ভালোবাসার কথা বলতে এলাম : দুটি পথ

বাণিজ্যিক নৌ-শিক্ষণের সূত্রে সাতশোর উপর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাগরে ভাসা ও নিত্য নতুন বন্দরে ভ্রমণ – পর্ব ১৪

  গত পর্বের পর  

 

পৌঁছলাম বেলা দুটো নাগাদ। টিকিট কাউন্টারে কুলেব্রা যাবার রিটার্ন টিকিট কাটতে গিয়ে জানলাম যে ফেরী কর্তৃপক্ষ কেবল হাতেগোনা কয়েকটি আগাম রিটার্ন টিকিট বিক্রি করেন, সেগুলি বিক্রি হয়ে গেলে কেবল একতরফা টিকিট কেনা যায়। ফিরতি পথে আবার কুলেব্রার টিকিট কাউন্টারে লাইন দিয়ে ফাহার্দর টিকিট কাটতে হবে। টিকিট না পেলে কুলেব্রাতেই থাকতে হবে আর সান জুয়ানের বন্দরে আমাদের জাহাজ ফেল হবে! এ ছাড়া কুলেব্রা থেকে যদিও বা ফেরার টিকিট পাই, ফাহার্দ পৌঁছে আবার সান জুয়ান ফেরার ট্যাক্সি পাব কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই সময়ে জেনিফারের কপালটা নিশ্চয় দর্শনীয় হয়েছিল কিন্তু আমি সেদিকে দৃষ্টিপাত না করে বললাম…

“ঠিক আছে, আমাদের একতরফা কুলেব্রা যাবার দুটো টিকিট দিন।”

টিকিট কেটে ফেরী ধরবার জেটির লাগোয়া গুমটিতে গিয়ে বসলাম। ভারী সুন্দর ছিমছাম বসবার ব্যবস্থা। বিভিন্ন ফেরীর জন্য নির্দিষ্ট গেট আর বসবার জায়গা রয়েছে। বিকেল তিনটের কুলেব্রা ফেরী ধরতে হলে গেট নম্বর ৫-এর সামনের চেয়ারগুলিতে বসতে হবে। দেখলাম মালপত্র নিয়ে কিছু মানুষ সেখানে ফেরীর অপেক্ষায় বসে রয়েছে। এরা সবাই স্থানীয় মানুষ। হপ্তার বাজার সেরে আবার ফিরে যাচ্ছে নিজস্ব দ্বীপে। কেউ বা যাচ্ছে ছুটি কাটাতে। সান জুয়ানের মতো মার্কিন পর্যটকের ভিড় নেই এইখানে। একজন পুলিশ অফিসার স্প্যানিশ ভাষায় সকলকে বিধি নিয়ম সম্বন্ধে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তার পরনে খুব টাইট ইউনিফর্ম। ঢেউ খেলানো শরীর ঠিক এঞ্জেলিনা জোলির মতো… মনে হচ্ছিল এক্ষুনি বুঝি রেগে গিয়ে লারা ক্রফট টুম্ব রেডার হয়ে সাংঘাতিক তিড়িং বিড়িং ডিগবাজি খেয়ে সক্কলকে ধরাশায়ী করে দেবেন!

জেনিফার ওর ব্যাকপ্যাক থেকে একটা গল্পের বই বার করে পড়তে লেগেছে। হয়তো কুলেব্রা থেকে ফেরবার অনিশ্চয়তাজনিত চিন্তা এড়াতে মনকে অন্যভাবে ব্যস্ত রাখা, হয়তো আশপাশের মানুষের সাথে চোখাচোখি এড়ানো… হয়তো গল্পটা নাছোড়…। আমি আবার বাইরে বেরিয়ে এক্কেবারে বই পড়তে পারিনা… গাড়িতে বা ট্রেনে বসে, মাথা নামিয়ে কিছু পড়তে গেলেই মাথা ঘোরে। তাছাড়া চোখের বাইরে যে এক আশ্চর্য সুন্দর বিবর্তন ঘটে চলেছে প্রতি মুহূর্তে… তার থেকে এক পলকের জন্যেও চোখ সরিয়ে নিতে মন চায় না।

