সর্পগন্ধা চাষ করে সাফল্য — গাছের শিকড় পৌঁছে যাচ্ছে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড

জলপাইগুড়ির অনির্বাণ সেনগুপ্ত ২০০৫ থেকে এই কাজ শুরু করেছেন

উচ্চ রক্তচাপ থেকে প্রায় ৫৬ রকমের ওষুধ তৈরি হয় ভেষজ গাছ সর্পগন্ধা থেকে। দীর্ঘদিন ধরে সেই ভেষজ গাছের শিকড় জার্মানি, স্যুইজারল্যান্ডে পাঠিয়ে চলেছেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অনির্বাণ সেনগুপ্ত। 

সর্পগন্ধা চাষ করছেন কর্মীরা

২০০৫ সালের আগে অনির্বাণ মূলত ফুলের চর্চা নিয়েই মেতে ছিলেন। ২০০৫ সালে জলপাইগুড়ি এলাকাতেই কিনে ফেলেন তিন একর জমি৷ প্রথমে তাতে কদম, ঘোড়াডিম গাছ লাগিয়ে নার্সারির কাজ শুরু করেন। স্থির করেন সেখানে এভাবেই সামাজিক বনসৃজন চালিয়ে যাবেন। কিন্তু সেসব করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হল। এক বন্ধু তাঁকে পরামর্শ দিলেন ভেষজ ওষুধের চাষ করতে। সেই থেকে তাঁর যাত্রা শুরু। ভেষজ গাছ সর্পগন্ধার সন্ধান তিনি শিলিগুড়ির সুকনা জঙ্গল থেকে ডুয়ার্সে বনদপ্তরের নার্সারি, আলিপুরদুয়ার, রাজাভাতখাওয়া, লাটাগুড়ি সিলভিকালচার ডিভিশন সর্বত্র যাতায়াত শুরু করেন। সর্পগন্ধার চারা সংগ্রহ করে শুরু হয় চাষ। এখন সেই গাছেরই শিকড় তাঁর কাছ থেকে সংগ্রহ করছে জার্মানি, স্যুইজারল্যান্ডের হোমিও ওষুধপ্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো। 

অনির্বাণ সেনগুপ্ত জানান, প্রতি ৩৬ মাস সময় লাগে গাছগুলোর সঠিক বৃদ্ধি হতে। ৩৬ মাস পর গাছের শিকড় পরিষ্কার করে তা ছোটো ছোটো ট্রে-তে রাখা হয়। তারপর সেসব ট্রেগুলো তাপ দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর নামিয়ে নেওয়া হয়৷ এরপর প্যাকেজিং করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিদেশে। কোটি টাকার মতো এখন লেনদেন হয় এই কাজে। 

বহুমূল্য এই সর্পগন্ধার শিকড় পৌঁছে যাচ্ছে দেশ-বিদেশে

অনির্বাণ আরও জানান, এটি লুপ্তপ্রায় একটি গাছ। একটা সময় উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে এই ওষুধি গাছ প্রচুর পাওয়া যেত। পরে সময়ের নিয়মে জঙ্গল সাফাই হতে থাকায় হারিয়ে যেতে থাকে এই গাছ। সেই হারিয়ে যেতে থাকা গাছ যে এত মূল্যবান হতে পারে তার অন্তত জ্বলন্ত উদাহরণ মেলে ধরছেন তিনি। 

অনির্বাণ সেনগুপ্ত ২০০৫ সাল থেকে এই কাজ শুরু করেছেন

জলপাইগুড়ি লাগোয়া গ্রামের কিছু মানুষও অনির্বাণবাবুর জমিতে এই গাছের চাষ এবং প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন। ফলে কিছু কর্মসংস্থানও হচ্ছে। বিদেশে তাঁকে একশো থেকে দেড়শো কেজি পাঠাতে হয় এই গাছের শিকড়। তবে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে একটা সর্পগন্ধার চারা সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে। বাইক নিয়ে সকালে জলপাইগুড়ি থেকে বেরিয়েছেন। বিকালে জলপাইগুড়ি ফিরে এসেছেন। একটা চারা সংগ্রহের জন্য তাঁকে হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে নানাদিক। অথচ একসময় জঙ্গলের মধ্যে থাকা এই গাছের ওষধি গুণের কথাই অনেকে জানতেন না। ফলে আর দশটি জঙ্গলের গাছের সঙ্গে এই গাছকেও নির্বিচারে ধ্বংস করেছে মানুষ। আবার বিদেশীরাও অনেকে উত্তরবঙ্গে বেড়াতে এসে এই গাছের চারা চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে একসময়। কিন্তু তারপরও লুপ্তপ্রায় সর্পগন্ধার চাষ বৃদ্ধিতে আমরা সেভাবে নজর দিতে পারিনি৷ সেদিক থেকে জলপাইগুড়ির অনির্বাণ সেনগুপ্ত একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন। তাঁকে স্যালুট জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।                  

প্রায় কোটি টাকার মতো লেনদেন হয় এই কাজে

ছবিঃ প্রতিবেদক 

Developed by DXDasia