ঘুরে আসুন দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় শুটিং স্পটে

দাজিলিংয়ে চলচ্চিত্র পর্যটন

সাগিনা মাহাতো (১৯৭০) 

০১৯ সালের নভেম্বর। ‘সাঁঝবাতি’ ছবির শুটিং করতে দার্জিলিং গিয়েছিলেন দেব এবং পাওলি দাম। কোভিড মহামারির মধ্যে ২০২০-র অক্টোবরে সেই সিনেমার ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ার হয়। প্রচুর স্থানীয় জনতা এবং পর্যটক তখন ভিড় করেন দার্জিলিং চৌরাস্তার শুটিং স্পটে। দার্জিলিং সদর মহকুমার তাকদা ক্যান্টনমেন্টের রংলি রংলিওট সিডি ব্লকে সম্ভবত রজত কাপুর এবং মুমতাজ সরকার শুটিং করতে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে তাকদার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে থাকে। তাপসী পান্নু এবং রবি মোহনের একটি ছবির শুটিং-ও তাকদায় হয়েছিল ২০১৯-এর নভেম্বরে।

আরাধনা (১৯৬৯)

দশকের পর দশক ধরে বলিউড এবং টলিউডের প্রিয় শুটিং স্পট দার্জিলিং। আবার নতুন করে পাহাড়ের রানির সেই পুরোনো গৌরব ফিরে আসছে। মাঝখানে বিক্ষোভ আন্দোলনের ফলে সিনেমার কাজকর্ম সেখানে বন্ধ ছিল অনেকদিন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তর কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে, চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে দার্জিলিংয়ের আত্মিক বন্ধন যাতে ফের গড়ে ওঠে। অনেকটাই সফল হয়েছেন তাঁরা। একটু একটু করে দার্জিলিংয়ে সিনেমার শুটিং বাড়ছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২) 

টিনসেল টাউনের আনাগোনা বাড়তে থাকায় দাজিলিং আবার চলচ্চিত্র পর্যটনের ম্যাপে জায়গা করে নিয়েছে। ভ্রমণার্থীদের অনেকেই চান জনপ্রিয় শুটিং স্পটগুলো ঘুরে দেখতে। পুরোনো যে ক’টি সিনেমা এখানে শুট করা হয়েছে, সেগুলি নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলে। যেমন ‘বরসাত’ (১৯৪৯), ‘যব প্যার কিসি সে হোতা হ্যায়’ (১৯৬১) ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (১৯৬২), ‘প্রোফেসর’ (১৯৬২), ‘হরিয়ালি অউর রাস্তা’ (১৯৬২), ‘চায়না টাউন’ (১৯৬২), ‘আয়ে দিন বহার কে’ (১৯৬৬), ‘হমরাজ’ (১৯৬৭), ‘বহারোঁ কি মনজিল’ (১৯৬৮), ‘ঝুক গয়া আসমান’ (১৯৬৮), ‘মহল’ (১৯৬৯) এবং ‘আরাধনা’ (১৯৬৯)। 

সাঁঝবাতি (২০১৯) 

সত্তরের দশকে এক ঝাঁক বিখ্যাত বলিউড সিনেমার শুটিং হয় দার্জিলিংয়ে। তপন সিনহার ‘সাগিনা মাহাতো’ (১৯৭০) এবং তার হিন্দি রূপান্তর ‘সাগিনা’ (১৯৭৪) – দু’টো ছবির বেশিরভাগ অংশ শুট করা হয় দার্জিলিংয়ের কাছে কার্শিয়াংয়ে। তারপর অমিতাভ বচ্চনের ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬) এবং শক্তি সামন্তের ‘অনুরোধ’ ((১৯৭৯), যা বাংলা ‘দেয়া নেয়া’-র হিন্দি রূপান্তর। ‘লহু কে দো রং’ (১৯৭৯) ছবির পুরোটাই শুট করা হয় দার্জিলিংয়ে। 

কহানি ২ (২০১৬) 

১৯৮০ এবং ৯০-র দশকে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে কম। ‘বরসাত কি এক রাত’ / ‘অনুসন্ধান’ (১৯৮২) এবং ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ (১৯৯২)-এর কথা বলা যেতে পারে। ২০০০ এবং ২০১০-এর দশকে আবার নতুন উন্মাদনা দেখা যায়। ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’ (২০০২), ‘ম্যায় হুঁ না’ (২০০৪), ‘পরিনীতা (২০০৫), ‘ভায়া দার্জিলিং’ (২০০৮), ‘বরফি’ (২০১২), ‘কহানি ২’ (২০১৬) এবং ‘জগগা জাসুস’ (২০১৬)। টলিউডের এত সিনেমার শুটিং দার্জিলিংয়ে হয়েছে যে বলে শেষ করা যাবে না। কোভিড সংক্রমণ থাবা না বসালে ২০২০ সালেও বেশ কিছু সিনেমায় পাহাড়ের রানিকে পেতাম আমরা। পরের ছুটিতে ঘুরে আসুন দার্জিলিং। দেখে আসুন আপনার পছন্দসই সিনেমার শুটিং স্পটগুলো।

বরফি (২০১২) 

কোথায় কোথায় যাবেন

দার্জিলিংয়ে রয়েছে আরও বেশ কিছু দর্শনীয় জায়গা। যেমন শান্তি প্যাগোডা, দার্জিলিং ম্যাল, টাইগার হিল, ঘুম স্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক, হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট, তেনজিং রক, হিমালয়ান মাউন্টেয়ারিং ইন্সটিটিউট, দার্জিলিং রোপওয়ে ইত্যাদি।

কীভাবে যাবেন

দার্জিলিংয়ের সবথেকে কাছের রেলস্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে সড়কপথে এই হিল স্টেশনে যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য প্রাইভেট ট্যাক্সি, শেয়ার্ড ক্যাব এবং বাস পেয়ে যাবেন। বিমানে যেতে চাইলে আপনাকে বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নামতে হবে। সেখান থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি, শেয়ার্ড ট্যাক্সি এবং বাস পেয়ে যাবেন সহজেই। দার্জিলিং পৌঁছতে সময় লাগবে চার ঘণ্টার মতো। কলকাতা থেকে গাড়ি চালিয়েও যেতে পারেন। ৬১৭ কিলোমিটারের মতো দূরত্ব। ২০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। 

কোথায় থাকবেন

দার্জিলিংয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানেই কয়েকদিন থেকে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারেন নানা গন্তব্যে। প্রয়োজনে ফোন করুন ৯৭৩৩০০৮৭৭৫ নম্বরে। এছাড়া দার্জিলিংয়ে বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল এবং রিসর্ট আছে। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন –

West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
Udayachal Tourist Lodge
DG Block (1st floor), Sec II, Salt Lake, Kolkata – 700091
Phone: 033 2358 5189
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
Website: https://www.wbtdcl.com/

 

Developed by DXDasia