দুর্গাপুজো উপভোগ করুন ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদে

মহানগর থেকে দূরে নিরিবিলিতে পুজোর ছুটি কাটান

যাঁরা পুজোয় সাধারণত অন্য রাজ্যে ঘুরতে যান, এবারের দুর্গোৎসবে তাঁদের অনেকেই চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের ভিতরেই কোনো জায়গায় বেড়াতে। বহু মানুষই কয়েকটা দিন নিরিবিলিতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের কোনো একটি ট্যুরিজম প্রপার্টিতে ছুটি কাটাতে আগ্রহী। লকডাউনের পর সবক’টি প্রপার্টির দরজাই আবার খুলে গিয়েছে পর্যটকদের জন্য। নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হয় সেগুলি। অতিথিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় কঠোরভাবে।

বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত দুর্গাপুজোর সব রকম আচার অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে পারবেন

তার মধ্যেই একটি বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি (আগে পরিচিত ছিল ‘বহরমপুর ট্যুরিস্ট লজ’ নামে)। মুর্শিদাবাদ জেলার সদর বহরমপুরে এটি রয়েছে। এখানে থাকলে আপনি পুজোর আনন্দ কোনোভাবেই মিস করবেন না। প্রপার্টির থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যেই আয়োজিত হয় রানীবাগান সার্বজনীন দুর্গোৎসব। কান্দি বাস স্ট্যান্ডের পুজো ৫০০ মিটারও দূরে নয়। মহানগর থেকে অনেক দূরে ছুটি কাটালেও আপনি বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত দুর্গাপুজোর সব রকম আচার অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে পারবেন। সে এক অন্য রকম মজা। 

মুর্শিদাবাদের অবস্থান 

এবারের পুজোর ছুটিতে লাগুক ইতিহাসের স্পর্শ

এছাড়াও রয়েছে কাশিমবাজার ছোটো রাজবাড়ির বনেদি দুর্গাপুজো। ভ্রমণার্থীদের কাছে তা খুবই জনপ্রিয়। এক সময়ে কাশিমবাজার খুবই সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ছিল প্রসিদ্ধ। মুর্শিদাবাদের অর্থনীতিতে জায়গাটি প্রচুর অবদান রেখেছিল। দেখতে পারেন মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর প্রাসাদ। অসাধারণ সুন্দর স্থাপত্য। অলংকৃত ১০০টি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ব্যালকনি আপনাকে মুগ্ধ করবে। টেরাকোটার নকশাও তারিফ করার মতো।

পুজোর আনন্দ কোনোভাবেই মিস করবেন না

গত কয়েকমাস ধরে করোনা মহামারিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে এসে গেল দুর্গাপুজো। এবারের পুজোয় জাঁকজমক হয়তো অনেক কম হবে। গোটা রাজ্যেই পুজো কমিটিগুলির তহবিলের অবস্থা ভালো নয়। কীভাবে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাবেন – সেই বন্দোবস্ত নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। এবারের পুজোর ছুটিতে মুর্শিদাবাদ গেলে আপনার বেশ ভালোই লাগবে। অনেক দর্শনীয় স্থান সেখানে। এক সময়ে বাংলার নবাবদের রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ শহর। সেই ঐতিহ্য এখনও ছড়িয়ে আছে তার অলিতে-গলিতে।

বহরমপুরের পুজো
 

কীভাবে যাবেন
লকডাউনের পর ট্রেন এখনও সেভাবে চালু হয়নি। তাই সড়কপথে বহরমপুর যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কলকাতা থেকে দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের মতো। রাস্তায় কয়েকবার বিরতি নিয়ে বহরমপুর পৌঁছতে সময় লাগবে সাড়ে ৫ ঘণ্টার কাছাকাছি।
কোথায় থাকবেন
বহরমপুরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি। কয়েকদিন সেখানে ছুটি কাটাতে পারেন স্বচ্ছন্দে। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন ৯৭৩২৫১০০৩১ নম্বরে। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, 
mdwbtdc@gmail.com, 
dgmrwbtdc@gmail.com
Developed by DXDasia