এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ, আমার পৃথিবী : ম্যাকবেথ ২.০

রিভিউ: স্বপ্নসন্ধানীর নতুন নাটক ‘ম্যাকবেথ ২.০’

Unknown and alone, I have returned to wander through my native country, which lies about me like a vast graveyard… —(‘Hyperion’, Friedrich Holderlin)

হিংস্র ঈগলের ডানার মতো মঞ্চের পর্দা খুলে যাচ্ছে, আর সেই ডানার ছায়া এসে লুটিয়ে পড়েছে মঞ্চের মেঝেতে। হঠাৎ একদল শিশুর কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস-এর রাণুছায়া মঞ্চ। এই দমবন্ধকর কালো ছায়ায় মোড়া মঞ্চে নরম হাত পায়ের ছোট্ট ছোট্ট প্রাণীগুলো কেন! নাটক তো হতে চলেছে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘ম্যাকবেথ’ অবলম্বনে স্বপ্নসন্ধানীর নতুন প্রযোজনা: ম্যাকবেথ ২.০। মূল নাটকের বঙ্গীয় অনুকৃতি তৈরি করেছেন স্বপনবরণ আচার্য। ‘ম্যাকবেথ’ মানে কি শুধুই একজন রাজা? নাকি সময়ের দানবাকৃতি আশা-ভরসাহীন মুহূর্ত? ‘ম্যাকবেথ’ মানে কোথাও আজ ফিকশন আর নন ফিকশনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক নাটকীয় উন্মাদনা। সত্যের স্থিরতাকে বাস্তব বনাম প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া, স্থিতিস্থাপক, গতিশীল এক সত্য, একটা নির্মম প্রশ্ন — যা নির্দেশক অভিনেতা এবং দর্শকদের জন্য বোধহয় আলাদা আলাদা ভাবে হয়।

কৌশিক সেন মনে করছেন, “২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নতুন ভাবে আবার ‘ম্যাকবেথ’ করার প্রয়োজন মনে হল, (কারণ ২০১২ সালে স্বপ্নসন্ধানী ম্যাকবেথ করে) এবং মূল নাটককে আরও কাটাছেঁড়া করে স্বল্পায়তনে নিয়ে আসা হলেও নাটকের জটিলতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।”

জাতিহত্যার পর আর কবিতা লেখা, শিল্পের জন্য শিল্প নির্মাণ করা যায় কিনা সেই নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক তেমনভাবেই কৌশিক সেন খুব নির্মমভাবে বিশ্বাস করেন, “আশাবাদ-এর কথা নিয়ে ভাবতে গা জ্বলে যায়” তাঁর। আজকের পৃথিবীর সঙ্গে একটা অস্তিত্ববাদী সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রক্তাক্ত কাপড়ে মোড়া ম্যাকবেথের মধ্য দিয়েও কোনও ক্যাথারসিসে পৌঁছাতে চান না তিনি। বরং পরবর্তী হতাশার বিরুদ্ধে সাবধান করে এই নাটক। মৃত্যু, ঘৃণা, ভয় আর অসহায়তার নন্দনতত্ত্ব; যেন এক পরীক্ষাগারে যাচাই করা ‘সলিউশন’! ‘সলিউশন’ অর্থে পালাবার পথ, বাঁচার উপায়। কিন্তু রাজ্যাভিষেকে হঠাৎই ধরা দেয় লেডি ম্যাকবেথের মাথার উপর স্থির হয়ে আছে দুটো শব্দ— NO EXIT…

কবর থেকে উঠে আসা শিশুরা (অভিনয়ে: কৌশিকী, অরিক্তো, বৈদুর্য্য, আহির, দীপা, শিবাঙ্গী, লহোরিকা, তৃষা, রূপ, শ্রীজা) মেনে নিয়েছে মৃত্যু হলো একটা এমন পৃথিবী যেখানে চলে যেতে পারলে আর কোনো চিন্তা নেই, বোমার আঘাত নেই, বড়োদের যুদ্ধের ব্যবসা নেই। ওরা সবাই মিলে বলে “কেবল কবরটুকু চাই/ আমার বন্ধুরা/ এইখানে, গল্প করা যাবে”, তবুও কোমল মুখগুলো প্রতিবাদ লিখে যায় আমাদের বুক ফালাফালা করে— “একদিন/ কোনো একদিন/ আমি লিখব ঘর/ লিখে যাব আমাদের বাড়ি, রাস্তাগুলো… আকাশ সমুদ্র/ কিন্তু এখন…?/ কিন্তু, এখন/ গর্জে ওঠার সময়/ রাগের সময়/ চিৎকারের সময়”। বাতুল আবু আকলিন, উইজাম আওইদা-র কাব্য তৃষা চক্রবর্তীর অনুবাদে কেমন যেন বিস্বাদ করে দেয় সবটা। 

