এবছর বইমেলায় পালিত হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর
সেকালের বঙ্গভঙ্গ নয়, একালের সৌহার্দ্যকেই সেলিব্রেট করছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। করোনার ধাক্কা সামলে অবশেষে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ৪৫তম কলকাতা বইমেলা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যৌথভাবে ৪৫তম কলকাতা বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বইমেলার এ বছরের ফোকাল থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ। এই নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য থিম কান্ট্রি হল বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, এবছর পালিত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্দেশ্যে।
কোভিড বিধি মেনেই চলছে সমগ্র মেলার আয়োজন। ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত, করুণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্ক মেলা প্রাঙ্গনে চলবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে থিম কান্ট্রি বাংলাদেশের লোগো উন্মোচন হয়েছে। এই লোগোটির শিল্পরূপ দিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী মাসুম রহমান।

সমগ্র স্টলের বাইরের দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের সাহিত্যের ছোঁয়া। রয়েছে বাংলা ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসের কথাও। একঝলকে যেন বাংলাদেশের সাহিত্য জগতকে স্মরণ করে নেওয়া হয়েছে দেওয়ালে দেওয়ালে।

কলকাতা বই মেলার পরতে-পরতে এবার বাংলাদেশের চিহ্ন। বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন এবার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এবার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষণকে থিম করে। শুধু তাই নয়, মেলার প্রধান তিনটি গেট তৈরি করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর রচিত তিনটি বইয়ের থিম নিয়ে। এবছরে মেলায় রয়েছে বাংলাদেশের ‘জ্ঞানকোষ’, ‘আগামী’ সহ মোট ৪২ জন প্রকাশন সংস্থা। সবমিলিয়ে মোট ৮৫টি স্টল থাকছে বাংলাদেশের। এছাড়াও ৩ এবং ৪ মার্চ কলকাতা বইমেলায় উদযাপিত হবে বাংলাদেশ দিবস।

এবছরের বাংলাদেশ স্টলের সাজও হয়েছে অভিনব। রঙের বাহারে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবয়ব। স্টলের বাইরে এক্কেবারে ওপরে রয়েছে শেখ মুজিবরের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য। এছারাও সমগ্র স্টলের বাইরের দেওয়াল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের সাহিত্যের ছোঁয়া। রয়েছে বাংলা ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসের কথাও। একঝলকে যেন বাংলাদেশের সাহিত্য জগতকে স্মরণ করে নেওয়া হয়েছে দেওয়ালে দেওয়ালে।

এক বছরের বিরতির পর ২০২২ এর কলকাতা বইমেলা নিয়ে যে নিঃসন্দেহেই পাঠকদের বাড়তি উৎসাহ থাকবে, সেকথা আলাদা করে বলে দিতে হয় না। এবছর অভিনব ভাবনায় নিজস্ব ওয়েব সাইটে বই মেলা সম্প্রচার করা হবে সরাসরি। যাতে বাড়িতে বসেই মেলা দেখতে পারেন যে কেউ। অনলাইন থেকে অফলাইন সবেতেই এবার একটাই আকর্ষণ তা হল কাঁটাতার ছাপিয়ে মিলনের গল্প। লর্ড কার্জনের বাংলা ভাগ যে বাঙালির মননে আর অভ্যেসে কোনোওদিনই ভাগ বসাতে পারেনি সেকথাও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় এবছরের কলকাতা বইমেলার প্রাঙ্গণ।
ছবি – সুমন সাধু