‘সিগারেট খেলে মরবে না, তুমি জন্মেছ গুপী করার জন্য’ : তপেনকে বলেছিলেন সত্যজিৎ

তপেন চট্টোপাধ্যায় নিজে কিন্তু এতটুকুও গান জানতেন না

একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা তপেন চট্টোপাধ্যায় একসময় বলেছিলেন, “হঠাৎ এক দিন মানিকদা সিগারেট অফার করলেন। আমি তো কিন্তু কিন্তু করছি। উনি বললেন, খাও না নাকি? খাও খাও মরবে না। তুমি জন্মেছ গুপী করার জন্য।” ব্যাস, শুরুটা সেই থেকেই। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক তপেন চট্টোপাধ্যায়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই থিয়েটারে যোগ দিলেন। রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’। ছোট্ট একটি চরিত্র, কিন্তু তাঁর অভিনয় দাগ কেটেছিল দর্শকদের মনে। একসময় চাকরি সূত্রে চলে গেলেন রাজস্থান। প্রতিদিন দু’ টাকা দু’ আনা পারিশ্রমিক পেতেন। কিন্তু সেই চাকরি তাঁর ভালো লাগছিল না। তাই কলকাতা ফিরেই চলে গেলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটকের দলে।

একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা তপেন চট্টোপাধ্যায় একসময় বলেছিলেন, “হঠাৎ এক দিন মানিকদা সিগারেট অফার করলেন। আমি তো কিন্তু কিন্তু করছি। উনি বললেন, খাও না নাকি? খাও খাও মরবে না। তুমি জন্মেছ গুপী করার জন্য।” ব্যাস, শুরুটা সেই থেকেই। অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক তপেন চট্টোপাধ্যায়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই থিয়েটারে যোগ দিলেন। রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’। ছোট্ট একটি চরিত্র, কিন্তু তাঁর অভিনয় দাগ কেটেছিল দর্শকদের মনে। একসময় চাকরি সূত্রে চলে গেলেন রাজস্থান। প্রতিদিন দু’ টাকা দু’ আনা পারিশ্রমিক পেতেন। কিন্তু সেই চাকরি তাঁর ভালো লাগছিল না। তাই কলকাতা ফিরেই চলে গেলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটকের দলে। তপেন চট্টোপাধ্যায়ের কাকা ছিলেন কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেই সুবাদে তাঁদের বাড়িতে প্রায়ই কবিদের আড্ডা বসত। সুভাষ মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্র, সমর সেনরা তো থাকতেনই, সঙ্গে থাকতেন সত্যজিৎ রায়। সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায় তাঁর ‘আমাদের কথা’ নামক স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থে লিখেছেন, “বাঘার চরিত্রে রবিকে (রবি ঘোষ) নেওয়া প্রথম থেকেই ঠিক ছিল, কিন্তু গুপীর চরিত্রে কাকে নেবেন, মানিক ভেবে কিছুতেই ঠিক করতে পারছিলেন না। অনেক দেখানো হল, এমনকি একজনের স্ক্রিন টেস্ট নেওয়া হয়েছিল রবির সঙ্গে, যিনি এক ডেইলি পেপারের সম্পাদক ছিলেন। কোনও ফল হয়নি। চঞ্চলবাবুর (চঞ্চল চট্টোপাধ্যায়) ভাইয়ের ছেলে তপেন আমাদের বাড়িতে মাঝেসাঝে আসত। ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে প্রথম দিকে ছিল। মানিক তাঁর অভ্যাস মতো গুপীর চরিত্রে যে-ধরনের মুখ ওঁর চাই, সেটা এঁকে রেখেছিলেন। চেহারার মধ্যে একটা গ্রাম্য ভাব থাকবে, বেশি চালাক চটপটে নয়।

ভাগ্যক্রমে একদিন তপেন আমাদের বাড়িতে এসেছিল। মানিকের ঘরে ঢুকতেই মানিক ওর দিকে ফিরে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ‘এই তো পেয়ে গেছি’ গোছের ভাব। তপেন এর আগে ‘মহানগর’ ছবিতে একটা ছোট্ট ভূমিকায় নেমেছিল।”সত্যজিৎ রায় যখন সিদ্ধান্ত নিলেন গুপীর চরিত্রে অভিনয় করবেন তপেন, তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে চোখের জল লুকোচ্ছিলেন তপেন। সেইদিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। তপেন চট্টোপাধ্যায় কিন্তু এতটুকুও গান জানতেন না। কিন্তু ভারতীয় রাগ সংগীত সম্পর্কে তাঁর একটা স্বচ্ছ ধারণা ছিল। ‘গুপী গাইন, বাঘা বাইন’ ছবিতে অনুপ ঘোষালের কণ্ঠে ‘দেখো রে, নয়ন মেলে, জগতের বাহার’ গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন তপেন। যা হয়ে উঠেছিল গুপীর নিজের গান।

তপেন চট্টোপাধ্যায়ের নাম এখনও অনেক মানুষই জানেন না। ‘গুপী’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত এবং সম্মানিত। কিন্তু গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘হীরক রাজার দেশে’ বা ‘গুপী বাঘা ফিরে এল’ ছাড়াও অভিনেতা তপেন নিজের জাত চিনিয়েছিলেন ‘মহানগর’, ‘গণদেবতা’, ‘ননী গোপালের বিয়ে’, ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’, ‘ঠগিনী’ ছবিতেও।আজ প্রবাদপ্রতিম এই অভিনেতার মৃত্যুদিনে তাঁকে বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধা।

Developed by DXDasia