এটি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উদ্যোগ
গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Gorkhaland Teritorrial Administration) নিয়ে এসেছে দার্জিলিং কালিম্পং ট্যুরিজম অ্যাপ (Darjeeling-Kalimpong Tourism App)। যেখানে ধরা আছে দার্জিলিং, কালিম্পং অঞ্চলের সমস্ত বৃত্তান্ত। পুজো মানেই বাঙালির কাছে ঘুরতে যাওয়া। আর শারদীয়ায় বাঙালির প্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন? অধিকাংশ বাঙালিরই এক কথায় জবাব, উত্তরবঙ্গ। পুজো বা তার অব্যবহিত পরেই ট্যুরিস্টের আনাগোনায় গমগম করে শান্ত-সুন্দর দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং। আছে লামাহাট্টা, তিনচুলে, সিটং-এর মতো পাহাড়ি গ্রামগুলিও। পিকচার পারফেক্ট দৃশ্য, পাহাড়ি খাবার আর সাইট সিইং-এ নিঁখুত, জমজমাট ছুটির স্ক্রিপ্ট। কিন্তু মাঝেমধ্যেই তাল কাটে। কখনও বুকিং-এর সময় হোটেল খুঁজে পাওয়ার সমস্যা, হোটেল পেলেও অনেকক্ষেত্রে গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া। অনেকসময় ঘুরতে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাওয়া যায় না। পর্যটকদের এই সমস্ত অসুবিধার সুরাহা করতে দার্জিলিং কালিম্পং ট্যুরিজম অ্যাপে এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে পাহাড়ে গন্তব্যের সব সুলুক-সন্ধান।
স্থানীয় খাবার, হোমস্টে-হোটেল-সরকারি অতিথি নিবাস, সাইট সিইং-এর দ্রষ্টব্য সবকিছুই পর্যটকরা জেনে যাবেন এক ক্লিকে। এমনকি রয়েছে পর্বতারোহণ, র্যাফটিং, রোপওয়ের সুলুক-সন্ধান। থাকছে এমারজেন্সি নম্বর। বিপদে পড়লে পর্যটকরা যোগাযোগ করতে পারবেন সেই নম্বরে। থাকছে সরকারি-বেসরকারি ভাড়া গাড়ির হদিশও। জানা যাবে কোথায় রয়েছে স্থানীয় হস্তশিল্প সামগ্রীর দোকান। হাসপাতাল, ডাক্তারখানার খোঁজও পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং-এর বিভিন্ন হোটেলে কথা বলে জানা গেল, পুজোর বুকিং শেষ। চলছে কালীপুজোর বুকিং। তাঁরা জানালেন, প্রতি বছরই এই সময় পাহাড়ে পর্যটকরা ভিড় জমান। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের পরিষেবা সংক্রান্ত অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। কোথাও হোটেলের ঘর ভালো হয় না, কোথাও থাকে অন্যান্য পরিষেবায় কমতি, কোথাও গাড়ির সমস্যা। এই অ্যাপ ব্যবহার করলে সেই সব সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
লামাহাট্টা রিসর্ট-এর মালিক শেরিং তেন্ডি শেরপা, তিনচুলে আর সিটং-এ রয়েছে তাঁর আরও দুটি হোম-স্টে। তিনি বঙ্গদর্শন.কম-কে বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ বুকিং-ই হয় ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে। সেখানে পর্যটকদের বেশ কিছু পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি বুকিং করলে পর্যটকদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে না। অনেক ভাড়া গাড়ি অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। সেই টাকাও বেঁচে যাবে। আর আমরা পর্যটকদের কী ধরনের পরিবেষা দিচ্ছি, সেটাও পর্যটকরা আগে থেকে জানতে পারবেন। ফলে আমাদের সঙ্গে তাঁদের মনোমালিন্যও হবে না। আর পাহাড়ে একটা বড়ো সমস্যা হল পার্কিং। পর্যটকরা যদি আগে থেকে জানতে পারেন, কোথায় কোথায় পার্কিং করা যায়, সেই মতো ট্যুর প্ল্যান করতে পারবেন তাঁরা।” অনেকসময় পর্যটকরা হোটেল থেকে অনেক দূরের কোনও দ্রষ্টব্য স্থান দেখতে বেরিয়ে পড়েন, সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার না নিয়েই। তাঁরা আন্দাজ করে নেন, রাস্তায় কোনও না কোনও দোকান পাওয়া যাবে। পরে অনেকক্ষেত্রেই অসুবিধায় পড়েন। এই অ্যাপে যেহেতু আছে স্থানীয় সব খাবারের দোকানের খোঁজ, মনে করা হচ্ছে সেই অসুবিধায় আর পড়তে হবে না তাঁদের।
জিটিএ-র মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমরা পর্যটকদের কাছে অনুরোধ রাখব তাঁরা যেন বাইরে কোথাও যোগাযোগের চেষ্টা না করে অ্যাপ ডাউনলোড আর ইনস্টল করে নেন।” জিটিএ (GTA)-র এই উদ্যোগে খুশি ট্যুর অপারেটর সংস্থার কর্তারাও। তাঁদের মতে, এর ফলে পর্যটকদের পরিষেবা দেওয়ার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
দার্জিলিং-কালিম্পং ট্যুরিজম অ্যাপ লিংক: https://play.google.com/store/apps/details?id=ml.apptech.gtatourism