খেয়াল করলাম গুমটির এক পাশে একটা খাবার দোকান… সেখানে কীসব ভাজাভুজি চলছে আর গরম তেলেভাজার গন্ধে ম-ম করছে ৫ নম্বর গেট। কে বলবে খানিক আগেই লাঞ্চ সেরেছি! ব্যাগের আপেল রইলো ব্যাগে…আমি এঞ্জেলিনা জোলির কাছে অনুমতি নিয়ে গেলাম সরেজমিন তদন্তে। দেখলাম সেখানে এক যুবতী গরম কড়াইয়ে পাস্তিলো কার্নে বা মাংসের সিঙারা ভাজছে। এছাড়া গরম কফি আর নানা রকম শীতল পানীয় পাওয়া যাচ্ছে সেই দোকানে। এমন আবেদন তো আর অবহেলা করা যায়না… অতএব দুটি পাস্তিলো কার্নে, একটি কোক আর একটি খালি প্লাস্টিকের কাপ নিয়ে ফিরলাম জেনিফারের পাশটিতে। একটি কোক নিপুণ দক্ষতায় কোলের ওপরে ব্যালান্স করে, ঠিক অর্ধেক ভাগে পৌঁছলো প্লাস্টিকের কাপে… সঙ্গে সদ্য কড়াই থেকে উঠে আসা পাস্তিলো কার্নে। জেনিফারের মসৃণ কপাল যেন ফেয়ার এন্ড লাভলির বিজ্ঞাপন… আর আমাদের পায়ের কাছে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে জুড়ে বসল ক্ষুধার্ত পায়রার দল।

সান জুয়ানের মতো মার্কিন পর্যটকের ভিড় নেই এইখানে। একজন পুলিশ অফিসার স্প্যানিশ ভাষায় সকলকে বিধি নিয়ম সম্বন্ধে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তার পরনে খুব টাইট ইউনিফর্ম। ঢেউ খেলানো শরীর ঠিক এঞ্জেলিনা জোলির মতো…

পৌনে তিনটে নাগাদ এঞ্জেলিনা জোলি পাঁচ নম্বর গেট খুলে দিলেন… আমরা লাইন করে গেট দিয়ে বেরিয়ে দেখি আমাদের জলযান প্রস্তুত… সাদা আর নীল রঙা সুন্দর জাহাজ… নাম কায়ো ব্লাংকো। তার গায়ে ছলাত ছলাত করে লাজুক আঘাত হানছে সাগরের ঢেউ। জাহাজের ভেতরে লাল রঙের গদি দেওয়া অনেকগুলি বসবার জায়গা। আমরা জানলার ধারে দুটি সিটে থিতু হলাম।

কায়ো ব্লাংকো চলেছে কুলেব্রা অভিমুখে… পেছন পানে ঝাপসা হয়ে আসছে ফাহার্দ ফেরীঘাট… সামনে অগুন্তি ছোটো ছোটো দ্বীপ… সেখানে মানুষ বাস করে না… সেখানে কেবল বাসা বাঁধে সামুদ্রিক পাখি… তাদের পাশ কাটিয়ে আমরা এগোলাম কুলেব্রা অভিমুখে… সেই দ্বীপ… যার নামের মধ্যে কেমন একটা দখিনা বাতাস… দীঘল বেণীর ভাব রয়েছে যেন।

অবশেষে জাহাজ পৌঁছলো কুলেব্রা ফেরীঘাটে। দিনে কেবল তিনটি ফেরী আসে এই বন্দরে আর তখনি যা একটু লোক চলাচল। এছাড়া অন্য সময়ে ফেরীঘাটে একলা হয় সমুদ্র আর আকাশ। বন্দরে ভিড়তেই স্থানীয় মানুষেরা যে যার গন্তব্যে এগোলো… কয়েকজন পর্যটক তাদের হোটেলের থেকে পাঠানো গাড়িতে গিয়ে উঠলো… ওদের হাঁটাচলায় একটা সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের দৃপ্ততা। আমি আর জেনিফার আস্তে সুস্থে এগোলাম এক আশ্চর্য সুন্দর ঘুমন্ত রাজকন্যের মতো দ্বীপের পথ ধরে।

