শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টির মন ভোলানো ক্যারামেল কাস্টার্ড

মিষ্টি স্বাদে মাতিয়ে রেখেছে ভ্রমণার্থীদের

অনাদির মোগলাই পরোটা, বসন্ত কেবিনের কবিরাজি কাটলেট, শ্রী হরি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ল্যাংচা। কলকাতার খাদ্যরসিকরা সবাই জানেন এগুলোর মাহাত্ম্য। তিলোত্তমার বাইরেও বাংলার নানা অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে বিভিন্ন খাবারের নাম। যেমন শক্তিগড়ের ল্যাংচা, বর্ধমানের মিহিদানা, দার্জিলিং-এ কেভেন্টার’স-এর হট চকোলেট। এই সব সিগনেচার খাবার যেমন সেই জায়গাকে বিখ্যাত করেছে, তেমনি আকর্ষণ করে চলেছে পর্যটকদেরও। 

সেই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ তার সবক’টি ট্যুরিজম প্রপার্টিতেই সিগনেচার ডিশগুলি পরিবেশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন শান্তিনিকেতন ট্যুরিস্ট লজ)-এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সেখানকার ক্যারামেল কাস্টার্ড। বেশ কয়েক বছর ধরেই মিষ্টি স্বাদে মাতিয়ে রেখেছে ভ্রমণার্থীদের। 

এক টুকরো ক্যারামেল কাস্টার্ড

ক্যারামেল কাস্টার্ড পরিবেশন করা হয় খাওয়া-দাওয়ার শেষে, ডেজার্ট হিসেবে। বানানো হয় দুধ, ডিম আর চিনি দিয়ে। ওপরে ক্যারামেলাইজ করা চিনির পাতলা আস্তরণ থাকে। ভারতে এই খাবার প্রথম এনেছিলেন পর্তুগিজরা। গোয়া, দমন, দিউ-এর মতো পূর্বতন পর্তুগিজ উপনিবেশগুলিকে খুব জনপ্রিয় এটি। অনেক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান, মালয়ালি, ম্যাঙ্গালোরিয়ান এবং পার্সি বাড়িতে প্রায়ই ক্যারামেল কাস্টার্ড রান্না করা হয়। 

বঙ্গদেশে এটি রান্নার চল খুব একটা নেই ঠিকই, তবে ক্যারামেল কাস্টার্ড খেতে বাঙালিরাও পছন্দ করেন। আজ রইল তার রেসিপি। আমাদের পরামর্শ, বাড়িতে তৈরি করার আগে শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টিতে গিয়ে চেখে আসুন এই বিশেষ ডিশ। সেখানকার চেয়ে সুস্বাদু ক্যারামেল কাস্টার্ড খুব কম জায়গাতেই পাওয়া যায়। 

রেসিপি (এক টুকরো ক্যারামেল কাস্টার্ড)

উপকরণ

মিল্ক পাউডার   ২০ গ্রাম
চিনি   ২৫ গ্রাম (কাস্টার্ডের জন্য ২০ গ্রাম, ক্যারামেলের জন্য ৫ গ্রাম)
কাস্টার্ড পাউডার   ৫ গ্রাম (১ চা-চামচ)
ভ্যানিলা এসেন্স   ১ ফোঁটা 
ডিম   ভালো করে ফেটানো 

প্রণালী

ধাপ-১: মিল্ক পাউডারের সঙ্গে চিনি এবং জল মিশিয়ে সসপ্যানে গরম করুন। কাস্টার্ড পাউডার যোগ করে রাঁধতে থাকুন যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়। ফেটানো ডিম আর কাস্টার্ড পাউডার যোগ করে মিশ্রণটি ঠান্ডা হওয়ার জন্য রাখুন।

ধাপ-২: কেকের বাটি অথবা অন্য কোনো পাত্রে বাকি চিনিটুকু রেখে গরম করুন, যতক্ষণ না ক্যারামেলাইজ হয়। কাস্টার্ড মিশ্রণ ঢালুন সেই পাত্রে। বড়ো সসপ্যানের ওপর পাত্রটি রাখুন। সসপ্যানে জল ঢেলে ফুটতে দিন, তাতে মিশ্রণ ভালো করে সেদ্ধ হবে। মিনিট ২০ পর মিশ্রণটিকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। মিশ্রণের পাত্রটি ঘণ্টাখানেক ফ্রিজে রাখুন। তারপর পরিবেশন করুন ক্যারামেল কাস্টার্ড।


 

কী কী দেখবেন
শান্তিনিকেতনে গেলে বিশ্বভারতী অবশ্যই দেখবেন। শনিবার সোনাঝুরির হাটে যেতে ভুলবেন না। সাঁওতাল গ্রামগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন। কাছেই রয়েছে বক্রেশ্বর উষ্ণ প্রস্রবণ, পার্বতীপুর জমিদারবাড়ি, সিউড়ির মতো বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র। সুযোগ মতো চলে যেতে পারেন ওই জায়গাগুলিতেও।
কীভাবে যাবেন
জাতীয় সড়ক ১৯ ধরে গাড়িতে শান্তিনিকেতন পৌঁছতে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। দূরত্ব ১৬০ কিলোমিটারের মতো। কলকাতা থেকে বোলপুরের বাস পাওয়া যায়। রেলপথে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে পৌঁছতে হবে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনে। তবে এখন অতিমারির কারণে রেল চলাচল যেহেতু বন্ধ, সড়কপথে যেতে পারেন সহজেই। রাস্তা খুব ভালো। পথের দু’ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
কোথায় থাকবেন
শান্তিনিকেতনে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব দুটি ট্যুরিজম প্রপার্টি রয়েছে। শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি (যোগাযোগ – ৯৭৩২১০০৯২০) এবং রঙ্গবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি (যোগাযোগ – ৮৬৯৭৯৮৪৯৬০)। দু’টি প্রপার্টিই সুন্দরভাবে সাজানো। চারপাশের পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দেবে। পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে কয়েকদিন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারেন। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, 
mdwbtdc@gmail.com, 
dgmrwbtdc@gmail.com
Developed by DXDasia