হতদরিদ্র কৃষকের কাছে সবজি কিনে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করছেন এই দম্পতি

এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ফার্ম টু প্লেট

আমফানে রীতিমতো বিধ্বস্ত দক্ষিন চব্বিশ পরগণার বিভিন্ন গ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গের চা বাগান। একদল মানুষ এই লকডাউনের সময় বিভিন্ন রকম ত্রাণ উপহার হিসাবে বিলি শুরু করেছেন। ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে তাঁরা গ্রামের অসহায় গরিব কৃষকদের পাশেও দারুণভাবে সহায়তা করছেন। শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশে থাকেন এক দম্পতি। তাঁদের এই উপহার-ত্রাণ পেয়ে খুশি বহু অভুক্ত মানুষ।

ওই দম্পতির একজন অনির্বাণ নন্দী, আর একজন তাঁর স্ত্রী পৌলমী চাকিনন্দী। করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার আগে তাঁরা তাদের লিভ লাইফ হ্যাপিলি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে স্যানিটারি প্যাড এবং ডিজিটাল বুক ব্যাঙ্কের মাধ্যমে দুঃস্থদের নিয়মিত বই বিলি করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু করোনার জেরে লকডাউন শুরু হওয়ার পর তাঁরা খাদ্য বিলির ভাবনায় শুরু করেন ডিজিটাল ফুড ব্যাঙ্ক। সেই ব্যাঙ্ক শুরু করার কদিন পরেই তাঁরা শুরু করেন আরও একটি নতুন ভাবনা। সেটি হল, ফার্ম টু প্লেট।

আসলে এটি হল গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে এনে সেসব সরাসরি অসহায় গরিবদের মধ্যে বিনামূল্যে বিলি করা। 

শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া, লিচুপাখরি, রাঙাপানি, রানিডাঙা প্রভৃতি গ্রামে তাঁরা প্রায়ই চলে যাচ্ছেন। তারপর সেখানকার কৃষকদের কাছ থেকে তাঁরা জেনে নিচ্ছেন, একদম হতদরিদ্র কৃষক কারা আছেন। সেটা জানার পর কৃষকের কাছ থেকে তাঁরা নানারকম সবজি কিনে নিচ্ছেন। এরপর সেসব সবজি বিভিন্ন প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে তাঁরা বিলি করছেন এই লকডাউনে। অনির্বাণবাবু বলেন, এভাবে সবজি কিনে তা বন্টনের মাধ্যমে তাঁরা আসলে প্রান্তিক কৃষক এবং অন্য গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছেন। কৃষকদের কাছ থেকে তাঁদের কেনা বাঁধাকপি, বরবটি, শসা, ফুলকপি, ঢেঁড়স, বেগুন পেয়ে বেশ খুশি লকডাউনে সমস্যায় পড়া বহু গরিব মানুষ। এভাবে তাঁরা নাগরাকাটার বন্ধ থাকা গ্রাসমোড় চা বাগান থেকে শুরু করে মেরিভিউ চা বাগানের শ্রমিক এবং অন্যদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। নিজেদের পকেটের টাকা এবং বিভিন্ন মানুষের সহায়তা নিয়ে তাঁরা এই কাজ করতে পারছেন বলে অনির্বাণবাবু জানিয়েছেন। 

কৃষকদের কাছ থেকে তাঁরা এভাবে একেক পর্বে পাঁচ ছয় হাজার টাকার সবজি কিনছেন। তাতে কৃষকদের মধ্যে হাসি ফুটছে। আবার এর পাশাপাশি তাঁরা স্যানিটারি ন্যাপকিনও বিলি করছেন বিনামূল্যে। লকডাউনের জেরে বহু প্রান্তিক পরিবারে ন্যাপকিন কেনাটাও সমস্যা। সেদিকে তাকিয়ে এই গবেষক দম্পতি বিলি করছেন ন্যাপকিনও। তাঁরা জানান, আমফানের পর দক্ষিন চব্বিশ পরগনার বহু এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে তাঁরা সমীক্ষা করেছেন। তারপর উপহার ত্রাণ বিলি শুরু হচ্ছে।

দম্পতির এহেন উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সমস্ত কৃষক পরিবার। এই কঠিন অতিমারী এবং মহামারীর সময় এমন কিছু মানুষের নাম হঠাৎ চলে আসে দেবদূতের মতো। মানুষের মধ্যে কীভাবে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার নজিরবিহীন সংজ্ঞা বলেন তাঁরা।

             

ছবিঃ প্রতিবেদক    

Developed by DXDasia