সত্যজিৎ রায়, মুজিবুর রহমান, অবনীন্দ্রনাথ : বইমেলার নয়টি গেটে নয় রকমের সাজ

সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে মোট নয়টি গেট

"তিন নম্বর গেট দিয়ে ঢুকেই বাঁদিকে দাঁড়িয়ে আছি", ধরুন ঠিক এরকমই একটা নির্দেশ পেয়ে আপনি করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ডের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছেন বইমেলার মাঠের দিকে। একটার পর একটা গেট পার করে হয়তো গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন দিব্যি। প্রতিটা গেটেই পুলিশের ভিড়। "নো মাস্ক নো এন্ট্রি" নিয়মের কড়াকড়ি।

এসবেরই মধ্যেই জমে উঠেছে বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। বয়স গড়িয়ে আজ সে ৪৫ বছরের প্রৌঢ়। বইমেলা নিয়ে বাঙালির আবেগের শেষ নেই। বছরের এই কটাদিন যেন নতুন বইয়ের গন্ধে ম-ম করে সেন্ট্রাল পার্কের মেলা প্রাঙ্গণ। বইমেলা মানে, ছোটো বড়ো সব প্রকাশনীর মুখ দেখাদেখি। বইমেলা মানে লিটিল ম্যাগাজিন। বইমেলা দেশ বিদেশের মিলনক্ষেত্র। বইমেলা মানে আরও কতো কিছু।

শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় বই "কারাগারের রোজনামচা" এর আঙ্গিকে করা হয়েছে এই গেট। শতবর্ষে মুজিবুরকে স্মরণ করছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২২।

আর এই সবকিছুর দিক চিনিয়ে দিচ্ছে যারা, তাদের কথা ভুলে গেলে মোটেই চলবে না! কিন্তু তারা কারা? তার হল বইমেলার (Book Fair) গেট। মেলায় প্রবেশ এবং বাহিরের জন্য মোট নয়টি গেট রয়েছে সেন্ট্রাল পার্কের মেলা প্রাঙ্গণে। এই গেটগুলো দিয়েই অনবরত যাতায়াত করছে বইপ্রেমী মানুষেরা। কিন্তু যারা দুহাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আহবান করছে সকলকে তাদের দিকে ভালো করে নজর করছে কজন, এ প্রশ্ন থেকেই যায়! কজন জানেন এবছরের বইমেলার কোন গেট কোন আদলে সেজে উঠেছে?

বেশ, তবে জেনে নেওয়া যাক এবছরের বইমেলার কোন গেটে কোন থিম।

বইমেলার ১ নম্বর গেট

ময়ূখ ভবন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই গেটটি দিয়েই বইমেলার শুরু। এই গেটটির নাম হয়েছে, "সম্প্রীতি তোরণ"। বইমেলা যে বিশ্ব সাহিত্যের এক মিলনমেলা সেকথাই যেন স্মরণ করিয়ে দেয় মেলার প্রথম গেটটি। উল্লেখ্য, এই গেটে ঢোকার মুখেই রয়েছে বইমেলা থেকে ফিরতি রুটের বাসের হদিশও।

বইমেলার ১ নম্বর গেট

বইমেলার ২ নম্বর গেট

এই গেটের নাম দেওয়া হয়েছে "আলোক তোরণ"। মিলন মেলায় সাহিত্যের আলোকেই যেন সেলিব্রেট করা হচ্ছে।  বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (Sekhe Mujibur Rahman) বিখ্যাত বই, "আমার দেখা নয়া চীন" কে শ্রদ্ধা জানিয়েই সাজানো হয়েছে এই গেটটি।

বইমেলার ২ নম্বর গেট

বইমেলার ৩ নম্বর গেট

এই গেটটি মূলত এবছরের কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে। এছাড়াও এই গেটের বাইরে রয়েছে কিছু বাণিজ্যিক সংস্থার নামও।

