আট থেকে আশি, ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রহে জায়গা করে নিচ্ছে বুকমার্কগুলি
‘পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে’
কথার ভিতর প্রবাদের ব্যবহার তলানিতে এসে ঠেকেছে বলেই এটা দিয়ে শুরু করলাম। এমনি এমনি বলছিনা। ৪৫তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হওয়া ইস্তক বঙ্গদর্শন-এর ‘বুকমার্ক’ কেন্দ্র করে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা, সেদিকটা বিবেচনা করেই প্রবাদটা আওড়ালাম। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য অভিনেত্রীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘বঙ্গদর্শন’ যে ১২টি বুকমার্ক তৈরি করেছে, বইমেলার H-21 স্টলে (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হল) পি অ্যান্ড এম কমিউনিকেশনস ও বঙ্গদর্শনের স্টলে ঢুঁ দিলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা হচ্ছে।
“আচ্ছা, ইনিই কানন দেবী! আমি ওনার সিনেমা দেখিনি কখনও কিন্তু মা, দিম্মাদের কাছে শুনেছি। খুবই আধুনিক মহিলা ছিলেন, ওই সময়ে যেভাবে নিজেকে প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি এটা নেবো।” বলছিলেন বছর ২০-র কলেজ পড়ুয়া সুকন্যা চক্রবর্তী।
পথের পাঁচালির দুর্গা (উমা দাশগুপ্ত), মহানগরের আরতি (মাধবী মুখোপাধ্যায়), দেবদাসের পারো (সুচিত্রা সেন), মেঘে ঢাকা তারার নীতা (সুপ্রিয়া দেবী), ঘরে বাইরের বিমলা (স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত), সর্বজয়া (করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়), অপুর সংসারের অপর্ণা (শর্মিলা ঠাকুর), সমাপ্তির মৃণ্ময়ী (অপর্ণা সেন), দেয়া নেয়ার সুচরিতা (তনুজা), কানন দেবী, মহুয়া রায়চৌধুরী, জয়া ভাদুড়ী -এই বারো জন অভিনেত্রীর চোখের অভিব্যক্তি ব্যবহার করে ১২টি বুকমার্ক বানানোর পরিকল্পনা করে টিম বঙ্গদর্শন। কেউ নিচ্ছেন ১২টার সেট, কেউ বেছে বেছে ৩টে অথবা ৭টা। কেউ কেউ শুধুই ১০টা শর্মিলা বা এক ডজন অপর্ণা ব্যাগে পুরেছেন। বুকমার্ক কিন্তু এমন অনেকেই নিয়েছেন, যাঁরা বলেছেন বুকমার্কগুলো বাঁধিয়ে রেখে দেবেন। বঙ্গদর্শনের স্টলে (H-21) ঢুঁ দিতে এসেছিলেন বেহালার বাসিন্দা, বছর চল্লিশের মধুমিতা পাল। দুর্গা, পারো আর নীতাকে বেছে নিয়ে, চলে যাওয়ার আগে, হাসিমুখে নিজের পরিকল্পনাটির কথা আমাদের জানিয়ে যান তিনি, “আরে…আপনারা বুকমার্ক হিসেবে ভেবেছেন বলে আমাকেও ভাবতে হবে নাকি! আমি তো এগুলো ফ্রেম করে রাখবো।”

দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট অঞ্চলের বছর ২০-র কলেজ পড়ুয়া সুকন্যা চক্রবর্তী স্টলে এসেছিলেন তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে। স্বর্ণযুগের সব অভিনেত্রীদের চেনেন না। যথারীতি কানন দেবীর বুকমার্কটি দেখিয়ে জানতে চাইলেন, ‘ইনি কে?’। ‘কাননদেবী’, উত্তর শুনেই সবিস্ময়ে বলে ফেলেন, “আচ্ছা, ইনিই কানন দেবী! আমি ওনার সিনেমা দেখিনি কখনও কিন্তু মা, দিম্মাদের কাছে শুনেছি। খুবই আধুনিক মহিলা ছিলেন, ওই সময়ে যেভাবে নিজেকে প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি এটা নেবো।”

প্রচারের জন্য আমরা যখন বুকমার্কগুলির একটি বিজ্ঞাপন সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করি, বঙ্গদর্শনের অনেক পাঠকই তাঁদের মতামত জানান। অনেকেই জানিয়েছিলেন, আমাদের বুকমার্কের তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছেন সেসময়ের অন্যান্য কয়েকজন উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রী। তাঁদের উদ্দ্যেশ্যে জানাই যে, ১২জন অভিনেত্রীর এই বুকমার্ক-সেটটি বঙ্গদর্শনের পরীক্ষামূলক একটা প্রচেষ্টা। যে অভিনেত্রীদের আমরা এই তালিকায় রাখিনি, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে পরবর্তী সময়ে তাঁদেরকে নিয়ে কাজ করার। এছাড়াও যেটা বলার, পাঠকদের মূল্যবান মতামত শুধু নয়, বইমেলায় এই বুকমার্কগুলির অকল্পনীয় চাহিদায় আমরা অভিভূত। আট থেকে আশি, ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রহে জায়গা করে নিচ্ছে বুকমার্কগুলি। এই উপলক্ষ্যে এবং ৮ মার্চ নারী দিবসে ফেলে আসা সময়ের সমস্ত বাঙালি অভিনেত্রীদের প্রতি বঙ্গদর্শন টিমের কুর্ণিশ ও শ্রদ্ধার্ঘ্য রইল।