
উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি নেচার পার্কের সৌন্দর্য আপনার মন ভরিয়ে দেবে
ঘন অরণ্য, তার মধ্যে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে বুড়ি তোর্সা নদী। গাছে গাছে নানা রকমের পাখিদের ডাকে মুখরিত গোটা বনভূমি। নির্ভয়ে বিচরণ করে বেড়ায় বাঘ এবং চিতা। এটি তাদের নিরাপদ আশ্রয়।
দক্ষিণ খয়েরবাড়ি নেচার পার্কের প্রবেশদ্বার
অরণ্যের আহ্বান
মাদারিহাট থেকে মোটামুটি ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি নেচার পার্ক। ডুয়ার্স মানেই বিশাল বিশাল পাহাড়, গভীর বন, পাহাড়ি নদী আর ঝরনার অপরূপ সমাহার। প্রকৃতি নিজের খেয়ালেই সাজিয়ে তুলেছে ডুয়ার্সকে। এখানেই দক্ষিণ খয়েরবাড়ি, তারও সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেওয়ার মতোই। ভ্রমণার্থীদের খুব প্রিয় জায়গা এটি।
নেচার পার্কের একটি দৃশ্য
বুড়ি তোর্সা নদী
লোকালয়ে চলে আসা চিতাবাঘদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা হয় দক্ষিণ খয়েরবাড়ি নেচার পার্ক। ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট সার্কাসে বাঘ দেখানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিভিন্ন সার্কাস থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আনা হয় দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে। সুন্দরবনে কুমিরের কামড়ে পা হারানো রয়েল বেঙ্গল টাইগার রাজাও এখানে ঠাঁই পায়। উত্তরবঙ্গের চা বাগান এবং লোকালয়ে ধরা পড়া অনেকগুলি চিতাবাঘকে নিয়ে আসা হয়। পথ হারানো চিতাশিশুরা আশ্রয় পায় এখানে। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা সবাই আনন্দে থাকে। বন্যপ্রাণী গবেষণাকেন্দ্র হিসেবেও দক্ষিণ খয়েরবাড়ি পরিচিত হয়ে উঠেছে।
নেচার পার্কের মোহময় সৌন্দর্য
রাজকীয় চিতা
আরও পড়ুন
পাহাড়, জঙ্গল, নদীতে ঘেরা তিলাবাড়ি
দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে পর্যটকরা আসেন এইসব উদ্ধার পাওয়া পশুদের দেখতে। ব্যাটারি চালিত গাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর বন্দোবস্ত আছে। জঙ্গলের মধ্যে হাঁটার অভিজ্ঞতাও অনন্য। ইচ্ছে করলে বুড়ি তোর্সা নদীতে নৌকোভ্রমণে যাওয়া যায়। সময়-সুযোগ করে একবার আসুন এই নেচার পার্কে। সারা বছরই দক্ষিণ খয়েরবাড়ির শোভা থাকে মায়াবী। উদার প্রকৃতির বুকে খানিকটা সময় কাটালে শরীর-মনের সব ক্লেদ দূর হয়ে যাবে। আসবে নতুন সতেজতা।
দক্ষিণ খয়েরবাড়ি নেচার পার্কের অবস্থান
অরণ্য ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
