টেরাকোটার গ্রাম দশঘরা

রায়বাড়ির বাগানে ছড়িয়ে আছে কত ভগ্ন, অভগ্ন ভেনিশিয়ান নারীমূর্তি

হুগলি জেলার ধনিয়াখালী থানার অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম – দশঘরা। এই প্রত্যন্ত গ্রামটি কিন্তু একদা সমৃদ্ধশালী বারোদুয়ারী রাজ্যের রাজধানী ছিল। হাওড়া বর্ধমান কর্ড লাইনের গুরাপ অথবা তারকেশ্বর স্টেশনে নেমে বাসে বা ট্রেকারে চেপে এখানে পৌঁছুতে পারেন। একসময় তারকেশ্বর-জামালপুর ছোট লাইনের ট্রেন দশঘরা এবং চকদীঘি স্টেশনে থামত। আমরা চলেছি সেই দশঘরা এবং চকদিঘি।

দশঘরায় অসংখ্য পুরাকীর্তির নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিশ্বাসপাড়ায় এবং রায়পাড়ায়। বন্ধুবর অভিজিৎ ধর চৌধুরীর সঙ্গে খুব সকালে এসেছি বিশ্বাস জমিদারদের বাড়িতে। জনৈক উৎকল নিবাসী জগমোহন বিশ্বাস বারোদুয়ারী রাজার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এই স্থানে বসবাস শুরু করেন এবং ক্রমে প্রভূত জমি জায়গা খরিদ করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।

এঁদেরই প্রতিষ্ঠিত গোপীসায়র দীঘি ও জমিদারদের কাছারি বাড়ি, দুর্গা দালান, পঞ্চরত্ন গোপীনাথ মন্দির, চারচালা দোলমঞ্চ, অষ্ট কোণাকৃতি রাসমঞ্চ, আটচালা শিব মন্দির। শিবমন্দিরের পিছনেই যে বাড়িটা আছে সেটি ছিল নহবৎখানা এবং সিংহ দুয়ার দিয়ে ঢুকেই ডানদিকের প্রথম বাড়িটি ছিল জমিদারদের বৈঠকখানা। স্থানীয়দের কাছে এটি সাঘর বলে বলে পরিচিত। সম্ভবত জলসাঘরের অপভ্রংশ।

দাঁড়িয়ে আছি দশঘরা, হুগলি – বিশ্বাসবাড়ির পঞ্চরত্ন গোপীনাথ জিউর মন্দিরে।

আগেই লিখেছি যে, উৎকল নিবাসী জনৈক জগমোহন বিশ্বাস এই বংশের প্রথম পুরুষ যিনি এই গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তখন এই সমগ্র জায়গাটির নাম ছিল বারোদুয়ারী। এই বংশের অধস্তন পুরুষ শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস, ইংরেজি ১৭২৯ খ্রিস্টাব্দে এই অসাধারণ টেরাকোটার কাজ সমৃদ্ধ গোপীনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। একটি উঁচু বেদির ওপর এই পঞ্চরত্ন মন্দিরটি অবস্থিত। সঙ্গে আনা কম্পাস দেখাচ্ছে মন্দিরের প্রধান ফটক পশ্চিমমুখী। প্রধান ফটকের সামনেই দুর্গাদালান এবং বাঁয়ে বিশ্বাসদের থাকার গৃহ।

ত্রিখিলান বিশিষ্ট এই মন্দিরের অসাধারণ টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রধান ফটকের আর্চগুলির উপরে প্রধানত রামায়ণের ঘটনাবলি মূর্ত। ডান দিকের আর্চের উপর কুম্ভকর্ণের রসগোল্লা খাওয়ার মতন টপাটপ বানরসেনা ভক্ষণ, বাঁদিকের একটি ক্ষতিগ্রস্ত টেরাকোটার ফলকে সম্ভবত জটায়ু ও রাবণের যুদ্ধ দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও অসংখ্য দেবদেবী যেমন মা দুর্গা, দেবী সরস্বতী, কৃষ্ণমূর্তি শোভা পাচ্ছে। সমাজ জীবনের ছবি যেমন চরকা-কাটা নারী, এমনকি মিথুন মূর্তিও চোখে পড়ল। অসাধারণ মৃত্যুলতা প্যানেল মন্দিরটির চারকোনায় ঘিরে আছে। আর ভিতরের রাধা গোপীনাথের মূর্তি দেখলে তো চোখ জুড়িয়ে যাবে।

