কালিম্পং – মেঘের কোলে অর্কিডে মোড়া শহর

প্রকৃতি এবং ঐতিহ্যের সমারোহে কালিম্পং

মেঘের কোলে ছবির মতো সুন্দর শহর কালিম্পং। মনোরম জলবায়ু, বৌদ্ধ মঠের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি, ওক গাছের বন, নানারকম অর্কিডের সমাহার – বিভিন্ন কারণে জায়গাটা পর্যটকদের খুব প্রিয়। কয়েকদিন এখানে কাটালেই মনের সব গ্লানি, অবসন্নতা, ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সমৃদ্ধ দেশজ সংস্কৃতি – সব কিছুর সমন্বয় ঘটেছে এই শহরে।

অপরূপ প্রকৃতি 

মর্গ্যান হাউজ 

সুউচ্চ হিমালয় 

উত্তরবঙ্গের এই শহর তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত। দু’দিকে রয়েছে ডেলো আর দুরপিনদারা পাহাড়। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৪১২৫ ফুট উচ্চতার এই শহরের মাধ্যমে এক সময়ে ভারত-তিব্বত বাণিজ্য চলত। ‘কালিম্পং’ নামটির উৎস কী, তা নিয়ে রয়েছে অনেক মত। তিব্বতি ভাষার দু’টি শব্দ ‘কালোন’ (রাজার মন্ত্রী) এবং ‘পং’ (বেড়া/সভা) থেকে এই নাম এসেছে বলে অনেকে মনে করেন। যার অর্থ ‘রাজমন্ত্রীদের সভা’। কেউ বলেন, লেপচা ভাষায় ‘কালিম্পং’-এর অর্থ ‘যে শৈলশিরায় আমরা খেলা করি’। এখানে এককালে স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলোর অনুষ্ঠান হত। আরেকটি মত অনুযায়ী, ‘কালিম্পং’ নামটির উৎস ‘কালেনপাং’, লেপচা ভাষায় যার অর্থ ‘সমাবেশের জন্য ছোটো পাহাড়’। নাম নিয়ে আরও কয়েকটি মত প্রচলিত আছে।

থারপা চোলিং মঠ

কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার

হিল টপ ট্যুরিজম প্রপার্টি

কালিম্পংয়ের উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে ডেলো পাহাড়। পাহাড়ের ওপর নির্মিত হয়েছে মনোরম এক পার্ক, তার রঙিন ফুলের সমাহার মুগ্ধ করার মতো। পিকনিক স্পট হিসেবেও পার্কটি জনপ্রিয়। কালিম্পং শহরের সর্বোচ্চ স্থান ডেলো। এখান থেকে রেলি উপত্যকা, তিস্তা নদী এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দৃশ্যমান হয়। দেখা যায় আশেপাশের গ্রামগুলি। আর সুউচ্চ কাঞ্চনজঙ্ঘা তো আছেই। 

কালিম্পংয়ের অবস্থান 

কালিম্পংয়ে দর্শনীয় স্থান অনেক। শহরের কাছেই অবস্থান করছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত গৌরীপুর হাউজ। কালিম্পংয়ের আরেক দ্রষ্টব্য লেপচা মিউজিয়াম। লেপচা সংস্কৃতির এমন পীঠস্থান ভারত তো বটেই, গোটা এশিয়াতেই বিরল। এই শহরে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মঠ আছে। প্রকৃতির কোলে থারপা চোলিং মঠে ঘুরে আসতে পারেন। রয়েছে প্রাচীন ভুটানি থোংসা গুম্ফা। বিখ্যাত মর্গ্যান সাহেবের বাংলোয় যেতে ভুলবেন না। ক্যাকটাসের মনোমুগ্ধকর সংগ্রহ যদি দেখতে চান, তাহলে ঘুরে আসুন পাইন ভিউ নার্সারিতে। এছাড়া কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার, ডক্টর গ্রাহাম’স হোম, মঙ্গলধাম, ম্যাকফারলেন চার্চ, হনুমান পার্ক, দুর্গামন্দির, কালীমাতা মন্দির প্রভৃতি জায়গাও দেখার মতো। দারুণ সুন্দর সব পণ্য কেনার জন্য চলে যান তিস্তা বাজার। কিউরিও শপগুলি থেকে সংগ্রহ করতে পারেন নানা অ্যান্টিক সামগ্রী।

হিল টপ ট্যুরিজম প্রপার্টির একটি অংশ 

রেলি নদী 

থোংসা গুম্ফা

কখন যাবেন
সারা বছরই কালিম্পংয়ের জলবায়ু থাকে পর্যটনের অনুকূল। তবে মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি কালিম্পংয়ের মজা উপভোগ করা যায় সবচেয়ে বেশি।
কীভাবে যাবেন
রেলপথে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে চড়ে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে বাস অথবা ভাড়া গাড়িতে কালিম্পং যেতে সময় লাগবে ঘণ্টা তিনেক। দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটারের মতো। প্লেনে করে বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নেমে গাড়ি ভাড়া করে কালিম্পং যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
কালিম্পংয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হিল টপ ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানে কয়েকদিন থেকে অনায়াসে ঘুরতে পারেন কালিম্পং। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন ৯৮৩৬৬২১৩০০ নম্বরে। কালিম্পংয়ে বন দপ্তরের নেচার রিসর্টও আছে। এছাড়া চাইলে যে কোনো বেসরকারি লজ অথবা হোটেলেও থাকতে পারেন।

 

হিল টপ ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান

Developed by DXDasia