সরু সরু ঘোরানো রাস্তা এগিয়েছে জলের পাশ বরাবর। ছোটো ছোটো এক তলা বা দোতলা বাড়ি… কয়েকটা মনিহারী দোকান। প্রথম ডানদিক… ছোটো ছোটো এক তলা বা দোতলা বাড়ি… বাড়ির গেটে লতানে ফুলগাছে অগুন্তি ফুল ধরেছে  দ্বিতীয় ডানদিক… ছোটো ছোটো এক তলা বা দোতলা বাড়ি… বাড়ির পাশে চ্যাটানো পাত্রে পাখির খাবার দেওয়া… সেই খাবার খেতে ভিড় জমানো হলদে পাখিদের পিকনিক। তৃতীয় ডানদিক… একটা ছোটো কাঠের পাটাতন দেওয়া ব্রিজ… নিচে সাগর থেকে বিছিন্ন এক বিরহী জলপ্রণালী… শব্দ বলতে কেবল পাখির ডাক আর ঢেউয়ের সমর্পণ। পৃথিবীর একান্তে কী আশ্চর্য সুন্দর এই নিভৃত বিচ্ছিন্নতা।

আমি আর জেনিফার মুগ্ধ হয়ে চারিদিক দেখতে দেখতে বাঁদিকের ফুটপাথে সেই পূর্বনির্দিষ্ট হোস্টেলে এসে পৌঁছলাম। সামনে এক চিলতে বাগান। সেখানে বসে কফি হাতে গল্প করছে দুইজন তরুণী ব্যাকপ্যাকার। বাগান পেরিয়ে সদর দরজা… কলিং বেল। উস্কোখুস্কো মাথার চুল ঠিকঠাক ভদ্রস্থ করে বেল টিপলাম আসছে গ্রেগরি পেক… মন তাই ভাবছে… কী হয় কী হয়। দরজা খুললেন হাসিখুশি, কাঁচা পাকা চুলের বিনুনি বাঁধা, মোটাসোটা একজন মধ্যবয়েসী ভদ্রমহিলা।

“ইয়ে, আমি মধুবাণী… ইনি জেনিফার। আপনার সঙ্গে বোধহয় ফোনে কথা হয়েছিল খানিক আগে…”

“আরে আপনারা এসে গ্যাছেন? পথ চিনতে অসুবিধে হয়নি তো? আসুন আপনাদের ঘরটা চিনিয়ে দিই।”

দোতলা ছিমছাম হোস্টেল। মালকিন আমাদের একটা লম্বাটে ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে দেওয়ালের লাগোয়া গোটা দশেক সিঙ্গেল বেড। পরিষ্কার চাদর পাতা। ঘরের কোনে একটা ছোটো টেবিল। এছাড়া আর কোনো আসবাব নেই৷ কয়েকটা বিছানার ওপরে ব্যাকপ্যাক বা অন্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র। অনুপস্থিত মানুষের অবস্থানের জানান দেওয়া টুকরো টাকরা সরঞ্জাম।

জেনিফারের মনে হয় ঘর পছন্দ হয়েছে… রাত্রিবাসের একটা ব্যবস্থা আর মালকিনের ইংরেজি ভাষার ওপরে দক্ষতায়, ওর মুখে স্বস্তির প্রলেপ। এদিকে আমি কোনোদিন হোস্টেলে থাকিনি… হঠাৎ করে এক ঘর অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ঘুমাতে হবে ভেবে ভেতরটা একটু কাহিল হচ্ছিল৷ যে চিন্তাটা অন্য সব চিন্তাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল তা হলো… রাত্তিরে যদি আমার নাক ডাকে তাহলে কী হবে!