একটু পিছিয়ে যাই। ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস ১৫৯৯ সালে ‘ডেমনোলজি’ নামে এক বই লেখেন। শেক্সপিয়রের ‘হলিনশেড ক্রনিক্যালে’র উপর নির্ভরশীলতার জায়গা ছিল, কিন্তু রাজার এই গ্রন্থ তাকে আরও একটু বেশি প্রভাবিত করেছিল ম্যাকবেথের মুখে কুকুর আর মানুষের সম্পর্কিত সংলাপ তৈরি করার জন্য। ‘দানববিদ্যা’র মধ্যে কোথাও শেক্সপিয়র আঁচ করেছিলেন তাঁদের সময়ের রাজার ঐশ্বরিক সর্বাত্মকবাদী মনোভাব একদিন এই পৃথিবীর শাশ্বত সত্য হয়ে উঠবে। ১৬০৬ সালে বলা যেতে পারে রাজার সামনে ক্লোজ-ডোর পারফরম্যান্স হয়, রাজার মন বেশ খুশি। দুটো কারণ, তাঁর প্রেত-গবেষণার (!?) স্বীকৃতি, অন্যদিকে স্কটিশ আগ্রাসনকে বীরত্ব হিসেবে দেখানো। তবে গ্লোব থিয়েটারের (লন্ডন) নথি বলছে (ড. সিমোন ফরমান, ঐতিহাসিক) সাধারণ দর্শকের জন্য এই নাটক মঞ্চস্থ হয় ২০ এপ্রিল, ১৬১১। পাঁচ বছর আগেই ঘটে গেছে রাজনৈতিক চক্রান্ত ‘গানপাউডার প্লট’ (১৬০৬)। ১৬১১ থেকে ২০২৬ সাল অর্থাৎ ৪১৫ বছর ধরে একটা নাটক গানপাউডার প্লটের মতো বিশ্বযুদ্ধ বা গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তুলে কথা বলছে, ধ্বংস করার ছক করছে নিমর্ম শাসনযন্ত্রকে। রাজা ও রানির যৌথ ক্ষমতার আঁতাত, আনন্দ ও সহমরণের নেশা, জনগণের কাছে আজও সাবধানবাণী।

কৌশিক সেন মনে করছেন, “২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নতুন ভাবে আবার ‘ম্যাকবেথ’ করার প্রয়োজন মনে হল, (কারণ ২০১২ সালে স্বপ্নসন্ধানী ম্যাকবেথ করে) এবং মূল নাটককে আরও কাটাছেঁড়া করে স্বল্পায়তনে নিয়ে আসা হলেও নাটকের জটিলতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।” ‘ম্যাকবেথ ২.০’-তে ক্ষমতার জন্য লোভ, চাওয়া-পাওয়ার বিন্যাস থেকে ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথ একপ্রকার বিপদজনক দাম্পত্যের মধ্যে দিয়ে ফুটে ওঠে অরুন্ধতী রায়ের ভাবনা— ‘The shape of the beast’। কৌশিক, অরুন্ধতী রায়ের ভাবনা ধার করে শেক্সপীরীয় নাট্যনির্মাণ প্রক্রিয়ায় অনায়াসে প্রয়োগ করেছেন, “… the Political Leaders of various countries (including us) has no perspective, because they are driven by the crazed impulse of a maddened King, they are driving themselves into a situation and cannot turn back.”

শেক্সপিয়র কেমন নিপুণভাবে অতি উত্তেজনাপূর্ণ আর অনতি উত্তেজনার সম্বলিত অংশের সংলগ্নতা তৈরি করে, আততি ও আবেগের তীব্র ওঠানামা, আশা-নিরাশার দোলাচল ইত্যাদির সাহায্যে টানটান করে ধরে রাখতে পারে – আর তার জন্য চাই প্রযোজনার নির্মাণ কৌশল ও দর্শন। কৌশিক সেন ও রেশমি সেন দুজনে যথাক্রমে ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথ, আর আহত সেনা, পরবর্তীকালে ব্যাংকোর প্রেত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নার্স রূপে তিন ডাইনি (অভিনয়ে: অর্চিতা মিত্র, সঞ্চারি, নিবেদিতা দে)। শেক্সপিয়র কীভাবে বড়ো এবং ছোটো দৃশ্যের বিন্যাস দিয়ে নাট্যক্রিয়ায় আততির বুনট তৈরি করেন, এই নাটকের নবনির্মাণের মধ্যে দিয়ে তার ছোঁয়া যেন এক বিদ্যুতের শিহরণ। ‘ম্যাকবেথ’ হল শেক্সপিয়রের সংক্ষিপ্ততম ট্র্যাজেডি, যার মোট পংক্তি সংখ্যা ২০০০-এর সামান্য কিছু কম। 

