
চন্দননগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের যাত্রীরা এবার সহজেই কলকাতায় যাতায়াত করতে পারবেন
আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চন্দননগর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ওয়াটার বাসের যাত্রা শুরু হল।
করোনা মহামারি প্রতিরোধ করতে যে লকডাউন চলছিল সারা দেশে, ধাপে ধাপে তা শিথিল করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। বেশিরভাগ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। অর্থনীতিও আবার পুনর্জাগরণের পথে। কিন্তু রেল এবং মেট্রো পরিষেবা এখনও চালু হয়নি। ডিজেলের দাম অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বাস এবং রাস্তার অন্যান্য যানবাহনের চলাচল এখনও অনিয়মিত। নিত্যযাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। এই পরিস্থিতিতে পূর্বতন ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরের সঙ্গে অন্তর্দেশীয় জলযানের মাধ্যমে কলকাতাকে সংযুক্ত করার ভাবনাচিন্তা চলছিল।
চন্দননগর পুরসভার মাননীয় কমিশনার স্বপন কুণ্ডু সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখছেন
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদাই রাজ্যের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বাচ্ছন্দের জন্য সাহায্যের বন্দোবস্ত করে চলেছেন। পরিবহনের নিয়মিত পরিষেবা সুনিশ্চিত করাকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন সব সময়েই। তাঁর দূরদর্শিতা এবং সদিচ্ছায় অনুপ্রাণিত হয়ে চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং পর্যটন দপ্তরের মাননীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন উদ্যোগী হয়েছিলেন, যাতে তাঁর নির্বাচনকেন্দ্রের নিত্যযাত্রীরা পরিবহনের সমস্যায় না পড়েন এবং গণপরিবহনে যেন সরকারের সমস্ত নির্দেশিকা মানা হয়। তাঁর সক্রিয়তায় এবং রাজ্যের পরিবহন, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সহায়তায় ওয়াটার বাস পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘোষণা করা হয় যে ১ জুলাই ২০২০ তারিখে চন্দননগর থেকে এই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

আজ সকাল ৯টায় ওয়াটার বাসের যাত্রা মহাসমারোহে আরম্ভ হয়।
চন্দননগর থেকে মিলেনিয়াম পার্ক পর্যন্ত এটিই প্রথম দৈনিক জলযান পরিষেবা। রাজ্য পরিবহন দপ্তরের ঠিক করা পথে পরীক্ষামূলক যাত্রা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। চন্দননগর থেকে কলকাতায় আসতে সময় লাগছে দেড় ঘণ্টার মতো। এই পরিষেবার ফলে গোটা হুগলি জেলার মানুষই উপকৃত হবেন।
যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্টপেজ রাখা হবে ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর এবং/অথবা শেওড়াফুলিতে।

এখনকার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যেক সোম থেকে শুরু সকাল ৮টায় চন্দননগর থেকে ওয়াটার বাস যাত্রা শুরু করবে। কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কে পৌঁছবে সকাল ৯.৪৫ নাগাদ। বিকেল ৪টেয় আবার মিলেনিয়াম পার্ক থেকে ফিরবে সেই ওয়াটার বাস। বিকেল ৫.৪৫ নাগাদ চন্দনগরে গিয়ে পৌঁছবে।
চন্দননগর থেকে মিলেনিয়াম পার্ক অবধি মাথাপিছু একবারের ভাড়া ধার্য হয়েছে ৩২০ টাকা। শ্রীরামপুর, ব্যারাকপুর, শেওড়াফুলি থেকে মিলেনিয়াম পার্ক পর্যন্ত মাথাপিছু ২৫০ টাকা লাগবে। ফেরা সময়েও ভাড়ার মূল্য একই থাকবে। যেই সংস্থা এই জলযান চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে, তারা চায় ভবিষ্যতে চন্দননগর থেকে সাগরদ্বীপ বা সুন্দরবন পর্যন্ত পরিষেবা চালু করতে। তাতে উপকৃত হবেন হুগলি, বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদের অধিবাসীরাও।

দেশজুড়ে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে লকডাউনের পর ১ জুন থেকে হাওড়ার নৌকো পরিষেবা পুনরায় শুরু হয়েছে। রাস্তায় গণপরিবহণ এখনও পর্যাপ্ত নয়। কর্মস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। যানবাহন কম থাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চন্দননগর-কলকাতার এই ওয়াটার বাস পরিষেবা বহু যাত্রীরই সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর নির্ভরযোগ্য পরিবহন হয়ে উঠবে।