ঠিক এই সময়ে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই পাশের লাগোয়া বাথরুম থেকে একজন ভদ্রমহিলা একটা সাদা মাঝারি সাইজের তোয়ালে পরে বেরিয়ে এলেন আর তিন নম্বর বিছানায় রাখা ওনার ব্যাকপ্যাক থেকে একটা জাঙিয়া বার করে পরবার উপক্রম করলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং নাটকীয়তায় আমার কপালে বোধহয় করোগেটেড আসবেস্টসের চালের মতো ভাঁজ পড়েছিল। আমি চিত্রার্পিতের মতো সাদা দেওয়ালের দিকে সন্ত্রস্ত চোখে চেয়ে রইলাম।

“ইয়ে আমরা বরং বাইরে বসে একটু আলোচনা করে নিই…”

জেনিফার আমাকে নিয়ে বাইরের বাগানে এল। মালকিন আমাদের একটু কথা কইবার সুযোগ দিয়ে খানিকটা দূরত্বে রইলেন।

“শোনো… আমার মনে হয় তুমি কোনদিন হোস্টেলে থাকোনি। তোমার এখানে এভাবে থাকতে অসুবিধে হবে। আমরা তো পথে আরও কয়েকটা হোটেল দেখলাম… চলো তারই একটাতে ব্যবস্থা করি… ঠিক একটা উপায় হয়ে যাবে।”

সফরে এই প্রথম জেনিফার চালকের আসনে।

“বেশ”

আমরা হোস্টেল মালকিনকে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানালাম। উনি আমাদের বিদায় জানিয়ে দোর দিলেন।

হোস্টেল থেকে বেরিয়ে খানিক এগিয়ে একটা ছোটো কাঠের পাটাতন দেওয়া ব্রিজ… নিচে সাগর থেকে বিছিন্ন এক বিরহী জলপ্রণালী… প্রথম বাঁদিক ঘুরেই মামাসিটাস গেস্ট হাউস। হালকা বেগুনি, গোলাপি আর সবুজ রঙের দেওয়াল… তাতে একটা মস্ত কাছিম আঁকা। আপিস ঘরের কাচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আমাদের হাসিমুখে আপ্যায়ন করলেন একজন চেয়ারে এলানো ঢিলেঢালা মানুষ। এক রাতের মতো একটা ঘর চাই শুনে হঠাৎ গম্ভীর হয়ে কাকেশ্বর কুচকুচের মতো একটা মস্ত খাতায় পেন্সিল দিয়ে খানিক কাটাকুটি করে জানালেন যে বহু কষ্টে একটা ঘর পাওয়া যাবে। কেউ শেষ মুহূর্তে আসবে না বলে জানিয়েছে। ঘরের ভাড়াও বেশ ট্যাকসই। আমরা দুজনে ওঁর চিত্রগুপ্তের খাতায় সইসাবুদ করে দোতলায় ঘর দেখতে গেলাম।

ছিমছাম ঘর… তাতে একটা ডবল বেড সঙ্গে বাথরুম। ঘরে একটা দেরাজ আর একটা কাঠের টেবিল। টেবিলের ফুলদানিতে কয়েকটা গোলাপি প্লাস্টিকের ফুলই যা একটু চক্ষুশূল। তবে ঘরের লাগোয়া বারান্দায় বেরোলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বারান্দার ঠিক নিচে সেই নীল সবুজের ছায়া মাখা বিরহী জলপ্রণালী… সাগরের হাত ছাড়িয়ে যে কিনা পথ ভুলে কুলেব্রার অন্দরমহলে চলে এসেছে।

চটপট হাতমুখ ধুয়ে আমি আর জেনিফার ঠিক করলাম যে বেলা থাকতে থাকতে কুলেব্রার খানিকটা ঘুরে দেখে নেওয়া উচিত। একতলার আপিস ঘরের কাচের দরজা ঠেলে আর একবার ঢিলেঢালার মুখোমুখি হলাম। তিনি আমাদের একটা কুলেব্রার ম্যাপ ধরিয়ে দিয়ে বললেন যে, এখানে কয়েকটি পৃথিবীবিখ্যাত বেলাভূমি আছে যা না দেখতে পেলে জীবন বৃথা। আমরা যেন অতি অবশ্য ফ্ল্যামেঙ্কো বীচ, জোনি বীচ, লার্গা বীচ, মেলোনেস বীচ ইত্যাদি প্রভৃতি দেখতে যাই। সেখানে সমুদ্রের ময়ূরকণ্ঠী রং আর গোলাপি বালি দেখলে আমরা নাকি আর চোখ ফেরাতে পারব না। ম্যাপে দেখলাম গোটা দ্বীপে কেবল দুটি মাত্র বড়ো রাস্তা রয়েছে… ২৫০ আর ২৫১। বাকি ২৪৯টা রাস্তা কোথায় গেল জিজ্ঞেস করাতে কোনো সদুত্তর পেলাম না।