‘The doer must suffer’— এই বিধান শেক্সপিয়রের ট্র্যাজেডিতে যেমন নায়কের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি পরিণামে খলচরিত্রের জন্যও। সেখানে থাকে না কোনো নিস্তার। দার্শনিক ব্র্যাডলি বলেছেন, “মূলগতভাবে (ট্র্যাজেডি) একজনের, তা হলো নায়কের গল্প; বা খুব বেশি হলে দুজন— ‘নায়ক’ এবং ‘নায়িকা’…”

প্রযোজনার অনন্য নাট্যভাষ্য তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথের বয়ানের মধ্যে দিয়ে। মঞ্চে আর কেউ নয়! রাজা যখন ক্ষমতার চূড়ামণি, তখন তার শাসনকেন্দ্রই হয়ে ওঠে গোটা দেশ। মঞ্চটাকে একটা হাসপাতালের আদলে তৈরি করে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে কোথাও এটা প্রমাণ হয়ে যায় পৃথিবী জুড়ে একটা রোগ ছড়িয়ে গেছে। আবার অসুস্থ শাসকের সুস্থ থাকাটার জন্য দরকার একটা হাসপাতাল। শাসনতন্ত্রের রোগ কেমন ভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে পারে তার পরতে পরতে প্রকাশ আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। ১৫টি চরিত্র প্রধানত ম্যাকবেথ-এ থাকলেও দেখা যায় দুটি চরিত্রের মধ্যেই গোটা নাটকের অন্যান্য চরিত্রগুলি আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজা ও রানির চরিত্রকে প্রশ্ন করাই শেক্সপিয়রের নাটকের মূল লক্ষ্য, আর রাজা যখন সর্বাত্মক, তখন তার তৈরি করা কাঠামোয় কাজ করবে অন্যান্য চরিত্ররা। চরিত্রের অনুপস্থিতি এই প্রযোজনায় যে অভিঘাত তৈরি করেছে তার মূলে আসলে লুকিয়ে আছে— ম্যাকবেথ নামক ক্ষমতার হাতের পুতুলে কিভাবে রূপান্তরিত হয় এই সমাজ ব্যবস্থা সেই ভাবনা। ৪ জুলাই ২০১৪ সালে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে কৌশিক সেন লিখছেন, “‘ম্যাকবেথ’ মরে— রোগ মরে না। ঝাঁট দিয়ে ঘর পরিষ্কার করলেও জীবাণু রয়ে যায়। ‘ক্ষমতা’ আর ‘ক্ষমতা’কে কেন্দ্র করে বৃত্তের পর বৃত্ত তৈরি হতে থাকে।… তবুও এই আঁধারেও একজন প্রকৃত শিল্পী ঠিক খুঁজে নেয় তার ‘ভাষা’, যার মাধ্যমে সে কামড়ে ধরে সময়কে… সেই ভাষা একজন শিল্পীর নিজস্ব।”

মঞ্চে আর কেউ নয়! রাজা যখন ক্ষমতার চূড়ামণি, তখন তার শাসনকেন্দ্রই হয়ে ওঠে গোটা দেশ। মঞ্চটাকে একটা হাসপাতালের আদলে তৈরি করে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে কোথাও এটা প্রমাণ হয়ে যায় পৃথিবী জুড়ে একটা রোগ ছড়িয়ে গেছে।

ম্যাকবেথ উচ্চারণ করে— “মানুষ ডাকলে জেগে উঠতে হয়, ডানকান/ এতখানি ঘুম/ এমন অন্যায় ঘুম, তন্দ্রাতীত। ওঠো রাজা ওঠো।/ তুমি উঠলে, আমি ঘুমোতাম/ শান্ত, সুগভীর।”

