পাহাড়ি নদী আর বনে ঘেরা রূপকথার গ্রাম সামসিং

বাংলা-ভুটান সীমান্তের এই জনপদে পাবেন চোখ জুড়োনো নৈসর্গিক শোভা

ব্যস্ত শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছেন? নির্জন প্রকৃতির বুকে ছুটি কাটাতে চান? তাহলে চলুন উত্তরবঙ্গে। পাহাড়ি জনপদ সামসিংয়ে কয়েকদিন থেকে আসুন। প্রাণ খুলে উপভোগ করুন নিসর্গের সৌন্দর্য।

যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ

ডুয়ার্সের কথা মনে পড়লেই চোখে ভেসে ওঠে দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান, গভীর অরণ্য, বিশাল বিশাল পাহাড় এবং দুরন্ত সব পাহাড়ি নদী। রংবেরঙের ফুল, জানা-অজানা কত রকমের পাখির দেখা মেলে এখানে। আর প্রকৃতির বুকে নির্জন অবসর যাপনের সুযোগ তো আছেই। ডুয়ার্সের বুকেই ভারত-ভুটান সীমান্তে ছোট্ট গ্রাম সামসিং। পর্যটকদের ভিড় এখনও খুব একটা দেখা যায় না। 

শিবালিক পর্বতমালা  

সামসিংয়ের বেশিরভাগ বাসিন্দাই চা এবং কমলালেবু চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের আতিথেয়তাও মুগ্ধ করবে আপনাকে। খানিকটা দূরে গেলেই দেখতে পাবেন ছবির মতো সুন্দর মূর্তি নদী। নদীর ধারে পিকনিকও করতে পারেন। সূর্যাস্তের সময় এই নদী আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে। ‘চাখ লে ইন্ডিয়া’-র পিৎজা চেখে দেখতেই পারেন। গোটা অঞ্চলের সেরা পিৎজার দোকান এটিই। ছোট্ট গ্রামটির শিক্ষাব্যবস্থা বেশ উন্নত। সামসিং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গার্ডেনউড অ্যাকাডেমি, সাঁই শান্তি নিকেতনের মতো স্কুলগুলিতে চা বাগানের কচিকাঁচারা পড়াশোনা করে। 

পাহাড়ের গায়েই বসবাস 

সামসিং টি এস্টেট 

সামসিংয়ের আরেক আকর্ষণ পাইন, শাল, সেগুনের অরণ্য। বনে প্রচুর পাখি আর প্রজাপতির দেখা মিলবে। বিরল প্রজাতির কিছু প্রজাপতিও আছে। তাই ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। দূরে রয়েছে সুউচ্চ শিবালিক পর্বতমালা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভুটানের পর্বতশৃঙ্গও দেখা যায়। ছোটো ছোটো ঝরনাও চোখে পড়বে আশেপাশে। এছাড়া পাহাড়ে ট্রেক করার সুযোগ তো আছেই। সময় করে ঘুরে আসুন কাছাকাছি চা বাগানে। 

টেম্পালা ইন 

সামসিংয়ে পাবেন কমলালেবুর বাগান। শীতে এখানে কমলালেবুর উৎসব হয়। নিরিবিলি শান্ত এই জনপদ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গরাজ্য। তাহলে আর দেরি নয়, এখনই পরিকল্পনা করে ফেলুন, কবে যাচ্ছেন সামসিংয়ে।
 

কী কী দেখবেন
সামসিংয়ের কাছে আরও কয়েকটি পর্যটনস্থলে যেতে পারেন। নেওড়া উপত্যকা জাতীয় উদ্যান মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে। এক ঘণ্টায় সেখানে পৌঁছে যাবেন। ৩০ কিলোমিটার দূরে গরুমারা জাতীয় উদ্যান। পাহাড়ি গ্রাম সানতালেখোলা কিংবা রকি আইল্যান্ডেও ঘুরে আসতে পারেন।
কীভাবে যাবেন
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে করে নামতে হবে নিউ মাল জংশনে। কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস করে যেতে পারেন শিয়ালদহ স্টেশন থেকে। তারপর গাড়ি ভাড়া করতে হবে। মেটেলি হয়ে সামসিং ৩০ কিলোমিটার। অথবা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে বাস ধরতে পারেন। শিলিগুড়ি থেকে ৮২ কিলোমিটার দূরে এই গ্রাম। মিত্তাল বাসস্ট্যান্ড থেকে সারাদিনে মাত্র দুটি বাস সামসিং যায়। চাইলে যে কোনও বাসে করে চালসা চলে যান। সেখান থেকে শেয়ার জিপে বা গাড়ি রিজার্ভ করে পৌঁছে যাবেন সামসিং।
কোথায় থাকবেন
পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের সামসিং ফরেস্ট রেস্ট হাউস। যোগাযোগ করুন ৮১৪৫৫৮৪২৮৬ অথবা ৯৪৩৪৮৪০৬০৪ নম্বরে। বেশ কয়েকটি হোম স্টে, প্রাইভেট হোটেল এবং বেসরকারি লজও রয়েছে। তার মধ্যে একটি টেম্পালা ইন। ফোন নম্বর ৯৬৭৪৯০০১০১। নিজের মতো সময় বের করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসুন সামসিং।

 

সামসিংয়ের অবস্থান

Developed by DXDasia