দশঘরা গ্রামে বিশ্বাস পরিবারের প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য টেরাকোটার মন্দির, রাস মঞ্চ, দোলমঞ্চ ইত্যাদির সঙ্গে আছে একটি জোড় বাংলা, মা বিশালাক্ষীর মন্দির। জমিদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে এবার এসেছি বিশালক্ষীতলায় মা বিশালাক্ষীর মন্দিরে। একটু উঁচু ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির সংস্কারের এবং নতুন করে রং করার ফলে আর বিশেষ কিছু টেরাকোটার কাজ বেঁচে নেই। এটি অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি তৈরি। মন্দিরের ভিতরে অপরূপ সুন্দরী, স্মিতহাসিনী, নরমুণ্ড শোভিতা, শাড়ি পরিহিতা বিশালাক্ষী মাতার মূর্তি।

এই মন্দিরের পাশেই মায়ের ভৈরব শিব মন্দির। নিচু ভিত, আটচালা, ত্রিখিলান বিশিষ্ট এই মন্দিরে এখনও টেরাকোটার কাজ কিছু বেঁচে আছে।

দশঘরা গ্রামের জমিদার বিশ্বাসদের দ্বারা নির্মিত অসাধারণ কীর্তিসমূহ দর্শন করে ফিরে এসেছি আমাদের কিছুক্ষণের বিশ্রামস্থল এখানকার আরেক বর্ধিষ্ণু জমিদার বাড়িতে। এই বাড়িটি বিখ্যাত দশঘড়া রায়বাড়ি নামে, এবং এই বাড়িটির চতুর্দিকের এক বিস্তীর্ণ এলাকা পরিচিত রায়পাড়া বলে।

রায়বাড়ির যে অংশে আমরা উঠেছি, সেটি আদিতে ছিল রায়বাড়ির নাচঘর। এই বাড়িটির থাম এবং ছাদের কার্ণিশের অসাধারণ স্ট্যাকর কাজ চোখ টেনে নেবে। বাগানের চতুর্দিকের কত না ভগ্ন, অভগ্ন ভেনিশিয়ান নগ্ন নারীমূর্তি সেই অতীত দিনের জমিদারদের বিলাস, বৈভব স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশাল উঁচু সিঁড়ি উঠে গেছে নাচঘরের দরজা অবধি। আমাদের খাতির করে বসালেন শ্রী গোপাল সামন্ত মশাই, রায়বাড়ির কেয়ারটেকার। এবং সৌভাগ্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শ্রী প্রদ্যোত সাহা, রিসিভার, দুর্গাবাড়ি দশঘরা। উনার কাছেই জানলাম যে এইখানে চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছিল পুরানো হিট বাংলা বই ‘জোড়াদিঘীর চৌধুরী পরিবার’-এর। গোপাল বাবু এবং উনার স্ত্রী বড় যত্নে আমাদের রেঁধে বেড়ে খাওয়ালেন। এই চমৎকার ব্যবস্থা সম্ভব হল বন্ধুবর শ্রী অভিজিৎ ধর চৌধুরীর সৌজন্যে।

খেয়ে উঠে হাঁটতে বেরোলাম রায়পাড়া দর্শনে। রায়পাড়া ঢুকতে, বহুদূর থেকে চোখে পড়বেই একটি অষ্ট কোণাকৃতি ঘড়িঘর, ওপরে বিদেশি মূর্তি সহ। চারদিকে চারটি ঘড়ি এবং বাকি চারটি দেওয়ালে সেই আমলের চারটি খড়খড়ি দেওয়া জানালা। রোমান হরফের ঘড়িটির কাঁচ বাদে সবই এমন সুন্দর যেন মনে হয় এখনই ঢং ঢং করে ঘন্টাধ্বনি শুরু হবে। ঘড়ির মধ্যে এখনও প্রস্তুতকারকের নাম জ্বল জ্বল করছে- J M DASS & BROS, CALCUTTA.

এই ঘড়িঘরের একপাশে আছে এক অনন্যসাধারণ সৌন্দর্যময় তোরণদ্বার, অন্যপাশে ভগ্ন সিংহদুয়ার। রোমান করিন্থিয়াম পিলার যুক্ত, এই  চমৎকার কারুকার্য মণ্ডিত তোরণদ্বারের নীচে লেখা দেখলাম- সাং মনিরামবাটি তৈলক্ষ্য মিশ্রর নির্মিত এই গেট। এই ব্যাপারে প্রশ্ন করে কোনো সদুত্তর পাওয়া গেল না।

]রায়বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ধরা হয় বাবু শ্রী বিপিন কৃষ্ণ রায়কে। বিপিনবাবু কর্মসূত্রে কলকাতা বন্দরের মাল খালাসের কাজে যুক্ত ছিলেন, যাকে বলা হয় স্টিভেডর। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রভূত ধন সম্পত্তির মালিক হন এবং এই বিশাল রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠা করেন।

<রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে গেলাম শিব মন্দিরে। মূল মন্দিরটি ডোম আকৃতির এবং এর সামনে চালা সদৃশ ত্রিখিলান পর্চ। শিবলিঙ্গকে বেষ্টন করে আছে এক বৃহৎ পিতলের নাগরাজ। মন্দিরের হাতায় অনেক মূর্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

তোরণদ্বার পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। রাজবাড়ির এক অংশে স্থানীয় ডাকঘর। উল্টো দিকে উনারই প্রতিষ্ঠিত দাতব্য চিকিৎসালয়। এই চিকিৎসালয় উদঘাটন করেন তৎকালীন সার্জেন জেনারেল, জি এফ এ হ্যারিস সাহেব, ৩০শে জানুয়ারি, ১৯১৫ সালে। এযুগের মতন সর্বঘটের কাঁঠালি কলা কোনো রাজনৈতিক লোক নয়।

দাতব্য চিকিৎসালয় দেখে ডানদিকে মোড় ঘুরে পড়ল একটি চমৎকার দ্বিতল বাড়ি, সামনে প্রকাণ্ড ঝিল। বাড়িটির নাম ‘Bradley Birt Bungalow’, ঝিলটি ‍’কৃষ্ণ রায় ঝিল’, দুটিরই প্রতিষ্ঠা করেন বিপিন কৃষ্ণ রায় – বাংলা ২৯ শে বৈশাখ, ১৩২০ সনে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই বাড়িটিই হুগলি জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট বাংলো। প্রথম বাসিন্দা এফ বি ব্রাডলি ব্রাট, আই সি এস এর নামেই এই বাড়িটির নামকরণ করা হয়। তিনি এই বাড়িতে আসেন ২৫ শে আগস্ট, ১৯১৫ সালে। আজ এই ঐতিহাসিক বাড়িটিতে প্রতিটি ঘরেই লোকজন থাকেন, কারা থাকেন জানি না, বিস্তর ডাকাডাকিতেও কেউ বেরোন নি, কোনো জবাব দেননি। চমৎকার ঝিলটির ছবি তুলে চললাম। এবার গন্তব্য রায়বাড়ির রাসমঞ্চ, মন্দির এবং দুর্গাদালান। রাসমঞ্চটি চমৎকার কারুকার্য করা, কিন্তু বাকি অংশ কালের গ্রাসে জরাজীর্ণ। গেট পাহারায় আছে ব্রিটিশ জমানার জমকালো লাল কোট, নীল প্যান্ট পরিহিত হিন্দুস্থানী সেপাই।

রায়বাড়ির সম্পত্তিগুলির মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর ভাবে রক্ষিত হচ্ছে- দুর্গাদালান। শ্রী প্রদ্যোত সাহার কাছে জানা গেল যে প্রচুর বাংলা সিনেমা এবং সিরিয়ালের শ্যুটিং হয় এখানে যথা- বাড়িউলী, বাঞ্ছারামের বাগান, সোনার আংটি, রুদ্র সেনের ডায়েরি ইত্যাদি।

দুর্গাদালানের অন্দরের দৃশ্য শুধু সুন্দরই নয়, অভিনব। চমৎকার ইউরোপিয়ান শৈলীর স্ট্যাকর কাজের সঙ্গে মিশে আছে দশ মহাবিদ্যা সহ অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনী, যেমন ধূমাবতী, মহাবিদ্যা, বরাহবতার, কুঠার হাতে পরশুরাম, বলরাম ইত্যাদি। প্রতিটি মূর্তি পুরাণের আখ্যান যথাযথ মেনেই তৈরি হয়েছে। এই ধূমাবতী মূর্তিটি নিয়ে দু কথা বলা আশা করি অসঙ্গত হবে না।

রায় বাড়ির দুর্গাদালানের দেবী ধূমাবতীর মূর্তিটি দেখুন। পৌরাণিক ডিটেইলস কী সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে।

ধূমাবতী তন্ত্র গ্রন্থে তাঁকে বৃদ্ধা ও কুৎসিত বিধবার রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি কৃষকায়া রোগগ্রস্থা, পাণ্ডুরবর্ণা ও কুটিলা। তাঁর দেহে অলংকারাদি নেই। তিনি মুক্তকেশী, জীর্ণ মলিন বস্ত্র পরিধান করেন,  এক হাতে কুলো এবং অন্য হাতে বরমুদ্রা দেখান। তিনি অশ্ববিহীন রথে আরূঢ়া এবং তাঁর পতাকায় কাকের ছবি থাকে। আসলে এগুলি সবই রূপক। বাইরের সৌন্দর্য নয়, ডুব দিতে হবে অন্তরের সৌন্দর্যের খোঁজে, তবেই মিলবে অভীষ্ট সিদ্ধি।

