসুর বাড়িতে রয়েছে দ্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস মিউজিয়াম এবং এনএসসি বোস ইনস্টিটিউট অফ এশিয়াটিক স্টাডিজ। রেল স্টেশনের কাছেই। এই বাড়িতে ১৯৩০-এর দশকের শেষে নেতাজিকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল ব্রিটিশ সরকার। নেতাজি এবং তাঁর স্ত্রী এমিলি শেঙ্কল পরস্পরকে যে সব চিঠি লিখেছিলেন, রাখা আছে মিউজিয়ামে। আর দেখতে পাবেন আজাদ হিন্দ ফৌজের বিরল কিছু ফটোগ্রাফ, স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মারক, নেতাজি তথা বসু পরিবারের নানা সামগ্রী।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে কার্শিয়াংয়ের ইগল'স ক্রেগ ভিউপয়েন্ট থেকে চোখে পড়ে রাজকীয় হিমালয় পর্বত। কয়েশো কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত একের পর এক শৃঙ্গ। বেশিরভাগই অপরিচিত। বর্ষায় দেখা পাওয়ার সুযোগ কম৷ তবে ঠান্ডা কুয়াশা, নিচু মেঘ, নীল পাহাড় আর সবুজ গাছপালা এমন রূপকথার পরিবেশ তৈরি করে, যে মন ভরে যাবে। বৃষ্টিপাতের সৌন্দর্যও উপভোগ করার মতো৷ যখন ঝলমলিয়ে রোদ উঁকি মারে, চারপাশের সবকিছু তাজা এবং প্রাণবন্ত দেখায়৷

ইচ্ছে হলে ক্যাসেলটন, মকাইবাড়ি, আমবুটিয়া, গুমটির মতো বিখ্যাত চা বাগানে যেতে পারেন। এগুলো পশ্চিমবঙ্গের চা পর্যটনের কয়েকটি প্রধান গন্তব্য। যেখানেই যান, ছাতা আর রেনকোট সঙ্গে রাখবেন। বৃষ্টির মধ্যেই বেরিয়ে পড়ুন৷ কার্শিয়াংয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব প্রপার্টি। এছাড়াও হাজার একটা হোটেল, হোমস্টে তো আছেই।

 

Developed by DXDasia