বইমেলার ৩ নম্বর গেট

বইমেলার ৪ নম্বর গেট

এই গেটটি করা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের অপর এই সাহিত্য কর্মকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। গেটের বাইরের সাজে রয়েছে তাঁর লেখা "অসমাপ্ত আত্মজীবনী"।

বইমেলার ৪ নম্বর গেট

বইমেলার ৫ নম্বর গেট

এবছরের বইমেলার থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ (Bangladesh)। বইমেলার পরতে পরতে রয়েছে সেই ছোঁয়া। পাঁচ নম্বর গেটটি যেন সেইবকথাই আবারও মনে করিয়ে দেয় আমাদের। শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় বই "কারাগারের রোজনামচা" এর আঙ্গিকে করা হয়েছে এই গেট। শতবর্ষে মুজিবুরকে স্মরণ করছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২২।

বইমেলার ৫ নম্বর গেট

বইমেলার ৬ নম্বর গেট

বইমেলার সবথেকে বড়ো গেট হল এই ৬ নম্বর গেট।  এককথায় একেই মধ্যমণি বলা চলে। এটিই বিশ্ব বাংলার গেট। তিন জন কৃতি বাঙালির ছবি রয়েছে এই গেটের ওপরে। তাঁরা হলে, ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং সত্যজিৎ রায়।

বইমেলার ৬ নম্বর গেট

বইমেলার ৭ নম্বর গেট

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং ঐ বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম ছিল বহুবিধ ঘটনা, বিরূপ পরিস্থিতি, অসম আর্থিক বণ্টন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বঞ্চনাসহ গুরুতর বিষয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাবনতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

বইমেলার এবছরের সাত নম্বর গেটটি করা হয়েছে সেই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রিবিউট জানিয়েই। এই যুদ্ধে বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষ এর মিলিত প্রয়াসকে স্মরণ করেই দুই দেশের পতাকার রঙে সেজেছে গেটটি।

বইমেলার ৭ নম্বর গেট

বইমেলার ৮ নম্বর গেট

ভারতবর্ষের আধুনিক চিত্রশিল্পের জনক বলা হয় তাকে। শিশু সাহিত্যেও যার তুলনা পাওয়া যায় না। লেখালিখি এবং আঁকাআঁকি দুই ক্ষেত্রেই বাংলাকে ভরপুর সম্মান দিয়েছেন যেই বাঙালি তাঁকে স্মরণ করেই বইমেলার ৮ নম্বর গেটটি। তিনি স্বয়ং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Abanindranath Tagore)। গেটের উপরেই রয়েছে তাঁর ছবি। আর ছবির নিচে রয়েছে "শকুন্তলা", "বুড়ো আংলা", "নালক", "ক্ষীরের পুতুল", "রাজকাহিনী" এর মতো বিখ্যাত বইগুলির প্রচ্ছদ। এছাড়াও গেটের দুই পাশে রয়েছে তাঁর আঁকা বিভিন্ন সময়ের অনেকগুলি ছবিও।

বইমেলার ৮ নম্বর গেট

বইমেলার ৯ নম্বর গেট

একেবারে শেষ গেট। করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই গেটটি বাংলা সাহিত্য কিংবা চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়কে স্মরণ করছে।

গেটের সাজে শুরুতেই রয়েছে, বিখ্যাত "সন্দেশ" পত্রিকার ছয়টি সংখ্যা। আর গেটের দুইদিকে রয়েছে "এক ডজন গল্প", "সোনার কেল্লা", "গুপী গাইন বাঘা বাইন", "বাদশাহী আংটি",  "টিনটোরেটোর যীশু", "কৈলাসে কেলেঙ্কারি", "রয়েল বেঙ্গল রহস্য", "আরো বারো", "ফটিক চাঁদ", "স্বয়ং প্রফেসর শঙ্কু", "জয় বাবা ফেলুনাথ" ইত্যাদির মতো বিখ্যাত সব গল্পের বইয়ের প্রচ্ছদ। আর বোধ হয় আলাদা করে বলে দিতে হয় না তিনি কে! তিনি বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray)।

বইমেলার ৯ নম্বর গেট 

Developed by DXDasia