এই অসাধারণ দুর্গাদালান ছেড়ে বেড়োতে ইচ্ছে করছিল না, কিন্তু আবার চড়ে বসতেই হল গাড়িতে- শেষ গন্তব্য, সত্যজিতের ‘ঘরে বাইরের’ লোকেশন- চকদীঘি, সিংহ রায়দের বাগানবাড়িতে।

‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে, ঢাক ঢোল ঝাঁঝর বাজে
বাজতে বাজতে চললো ঢুলি, ঢুলি গেল কমলাফুলী।’

আজ্ঞে হ্যাঁ, ৩০০ বছর আগে ঢাক, ঢোল, ঝাঁঝর বাজিয়ে রাজপুত রাজা মানসিংহের সৈন্যদলের একদল বুন্ডেলখণ্ডী রাজপুত সেনা ঘাঁটি গেড়েছিল এই বাংলায়। তাঁদেরই একজন আর বুন্ডেলখণ্ড ফিরে না গিয়ে এই বাংলাকেই আপন করে নিয়ে এইখানেই, চকদীঘি গ্রামেই থেকে যান। পত্তনি হয় একদা বুণ্ডেলখণ্ড নিবাসী, বর্তমানে বর্ধমান জেলার চকদিঘী গ্রামের সিংহ রায় জমিদার বাড়ির। আর বাড়ি বলে বাড়ি- ৯৯ বিঘা জায়গার উপর অবস্থিত এই বাড়িগুলি দেখলে মনে হবে, কী করে এত দিন আগে বাংলাদেশের এক অজ পাড়াগ্রামে এই অসাধারণ, সুবিশাল বাড়িগুলি তৈরি হয়েছিল! এ যেন ময়দানবের তৈরি রাজপ্রাসাদ। সাধে কি আর সত্যজিতের মতন পরিচালক রবিঠাকুরের ঘরে বাইরে-র শ্যুটিং এই বাড়িতেই করেন! দুঃখের কথা হচ্ছে, বর্তমানে সারা বছরই এই অট্টালিকাগুলি নিঝুম হয়ে থাকে। একজন কেয়ারটেকার আছেন, বাগান দেখে বোঝা যায়, মালি বেশ যত্ন করেই বাগানের পরিচর্যা করেন। এ তো গেল দিনের বেলা। আর রাতের বেলা এই প্রাসাদে থাকলে আপনার দশা কী হবে জানিনা, তবে মেহের আলী হবার বিলক্ষণ সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বাড়ি জেগে ওঠে মা মহামায়ার ডাকে? কত না কাহিনী প্রচলিত আছে এই জমিদার বাড়ি নিয়ে। চোখের সামনে তিনটি আলাদা আলাদা বাড়ি দেখতে পাচ্ছি। ছবি তুলতে যাচ্ছি, কোত্থেকে কেয়ারটেকার মশাই দূর দূর করে তেড়ে এলেন, আমাদের সঙ্গে আছেন দশঘড়া রায় বাড়ির কেয়ারটেকার, অতি সজ্জন গোপালবাবু। গোপালবাবু উনাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঠান্ডা করেন। তবেই ছবি তুলতে পারলাম। কিছু জানতেও পারলাম উনার কাছে, তিনটি বাড়ি হচ্ছে বড় বাড়ি, বাগান বাড়ি এবং মনিরাম বাড়ি। তিনটে বাড়িতেই আলাদাভাবে দুর্গাপূজা হয়, কিন্তু বাড়ির পুকুরেই ভাসান হয়।

বুন্দেলখণ্ডের সুরজবংশী রাজপুত 'সিংহ রায়'দের বাংলায় আগমন এবং বসবাস- ১৪ পুরুষের বহমান ৩০০ বছরের ইতিহাস, কোনো সিনেমার গল্পের থেকে কম রোমাঞ্চকর নয়। রায় বাহাদুর ললিতমোহন সিংহ রায়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মিত্র বাবু সারদা প্রসাদ সিংহ রায়- স্যার বিজয় প্রসাদ সিংহ রায়- পরিবারে নক্ষত্রের ছড়াছড়ি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় সারদা প্রসাদের হাতেই চকদীঘির সার্বিক উন্নয়ন শুরু হয়। লর্ড কার্জন থেকে স্যার জন আন্ডারসন, সত্যজিৎ থেকে সলমন রুশদি- কে আসেননি এই বাড়িতে! খালি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারটির আর অস্তিত্ব নেই।

ওদিকে টিনের চালার দুর্গামণ্ডপ অপেক্ষা করছে আবার মহামায়ার আগমনে জেগে ওঠার জন্য।

Developed by DXDasia