
মূর্তি নদী আর গরুমারা অরণ্যের মাঝে পর্যটন দপ্তরের বিলাসবহুল থাকার জায়গা
সেই ব্রিটিশ আমলের কথা। গরমকালে কলকাতার প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে ইংরেজরা দার্জিলিং এবং তার আশেপাশের পাহাড়গুলোকে বেছে নিয়েছিলেন গ্রীষ্মাবাস হিসেবে। নিজেদের মতো করে এক সময়ে দার্জিলিংকে সাজিয়েছিলেন তাঁরা। ঠান্ডা পরিবেশ, বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা, জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ি পথ, চুপচাপ শান্তির বাতাবরণ চারপাশে। উত্তরবঙ্গে ইংরেজরা বেশ কিছু মনোরম কটেজ এবং বাংলো গড়ে তোলেন। নয়নাভিরাম পর্যটনস্থল তিলাবাড়ি খুঁজে বের করেছিলেন তাঁরাই। নির্জন প্রকৃতির মাঝে এই জায়গায় সব সময়েই অনাবিল প্রশান্তি বিরাজ করে।
গরুমারা জাতীয় উদ্যান
মূর্তি নদী
মূর্তি নদীর আরেকটি দৃশ্য
ডুয়ার্স মানেই পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্না, নদী, পাখির অপরূপ সমাহার। তিলাবাড়ির অবস্থান এই ডুয়ার্সেই। স্থানীয় মানুষেরা এখানে পাহাড়ের উপর ছোটো ছোটো ঘর তৈরি করে বসবাস করতেন। আর সেই ঘরের জানালা দিয়েই দেখা যেত বিস্তৃত পাহাড়শ্রেণি। সাহেবদের এই দৃশ্য মন কাড়ল। তাঁরাও এই জায়গায় কটেজ তৈরি করলেন।
তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টি
তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টির একটি অংশ
বিলাসবহুল শয্যা, তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টি
ইকো পর্যটনের এক আদর্শ স্থান এই তিলাবাড়ি। পায়ে হেঁটে জায়গাটি উপভোগ করা যায় বেশ। পাহাড়ি পথে শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ মনে জাগায় আনন্দ। এছাড়া জিপ ভাড়া করে কাছেপিঠে কয়েকটি জায়গাও ঘুরে দেখতে পারেন। এখান থেকে জিপ সাফারি করে যেতে পারেন গরুমারা জাতীয় উদ্যানে। শাল, সেগুন, শিরিষ, শিমুল, বাঁশ গাছের বিশাল অরণ্য এটি। রয়েছে প্রচুর অর্কিড। ভারতীয় গণ্ডার, গৌড়, এশিয়ান হাতি, ভালুক, চিত্রল হরিণ, সম্বর হরিণ এবং আরও কত প্রাণীর দেখা মিলবে। এখানে ময়ূর, কাঠঠোকরা, বুলবুলি, ফিঙে, ইন্ডিয়ান হর্নবিলের মতো নানা পাখি থাকে। গরুমারায় কয়েকটি ওয়াচটাওয়ার আছে। তার মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত যাত্রাপ্রসাদ। সেটি থেকে আপনি জঙ্গলের অসাধারণ ভিউ পাবেন।
আরও পড়ুন
কালিম্পং – মেঘের কোলে অর্কিডে মোড়া শহর
তিলাবাড়ি থেকে মূর্তি নদী খুব কাছে। এই নদীর কাচের মতো স্বচ্ছ জলে পা ডোবালে মনের সব অবসন্নতা দূর হয়ে যায়। তবে জলে স্রোত আছে। সাবধানে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে পারেন। আশেপাশে আরও বেশ কিছু দেখার জায়গা রয়েছে। ভারত-ভুটান সীমান্তের গ্রাম বিন্দুতে যেতে ভুলবেন না। সময়-সুযোগ মতো ঘুরে আসুন সানতালেখোলা, সামসিং, রকি আইল্যান্ড। ডুয়ার্সের বিখ্যাত চা বাগানগুলোতেও যেতে পারেন। গাছ থেকে চা পাতা তোলা, তারপর সেই পাতার প্রক্রিয়াকরণ –নিজের চোখে দেখতে পাবেন সবই। এইভাবে অংশ নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে শুরু হওয়া চা পর্যটনে। স্থানীয় মানুষদের শিল্প-সংস্কৃতিও আপনাকে মুগ্ধ করবে।
নেচার ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টার
নেচার ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টারের আরেকটি দৃশ্য
তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