ঢিলেঢালা জানালেন যে এই দ্বীপে যাতায়াত করবার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো গল্ফ কার্ট। উত্তর কলকাতার গলির মতো সরু রাস্তা সমুদ্রের ধার ঘেসে চলে গেছে চড়াই উৎরাইয়ের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে খেলতে। ২৫০ আর ২৫১-এর ঠিক সংযোগস্থলে রয়েছে কার্লোস জীপ্ রেন্টাল। ওরা জীপের সঙ্গে গল্ফ কার্টেরও ব্যবসা করে। আমরা যদি চাই তাহলে ঢিলেঢালা সস্তায় গন্ডায় একটা গল্ফ কার্ট ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেবে। হোস্টেলে থাকা আর গল্ফ কার্ট চালানো… দুটি আমার কাছে আনকোরা নতুন অভিজ্ঞতা। তবে পরেরটি নিয়ে তেমন বেগ পেতে হবেনা মনে হল।

“বেশ তাহলে আমাদের জন্য কার্লোস মশাইকে বলে একটা গল্ফ কার্টের ব্যবস্থা করুন…”

আমি কোনোদিন হোস্টেলে থাকিনি… হঠাৎ করে এক ঘর অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ঘুমাতে হবে ভেবে ভেতরটা একটু কাহিল হচ্ছিল৷ যে চিন্তাটা অন্য সব চিন্তাকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল তা হলো… রাত্তিরে যদি আমার নাক ডাকে তাহলে কী হবে!

ঢিলেঢালা ফোন তুলে স্প্যানিশ ভাষায় কিছু কইবার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মামাসিটাস গেস্ট হাউসের সামনে ক্যাঁচ করে ব্রেক কষে একটা জীপ্ থামল।

“ওই যে কার্লোস মশাই বাহন পাঠিয়েছেন। আপনারা বেলাবেলি ঘুরে আসুন। বেশি রাত করবেন না। মামাসিটাস গেস্ট হাউসে উইকএন্ডে দারুণ সব নাচাগানার ব্যবস্থা থাকে। মিস করবেন না যেন…”

“আরে না না… সে আর বলতে… আমরা ঠিক সময়ে ফিরে আসব”

সারা গায়ে উল্কি করা এক পুয়ের্তো রিকান নব্য যুবক জীপের চালক। আমরা জীপে উঠতেই উল্কি সেই সরু সমুদ্রের ধার ঘেঁষা রাস্তা ধরে চড়াই উৎরাইয়ের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে খেলতে জীপ্ চালানোর ভেলকি দেখাতে শুরু করলো। জীপ্ চলেছে ২৫১ ধরে রীতিমতো বেয়াদব গতিতে। আমি আর জেনিফার দাঁত ছিরকুটে পড়বার ভয়ে জীপের হাতল আঁকড়ে বসেছি… চোখের সামনে বিদ্যুৎ গতিতে সরে সরে যাচ্ছে এক স্বর্গীয় দৃশ্যপট। আমাদের পথ চেয়ে রয়েছে এক অনাবিষ্কৃত দ্বীপ… যার নামের মধ্যে কেমন একটা দখিনা বাতাস… দীঘল বেণীর ভাব রয়েছে যেন।

চলবে…

*বাণিজ্যিক নৌ-শিক্ষণের সূত্রে সাতশোর উপর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাগরে ভাসা ও নিত্য নতুন বন্দরে ভ্রমণ করেছেন আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস মেরিটাইম অ্যাকাডেমির অধ্যাপিকা মধুবাণী ঘোষ (Madhubani Ghosh)। অবিশ্বাস্য সেই ভ্রমণ কাহিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতি সোমবার বেলা ১২টায় প্রকাশিত হচ্ছে বঙ্গদর্শনে। আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

Developed by DXDasia