
পুষ্টিকর খাবার হিসাবে চাহিদা বাড়ছে মাশরুমের
“আমরা চাষ করি আনন্দে”
বাংলার অর্থনৈতিক ভিত্তি হল কৃষি। বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি-এর বেশিরভাগ অংশই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। গ্রামের মানুষদের অর্ধেকেরও বেশি আজকের দিনেও চাষবাস করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামের পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে কৃষিকাজে দক্ষ। বাংলার উর্বর জমিতে ফলে বিভিন্ন ফসল- ধান, পাট, বিভিন্ন সবজি, ফল ইত্যাদি। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, সব জেলাতেই ফলে এক বা একাধিক ফসল। এদের মধ্যে কিছু কিছু ফসল পরিচিত, আবার কিছু কিছু ফসল অতটা পরিচিত না হলেও খুলে দেয় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। এগুলি চাষ করা কৃষিজীবীদের পক্ষে অত্যন্ত লাভজনক। বাজারে এই ধরনের কৃষিজাত পণ্যের চাহিদাও থাকে অনেক। এমনই এক ধরনের ফসল হল মাশরুম (Mushroom)। এই কারণে বাংলাতে মাশরুম চাষ ক্রমেই বাড়ছে।

মাশরুম হল একধরনের ছত্রাক। এরা বিষাক্ত ও বিষহীন, দুই ধরনের হয়ে থাকে। বিষহীন মাশরুম গুলির মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি পুষ্টিকর, খাদ্যগুণে ভরপুর। আমাদের রাজ্যে প্রধানত তিন রকমের খাদ্যজাত মাশরুমের চাষ করা হয়- সাদা বটন মাশরুম, ঝিনুক মাশরুম, স্ট্র মাশরুম। এই মাশরুমগুলি সারা বছর ধরে চাষ করা যায়। মাশরুমের পুষ্টিগুণ অনেক। খাদ্যজাত মাশরুমগুলিতে আছে অনেকরকমের খনিজ উপাদান, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ১৮ রকমের অ্যামাইনো অ্যাসিড। তাই একে ‘গরিবের মাংস’ ও বলা হয়। এগুলি সহজপাচ্য। ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হার্টের অসুখের উত্তম পথ্য হল মাশরুম। মাশরুম চাষ করাও অপেক্ষাকৃত সহজ এবং এই চাষ পরিবেশবান্ধব। মাশরুম চাষের ফলে পর্যায়ক্রমে জৈবসার উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪২০ মিলিয়ন টন কৃষিজ বর্জ্য থেকে প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন মাশরুম চাষ করা যায়। মাশরুম চাষ করতে কোনও জমিও লাগে না। ঘরের কোনও অব্যবহৃত জায়গায় শেড বানিয়েও এই চাষ করা যায়।


মাশরুম হল একধরনের ছত্রাক। এরা বিষাক্ত ও বিষহীন, দুই ধরনের হয়ে থাকে। বিষহীন মাশরুম গুলির মধ্যে বেশ কিছু প্রজাতি পুষ্টিকর, খাদ্যগুণে ভরপুর। আমাদের রাজ্যে প্রধানত তিন রকমের খাদ্যজাত মাশরুমের চাষ করা হয়- সাদা বটন মাশরুম, ঝিনুক মাশরুম, স্ট্র মাশরুম। এই মাশরুমগুলি সারা বছর ধরে চাষ করা যায়। মাশরুমের পুষ্টিগুণ অনেক। খাদ্যজাত মাশরুমগুলিতে আছে অনেকরকমের খনিজ উপাদান, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ১৮ রকমের অ্যামাইনো অ্যাসিড। তাই একে ‘গরিবের মাংস’ ও বলা হয়। এগুলি সহজপাচ্য। ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হার্টের অসুখের উত্তম পথ্য হল মাশরুম। মাশরুম চাষ করাও অপেক্ষাকৃত সহজ এবং এই চাষ পরিবেশবান্ধব। মাশরুম চাষের ফলে পর্যায়ক্রমে জৈবসার উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে।
এইসব কারণে বাংলার গ্রামের মহিলারা ও গৃহবধূরা বেশি করে ঝুঁকছেন মাশরুম চাষের দিকে। মাশরুম চাষ তাঁদের সামনে খুলে দিচ্ছে স্বনির্ভরতার নতুন দিগন্ত। রাজ্য সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁদের নিয়মিত সহায়তা করা হয়। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে চলে ব্যাপক হারে মাশরুম চাষ। কারণ এখানকার আবহাওয়া মাশরুম চাষের উপযোগী। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে সারা বছর ধরে চলে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ। হাতেকলমে মাশরুম চাষের পদ্ধতি শেখানো হয়। শেখানো হয় মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্য তৈরি করা, যেমন- আচার, পাঁপড় ইত্যাদি। সেগুলি বাজারে বিক্রি করা হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় চালু হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হল মাশরুম চাষ ও উৎপাদন সংক্রান্ত প্রকল্প। এই প্রকল্পে চাষিদের বীজ দেওয়া থেকে শুরু করে, সার বানানো ও আনুষাঙ্গিক ক্ষেত্রে সহায়তা করা, চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া, মাশরুম চাষের উপযোগিতা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করা, সবই করা হয়। সম্প্রতি মালদাতেও মাশরুম চাষের প্রসার বাড়ানোর জন্য উচ্চস্তরের বৈঠক সংগঠিত হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মাশরুম চাষ করে নিয়মিত উপার্জন করেন বন্ধ হয়ে যাওয়া চা-বাগানের শ্রমিকরা। পূর্ব মেদিনীপুরেও, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাশরুম চাষ করে মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা রোজগার করছেন গৃহবধূরা।


গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারের বনদপ্তর থেকে মাশরুম চাষ ও বিক্রয়ের উপর একটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছিল পুরুলিয়ার অযোধ্যা রেঞ্জে। প্রোগ্রামটি ছিল লাইভলিহুড অ্যাক্টিভিটিস কমপোনেন্ট অফ জিআইএম স্কিমের (Livelihood Activities Component of GIM Scheme) অন্তর্গত। ৬ টি জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৬০ জন মহিলা এই ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই ওয়ার্কশপে সহায়তা করেছিল দুর্গাপুরের মাশরুম স্পন ল্যাবোরোটারি রাইজিং ফাঙ্গি। অংশগ্রহণকারীদের অয়েস্টার মাশরুমের কিট প্রদান করা হয়। প্রতিটি কিট থেকে ১ কেজির মতো মাশরুম উৎপাদন করা যায়। নিজেদের বাড়িতেই একজন ৫০ থেকে ৭৫ টি ব্যাগ থেকে মাশরুম উৎপন্ন করতে পারেন। সেগুলি বাজারে এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে বিক্রি করতে পারেন। এভাবে একজন মাশরুম চাষি মাসে প্রায় ৭৫০০ টাকা রোজগার করতে পারেন।

এভাবেই মাশরুম চাষের মাধ্যমে গ্রামের মহিলারা এবং গৃহবধূরা নিয়মিত উপার্জন করার মাধ্যমে পাচ্ছেন স্বনির্ভরতার স্বাদ। আর তাঁদের হাত ধরে বাংলার কৃষি-মানচিত্রে দ্রুত গতিতে জায়গা করে নিচ্ছে পুষ্টিকর মাশরুম।