প্লাস্টিকের বদলে শাড়ির হোর্ডিং : পরিবেশ বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ সুরুচি সংঘে

৭০তম বর্ষে সুরুচি সংঘের মাতৃ আরাধনায় পরিবেশবান্ধবের ছোঁয়া

দুর্গাপুজো মানে শুধুই চার দিন ধর্মীয় আচার-রীতি পালন, নতুন জামাকাপড়, খাওয়া-দাওয়া নয়। উৎসবের মেজাজে বলে যাওয়া আরও অনেক কিছুই। সেকারণেই তো কলকাতার দুর্গাপুজো তার বিশ্বজনীন ভূমিকা অটুট রাখতে পেরেছে, ২০২২-এ তালিকাভুক্ত হয়েছে ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে। তাই কলকাতার বড়ো-ছোটো পুজো কমিটিগুলোর দায়িত্ব বেড়েছে আরও কয়েক গুণ। ২০২৩-এ সেই কথাই মনে করিয়ে দিল দক্ষিন কলকাতার নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ পুজো কমিটি (Suruchi Sangha Puja Committee)। ৭০ তম বর্ষের পুজোয় ব্যানার ও ফ্লেক্স প্লাস্টিকের নয়, ক্যানভাস এবং কাপড়ের তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুরুচি সংঘ। এ বছর শারদ উৎসবে তাদের বার্তা ‘পরিবেশ বাঁচাতে প্লাস্টিক বর্জন করুন’।

প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগ স্বত্বেও এখনও যত্রতত্র প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে। সরকার কড়া পদক্ষেপ নিলেও অনেকেই এখনও পর্যন্ত সচেতন নয়। তাই একদিকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা আর অন্যদিকে বিভিন্ন সংস্থাকে প্লাস্টিক বর্জন করার বার্তা নিয়েই সুরুচি সংঘের এবারের পুজো ভাবনা। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্লাস্টিক বর্জন করে ক্যানভাস ও কাপড়ের ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সুরুচির সংঘের পুজো কমিটি  পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই প্লাস্টিক বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা স্বরূপ বিশ্বাস, শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা প্রমুখেরা

শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলার হাত ধরে এবারের মাতৃ বন্দনায় সেজে উঠছে সুরুচি সংঘ। ‘মা তোর একই অঙ্গে এত রূপ’ এই ভাবনাকে সামনে রেখেই এবারের পুজোর আয়োজন করছে কলকাতার অন্যতম বড়ো বাজেটের এই পুজো কমিটি। উদ্যোক্তাদের দাবি, সুরুচি সংঘের অন্যান্য বছরের সমস্ত রেকর্ড এবার ভেঙে দেবে সুরুচি সংঘ নিজেই। সুরুচি সংঘের পুজোয় যে কাপড় এবং ক্যানভাস ব্যবহার করা হয়েছে সেখানেও রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধবের ছোঁয়া রয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের পুজোয় থিম এবং থিম মিউজিকেও বড়ো চমক থাকবে। রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পুজো হিসেবে পরিচিত এই সুরুচি সংঘের পুজোর থিম এবং থিম সং-এর আত্মপ্রকাশ ঘটবে মহালয়ার দিন। পুজোর থিম সংয়ে গানের কথা, সুরকার ও গায়ক, সব ক্ষেত্রেই বড়ো চমক থাকবে বলে জানান স্বরূপ বিশ্বাস।

 

প্রসঙ্গত, এবার দুর্গাপুজোয় নয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। প্রতিমার স্থান পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রধান ২ পুজো, সুরুচি সংঘ ও চেতলা অগ্রণী। এর ফলে পথচারীদের যাত্রাপথের পরিবর্তন করা হতে পারে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।

এক্ষেত্রে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তা হল চেতলা অগ্রণীর ক্ষেত্রে পুরনো সেট আপ-এর চেয়ে প্রায় ১০ মিটার তফাতে প্রধান মণ্ডপের কাছে হবে বাইরে যাওয়ার পথ। দুর্গাপুজোর সময় চেতলা থেকে নিউ আলিপুর যাওয়ার গাড়িগুলিকে চেতলা লকগেট ব্রিজ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পথচারীদের জন্য ব্রিজের দুই দিকই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। দুর্গাপুর ব্রিজের উপর চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।

Developed by DXDasia