সত্যজিৎ রায়ও এসেছিলেন কাঁকড়াঝোরে
ঝাড়গ্রাম জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে এক ছোট্ট গ্রাম কাঁকড়াঝোর। যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ পর্যটনস্থল। বিশাল ঘন বন, চারদিকে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় ভাষায় ‘কাঁকড়া’ মানে ‘পাহাড়’, আর ‘ঝোর’ মানে ‘অরণ্য’ বা ‘জঙ্গল’। সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন এই কাঁকড়াঝোড়ে। এছাড়া, টেনিদা নিয়ে বানানো ছবি ‘চারমূর্তি’-র কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল এখানে।

উদার প্রকৃতি এখানে মানুষকে এক পরাবাস্তব অনুভূতির স্পর্শ দিতে সর্বদাই প্রস্তুত। অরণ্যের পরিশ্রুত বাতাস আপনার ফুসফুসকে সতেজ করে তুলবে। ছবির মতো সুন্দর এবং নিরিবিলি এই গ্রামে দিন দু’য়েক কাটিয়ে আসলে আপনার শরীর ও মনের যাবতীয় ক্লান্তি উধাও হয়ে যাবে। নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে আবার কর্মজীবনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবেন।
শাল, মহুয়া, আকাশমণি, সেগুন, কেঁদ, নিমের মতো বিশাল বিশাল গাছে ভর্তি গ্রামটি প্রায় ৯,০০০ হেক্টর জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে। আশেপাশের পাহাড় এবং জঙ্গলে আপনি যখন ঘুরে বেড়াবেন, চোখে পড়বে দল বেঁধে চলেছে ময়ূর, হরিণ, খরগোশ কিংবা ভালুকেরা। কাছেপিঠের জলাশয়গুলিতে বসন্তকালে জড়ো হয় ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। কফি, কাজু বাদাম, কমলা লেবুর চাষ করে থাকেন গ্রামের বাসিন্দারা।

পূর্ণিমার রাতে কাঁকড়াঝোরের পরিবেশ স্বর্গীয় হয়ে ওঠে। আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে আদিবাসীদের বাজানো মাদলের একটানা আওয়াজ। সন্ধেবেলা চাইলে আদিবাসী নৃত্যও দেখতে পারেন। সাঁওতাল, মুন্ডা, ভূমিজের মতো বেশ কিছু আদিবাসী উপজাতির মানুষেরা বসবাস করেন আশেপাশের প্রায় ২৮টি গ্রামে। কাঁকড়াঝোর এবং ঝাড়খন্ড রাজ্যের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ভৈরবী নদী। নদী দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতাও কম রোমাঞ্চকর নয়। সময় থাকলে আপনি ঝাড়খন্ডে গিয়ে ঘাটশিলা দেখে আসতে পারেন। আর মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরেই বেলপাহাড়ি। সেখানে দু’তিন দিন আরামে কাটিয়ে দেওয়া যায়। শাল, সেগুনে ঘেরা মাটির বাড়িগুলিও অনবদ্য। ঘাগরা জলপ্রপাত এবং এবং তারাফেনি নদী দেখেও আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। অক্টোবর থেকে মার্চে কাঁকড়াঝোরে গিয়ে বেশ আনন্দ পাবেন। আর মার্চ এপ্রিল মাসে বসন্তের সৌন্দর্য আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের জগতে।
কোথায় থাকবেন
কাঁকড়াঝোর অঞ্চলের মানুষেরা তাঁদের এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে তাঁরা অনেকগুলি হোম স্টে গড়ে তুলেছেন। আপনি যদি ঝাড়গ্রামে গিয়ে ওঠেন, সেখান থেকেও গাড়ি করে অনায়াসে কাঁকড়াঝোর ঘুরে যেতে পারেন। কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে আছে খেঁদারানি ড্যাম, ঝিলিমিলি পাহাড়, মুকুটমণিপুর ইত্যাদি।
কীভাবে যাবেন
হাওড়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম যাওয়া যায়, সেখান থেকে সড়কপথে কাঁকড়াঝোর। এছাড়া কলকাতা থেকে গাড়ি চালিয়েও ১৬০-১৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেও ঝাড়গ্রাম পোঁছতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
কাঁকড়াঝোরের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হোম স্টে'র ব্যবস্থা আছে। যোগাযোগ করতে পারেন 'নোমাডিক উইকএন্ডস'-এর সঙ্গে।
ফোন নম্বর – ৯০০৭২২৪৮১৪ / ৯১৬৩৪২৮৩৮৪
এছাড়া বেলপাহাড়িতে এই জায়গাগুলিতেও থাকতে পারেন।
বেলপাহাড়ি গেস্ট হাউজ
বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রাম
ফোন নম্বর – ৮৯৭২৯৯৯৯২৬
তারাফেনি কটেজ
বিডিও অফিস ক্যাম্পাস, বেলপাহাড়ি, ঝাড়গ্রাম
ফোন নম্বর – ৮৯০০৩৬০২২২
