
এরাজ্যে তিনি রবার চাষ জনপ্রিয় করেন
কেউ বলেন জঙ্গল-বাড়ি। বাড়ি তো নয়, যেন সবুজের সমারোহ। ছোটো ছোটো টবের মধ্যে নানারকম গাছের মেলা। দারুচিনি, এলাচ থেকে শুরু করে গোলমরিচ, হলুদ, আদা, তেজপাতা। আবার আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আঙুর, আপেল, তেঁতুল। ওষধি গাছের মধ্যে পিপল, সর্পগন্ধা, থানকুনি। এসবের বাইরে আবার কফি গাছও রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন রকম সবজিও। সবমিলিয়ে পঁচিশ রকমের গাছ টবের মধ্যে রেখে নিজের বাড়িতে অন্যরকম চাষবাসের কাজে নেমেছেন বিজ্ঞানী ডঃ প্রণব কুমার সাহা।
আঙুর গাছ
ডুয়ার্সের মালবাজার দক্ষিন কলোনিতে বাড়ি এই বিজ্ঞানীর। কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই অন্যরকম কাজ করে চলেছেন। তাঁর কথায়, আজকাল চাষবাসের জমি কমে আসছে। তাই নিজের বাড়ির জমি বা ছাদে অল্প জমি ব্যবহার করে টবের মধ্যে জৈব পদ্ধতিতে বিভিন্ন রকম চাষবাস হতে পারে। শুধু নিজে নয়, অন্য কৃষকদেরও এই কাজে উৎসাহিত করেন। শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি, ফাঁসিদেওয়ায় বেশ কিছু কৃষককে তিনি কয়েক বছর আগে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন।
ছোটো ছোটো টবের মধ্যে নানারকম গাছের মেলা
৬৫ বছর বয়স্ক প্রণববাবু রাজ্য সরকারের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উদ্ভিদবিদ হিসাবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরাজ্যে রবার চাষকে জনপ্রিয় করতে তিনিই পথিকৃৎ হিসাবে কাজ করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মেঘালয়ের দরংগিরিতে রবার চাষের এক প্রশিক্ষণে যোগ দেন। সেসময় তিনি ৫০০ রবার গাছের চারা নিয়ে আসেন। সেগুলি দিয়ে পাহাড়ের গৈরিবাসে প্রথম রবার চাষ শুরু হয়। এখন গৈরিবাসে ২০০ একর জমিতে রবার চাষ হয়। আর তা থেকে সরকারের রাজস্বও আসছে। গৈরিবাসে স্টেরয়েড তৈরির জন্য ডায়াসকোরিয়া চাষের প্রথম উদ্যোগও কার্যত তিনি গ্রহণ করেন। মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু দিন আগে এই স্বল্প জমিতে চাষবাস নিয়ে আলোচনা সভা হলে সেখানেও তিনি বক্তব্য রাখেন।
বাড়ি তো নয়, যেন সবুজের সমারোহ
প্রণববাবু তাঁর বাড়ির ১২০০ বর্গ ফুটের ছাদ, বারান্দা, ব্যালকনি-সহ অন্যত্র ১৯০টি টবে সব চাষবাস করছেন। তাঁর কথায়, নিজের বাড়ির ছাদ ইত্যাদিতে চাষবাসের মাধ্যমে অনেকে স্বনির্ভর হতে পারেন।
বাজার থেকে আদা, কাঁচা লঙ্কা, হলুদ-সহ অন্য সব্জি কখনও কিনে খান না প্রণববাবু। এমনকি বাইরে থেকে কফিও তিনি কিনে খান না। তাঁর টবেই রয়েছে অনেক কফি গাছ। বাড়ির বারান্দায় টবের মধ্যে এই সময় অনেক আঙুর গাছও শোভা পাচ্ছে। তাতে আঙুরও ধরেছে অনেক। প্রণববাবু বলেন, “গাছের সঙ্গে আমি কথা বলি। গাছ আমার প্রাণ। গাছেরা আমায় উজ্জীবিত করে।”
ছবি – প্রতিবেদক