ভালো রাজাকে চিরকালের মতো ঘুম পাড়িয়ে খারাপ রাজা যখন জেগে ওঠে, তখন সমাজের ঘুম চলে যায়। শাসক জানে ডানকান বা ব্যাংকোকে কোনো গুপ্ত ঘাতকের সাহায্যে মেরে ফেলা যায় না। কবর থেকে নয়, জনগণের মনের ভিতর থেকে নৈতিকতার প্রশ্রয় পেয়ে ওঁরা জেগে থাকে ম্যাকবেথের বিষাক্ত রক্তে, অ্যান্টিবডি হয়ে প্রতিশোধ নেয়। হাসপাতালে সেবার নামে লক্ষ কোটি টাকার বিনিময়ে হাত পা কেটে খণ্ড খণ্ড করে নেয় মানুষকে যারা, তাদের কতখানি সেবক বলা যায়, নাকি ডাইনি— প্রশ্ন তুলেছে এই নাটক।

কৌশিক সেন ও রেশমি সেন যৌথভাবেই অভিনয় করতে করতে মনে করছেন পৃথিবী জুড়ে ক্ষমতার আর লোভের আন্তরবিন্যাস একে অপরকে যতটা ভালোবাসার দ্বারা নির্ভরশীল করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি এই যৌথতা তৈরি হচ্ছে নারী-পুরুষের মধ্যে একটা কর্পোরেট উন্নতির চাহিদায়। ম্যাকবেথ আর লেডি ম্যাকবেথ-এর মধ্যে একটা ঘিনঘিনে সম্পর্কের মধ্যেও অসহায়তার জায়গা থাকে, তাই সেখান থেকে ভালোবাসার জায়গা তৈরি হয়। জটিল এই মনস্তত্ত্বকে সামনে রেখে তাঁদের অভিনয় যেন হয়ে উঠছিল ইতিহাস পাঠ, তাঁরা পেয়ে যাচ্ছিলেন সহমর্মিতার হদিশ। অভিনেতা সেই যে মনে রাখে সভ্য-শিক্ষিত হবার আগে শরীরের তাঁর বাসা বেধেছিল আদিম আবেগ; মনে রাখেন তীব্র খিদে আর বুক ফাটা তৃষ্ণা-কাতর ম্যাকবেথ চরিত্রে কৌশিক সেন, অন্যদিকে যুক্তিহীন ঘৃণা আর পরমাতৃপ্তিতে শান্ত, কুটিল লেডি ম্যাকবেথ চরিত্রে রেশমি সেন।

মঞ্চজুড়ে আলো, শব্দ, ছায়ার খেলায় উত্তাপের আদি শিহরণ মনে থাকে তাঁদের, মনে থাকে আঁধারে অশুভের ভয় আর মঙ্গলময় দিব্যজ্যোতি। আলো সাজিয়েছেন সৌমেন চক্রবর্তী, প্রয়োগ করেছেন ইতিকণা সরকার। আর সুরের মায়াজাল ছড়িয়েছেন দীপ্তেশ মুখার্জী। ব্রেশটের গান, সুর ও কন্ঠে উজান চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট মনে থাকে তাঁদের বিচ্ছিন্নতার বেদনা কেমন, ভেসে বেড়ানোর অনিশ্চয়তা কেমন, কেমন ভাবে মাতৃগর্ভহীন মানবের হাতে মৃত্যু হবে জেনেও নৃশংস কালো আশ্বাসের স্নিগ্ধ বায়ু টেনে নেওয়ার অসহায় চেষ্টায় মেতে থাকে ম্যাকবেথ। তবুও মরতে হয় ম্যাকবেথকে আর সেই মৃতদেহকে সাক্ষী রেখে এই সময়ের দুই ক্ষমতালোভী দম্পতি প্রবেশ করে (অভিনয়ে: ঋদ্ধি সেন ও সুরঙ্গনা বন্দ্যোপাধ্যায়) মনে হয় আবার সেই পূতিগন্ধময় বহতা সময় নিজের সত্তায় বিষাদ নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। নাটকটা শেষ হচ্ছে যেন! মনে থাকে এ জগৎ আপন হয়ে ওঠার আগে কেমন ছিল, কেমন আছে সুসভ্যতার জীর্ণ পৃথিবী। মনে থাকে এই ‘আমি’ হয়ে ওঠার আগে সে নিজেই বা ছিল কেমন।

__________ 
ম্যাকবেথ ২.০ | প্রযোজনা: স্বপ্নসন্ধানী | মূল নাটক: উইলিয়াম শেক্সপিয়র | নির্দেশনা: কৌশিক সেন | বাংলা অনুবাদ: স্বপনবরণ আচার্য | পরবর্তী অভিনয়: ২৩ জুন, মঙ্গলবার, সন্ধে ৭টা, আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস

 

Developed by DXDasia