
জয়েশ্বর সরকারের বাড়িতেই কারখানা হওয়াতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে
শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি থানার অধিকারী বারাসতভিটা গ্রামের জয়েশ্বর সরকার এখন মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতার কাজ করে এলাকায় বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন। একসময় তার মাশরুম বীজ উৎপাদনের বিশেষ দক্ষতা দেখে নেপাল সরকার তাকে নেপালে নিয়ে গিয়ে মাশরুমের কাজে লাগিয়েছিল। পরবর্তীতে এ রাজ্যের কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা পাওয়ার পর এখন খড়িবাড়ির গ্রামে মাশরুমের চাষ করে সেসব নেপাল এবং ত্রিপুরাতেও সরবরাহ করছেন জয়েশ্বর।


৪৫ বছর বয়সী জয়েশ্বর সরকারের এক ছেলে, এক মেয়ে। মাধ্যমিক পাস করেছেন তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি শিলিগুড়ি বিধান মার্কেটের কাছে ফ্রিজ মেরামতের কাজ করতেন। কিন্তু সেখানে ছিল বেতন কম। বছরে সবসময় কাজও হত না। ফলে অনেক সময় বসে বসেই চলে যেত। রোজগার পাতি তেমন না হওয়ায় পরিবারের সমস্যা হত। তাই একদিন মাশরুম বীজ কীভাবে উৎপাদন করতে হয় তার প্রশিক্ষণ নিতে চলে আসেন কলকাতায়। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রশিক্ষণ হয়। এরপর ধীরে ধীরে মাশরুম বীজ উৎপাদনে তার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। একটা সময় নেপাল সরকার বিষয়টি জানতে পেরে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে মাশরুম উৎপাদনের কাজে লাগানো হয়। নেপালে অনেকেই এর থেকে আর্থিক স্বনির্ভর হয়ে উঠছিল। কিন্তু এ রাজ্যের কৃষি দফতরের আধিকারিকরা বিষয়টি জানতে পেরে ভাবতে থাকেন, আমাদের রাজ্যের বাসিন্দা হয়েও জয়েশ্বরের দক্ষতা নেপাল কেন কাজে লাগাবে? শিলিগুড়িতে কৃষি দপ্তরের অফিসাররা তখন জয়েশ্বরকে মেশিন কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ঋণের ব্যবস্থা করে যন্ত্রপাতি ছাড়াও তার বাড়িতে ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাও হয়। এখন খড়িবাড়ির গ্রামে জয়েশ্বরকে মাশরুম চাষে সহযোগিতার জন্য আরও অনেকে এগিয়ে আসছে। তাঁর হাতে তৈরি মাশরুম বীজ নেপাল, ত্রিপুরা এবং অন্য রাজ্যেও যাচ্ছে। বিভিন্ন রকমের মাশরুম তিনি তৈরি করছেন। যেমন মিল্কি মাশরুম, বটম মাশরুম, ওয়েস্টার মাশরুম, পোয়াল ছাতা মাশরুম। তাঁর বাড়িতে কারখানা হওয়াতে কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। নেপালে প্রচুর মাশরুম তিনি সরবরাহ করছেন। সপ্তাহে কুড়ি থেকে ২৫ কার্টুন মাশরুম তাঁর কারখানায় তৈরি হয়। এক কার্টুন ১০ প্যাকেট করে থাকে। ফি প্যাকেটের দাম ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। জয়েশ্বর বলেন, এই মাশরুম বীজ উৎপাদন বা চাষ করে অনেকে স্বনির্ভর হতে পারে। তাঁকে রাজ্যের কৃষি দপ্তর সহযোগিতা করায় তিনি নতুন উদ্যম পেয়েছেন।

