হিমালয়ের কোলে রূপকথার গ্রাম ঝান্ডি

প্রকৃতি এবং অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসলে অবশ্যই ঘুরে আসুন

সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ যাঁরা দেখছেন, ঝান্ডির নাম শুনলে তাঁদের মনে পড়তে পারে ‘শুন্ডি’ এবং ‘হুন্ডি’-র কথা। তবে সেগুলো কাল্পনিক জায়গা। উত্তরবঙ্গে হিমালয়ের কোলে বাস্তবেই ঝান্ডি নামের গ্রাম রয়েছে। চারদিকে শাল, পাইনের ঘন অরণ্য। তার মধ্যে হিমালয়ের বিরল গাছপালা-জীবজন্তু। দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান। মনোরম আবহাওয়া আর ছবি তোলার মতো সুন্দর পরিবেশ। গ্রামটি যেন রূপকথার জগৎ থেকে নেমে এসেছে। পর্যটকদের কাছে এখনও খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। প্রকৃতি এবং অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসলে অবশ্যই ঘুরে আসুন।  

কালিম্পং জেলার গোরুবাথান ব্লকে ছোট্ট গ্রাম ঝান্ডি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬২০৫ ফুট উঁচুতে। জায়গাটা ডুয়ার্স অঞ্চলে। লাভা মোটামুটি ৯ কিলোমিটার দূরে। সময়-সুযোগ মতো পশ্চিম ডুয়ার্সের ক্রান্তীয় অরণ্যে ঘুরে আসতে পারেন। যেমন গোরুমারা (দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার), চাপরামারি (দূরত্ব প্রায় ৪৩ কিলোমিটার) এবং আরও কিছু ডেস্টিনেশন।

ঝান্ডির নিস্তব্ধ পরিবেশ ‘বার্ড ওয়াক’-এর জন্য আদর্শ। সেটাই প্রধান আকর্ষণ। গোরুবাথানে গিয়ে ঝান্ডি ইকো হাটে দেখতে পারেন নানা ধরনের প্রাণী-উদ্ভিদ। শুনতে পাবেন উচ্চিংড়ে আর ঝিঁঝি পোকার ডাক। এক অন্য জগতে পৌঁছে যাবেন। চোখে পড়বে বিচিত্র রকমের পাখি – রুফুয়স নেকড হর্নবিল, চেস্টনাট বেলিড রক থ্রাশ, প্যারটবিল, পাহাড়ি ময়না, বড়ো বসন্তবৌরি। পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ এই জায়গা।

জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে সাব-হিমালয়ান বিভিন্ন প্রজাতি খুঁজে বের করা বেশ মজার। বিশেষ করে যাঁরা প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য। পাহাড় চড়ার কয়েকটি পথ রয়েছে। সিনচুলা কিংবা রোভার্স পয়েন্টেও ভোরবেলা চলে যেতে পারেন এইভাবে। দেখতে পাবেন, তুষারশুভ্র পর্বতশৃঙ্গের পেছন থেকে বেরিয়ে আসছে উদিত সূর্যের সোনালি আলো। নেওড়া উপত্যকা অরণ্যের মাঝখানের রয়েছে সামাবেওং জৈব চা বাগান। স্বাদ এবং গন্ধের জন্য দেশ-বিদেশে এখানকার চা বিখ্যাত। চাষ হয় বায়োডায়নামিক পদ্ধতিতে। কোলাখামের ছাঙ্গে জলপ্রপাতে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন। মুগ্ধ করবে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ জল। 

ভিড় থেকে দূরে খানিকটা প্রশান্তি চাইলে লাভার বৌদ্ধ মঠে চলে যান। ভ্রমণার্থীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। গোরুবাথান অঞ্চলে ফাফরখেতি নামে ছবির মতো সুন্দর গ্রাম রয়েছে। ঘন জঙ্গলে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে চেল নদী। পিকনিক করতে যেতে পারেন। আধ্যাত্মিকতা চর্চারও উপযুক্ত।

কলকাতা থেকে ঝান্ডির দূরত্ব প্রায় ৭৫৫ কিলোমিটার। রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে ঝান্ডি ইকো হাটে। উন্নত পরিষেবা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য – দুটোই পাবেন। ঘুরতে যেতে পারেন বছরের যে কোনো সময়ে। তবে পর্যটকরা বেশি পছন্দ করেন বর্ষাকাল।

যদি কালিম্পংয়ে থাকতে চান, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব হিলটপ ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন হিলটপ ট্যুরিস্ট লজ)-এ কয়েকদিন ছুটি কাটান স্বাচ্ছন্দ্যে। ঝান্ডি থেকে দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটারের মতো।  

কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কী কী দেখবেন, বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
 

Developed by DXDasia