
জীবনস্মৃতি তথ্যচিত্রে কেমন ছিল আবহ সংগীতের নেপথ্য গল্প?

ইন্দ্রজিৎ: ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কবে, কীভাবে প্রথম সাক্ষাৎ?
প্রবুদ্ধ: ২০১১ সালের ১৮ জুলাই। ঋতু আমায় ফোন করেছিল। দিনটার কথা এখনও মনে আছে, কারণ ঠিক দু'দিন আগেই মাকে হারিয়েছি। ঋতু আমায় বলেছিল, নতুন একটা কাজ শুরু করছে, সেখানে আমাকে চায়। আমার পরিস্থিতিটা ঋতুকে বলে এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিলাম। তার পর ১৪টা দিন পেরিয়ে গেছে, ঋতু আবার ফোন করল। ওর বাড়ি গেলাম। আমায় বলেছিল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটা কাজ করছে, আমাকে স্ক্রিপ্ট শোনাতে চায়। ওর বাড়িতে পৌঁছে বেশ কিছু চেনা মুখ দেখতে পেলাম। সেদিনই ঋতু পড়ে শোনাল ‘জীবনস্মৃতি’র স্ক্রিপ্ট। পড়া শেষ হলে অনেকক্ষণ ধরে চলল স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক।
মনে আছে, ঋতু আমার মতামত জানতে চেয়েছিল। তখনই আমি নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি, তবে কয়েকটা ব্যাপার একটু অদ্ভুত লেগেছিল। মনে হচ্ছিল, ঋতুর ছবির বিষয়বস্তু হলো ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি’, রবীন্দ্রনাথ নন। ছবির একটি চরিত্র হলেন ঋতুপর্ণ স্বয়ং, এবং তিনি আগাগোড়াই ছবিতে রয়েছেন। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন চিত্র সম্পাদক অর্ঘ্যকমল মিত্র। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন ছিল, এই ছবিতে ঋতুপর্ণ ঘোষ কী করছে?
ঋতু বলে, সত্যজিৎ রায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আগেই একটি তথ্যচিত্র বানিয়ে ফেলেছেন। তবে রবীন্দ্রনাথের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আরও একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ ঋতুপর্ণকে দিয়েছে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। ঋতু বলেছিল, “ছবিটা যদি করতেই হয়, আমি আমার মতো করে করব। একই রকমের আরও একটা ডকুমেন্টারি বানিয়ে লাভ কী? নতুন কী থাকবে তাতে? একমাত্র তফাত হতে পারে ট্রিটমেন্টে। রবীন্দ্রনাথের কাজ বা তাঁর জীবন তো থাকবেই, সঙ্গে একটা প্যারালাল ধারা থাকবে, ৫০ বছর বয়সী ঋতুপর্ণ ঘোষের রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ছবি তৈরির গল্প।”
এখানে বয়সের তাৎপর্য এই যে রবীন্দ্রনাথ যখন জীবনস্মৃতি লিখছেন, তাঁরও বয়স তখন ৫০।
ইন্দ্রজিৎ: এই স্ক্রিপ্ট-রিডিং সেশনে তোর প্রাথমিক ধারণা কী ছিল? যে কোনো স্ক্রিপ্ট শোনার পর মনের মধ্যে একটা ছবি তো ফুটে ওঠেই। তার ওপর তুই ঋতুপর্ণর আগের কাজগুলোও দেখেছিলি নিশ্চয়।
প্রবুদ্ধ: আমি ওর আগের ছবিগুলোর সঙ্গে এই ছবিটার তুলনা করব না। কারণ ‘জীবনস্মৃতি’ একটি তথ্যচিত্র। তবুও ঋতুর মুখে স্ক্রিপ্ট, বা ভিস্যুয়াল ইমেজারির কিছুটা বিবরণ শোনার পর, দুটো কথা মনে হয়েছিল – এক, ও খুব নিশ্চিতভাবে জানে ও কী চাইছে, হাতড়ে বেড়াচ্ছে না। দুই, ওর ঝোঁকটা ছবির ভিস্যুয়াল দিকটা বা লোকেশনের ওপর, বা রবীন্দ্রনাথের জীবনবৈচিত্র্যের ওপর বেশি, বিশ্বকবি বা সঙ্গীতশ্রষ্টা হিসেবে তাঁর খ্যাতির ওপর নয়। আমার মনে হয়, ছবিটা তৈরি করার সময় রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, দর্শন, সমকালের তুলনায় তিনি কতটা এগিয়ে, এসব হয়তো ঋতুকে তেমন আকর্ষণ করেনি। বরং ও বারবার বলছিল ভিস্যুয়াল দিকটার কথা, যেমন হঠাৎ একটা ঝড় ওঠার দৃশ্য, বা খাঁচা থেকে টিয়াপাখি ডেকে ওঠার দৃশ্য, এই জাতীয়।
প্রবুদ্ধ ব্যানার্জী সাউন্ড টেকের সময় ঋতুপর্ণকে কথা বলতে বারণ করছেন
ইন্দ্রজিৎ: তুই কি তাহলে বলবি যে, ঋতুপর্ণ যেহেতু দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন, সেহেতু বিজ্ঞাপনে ভিস্যুয়াল প্যাকেজিংয়ের যে একটা বড় ভূমিকা থাকে, তার প্রভাব ওঁর ওপরেও পড়েছিল?
প্রবুদ্ধ: আমার মনে হয় না। ঋতুপর্ণ কেরিয়ার শুরু করেছিল বিজ্ঞাপন থেকে এটা ঠিক। তবে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় কাটায় সিনেমার জগতে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নিজের ছাপ রেখে যায় ঠিকই, তবে আজীবন সেই ক্ষেত্রে ছিল না। এই ব্যাপারটা আমি বুঝি, কারণ আমি নিজেও একটা সময় বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে সিনেমার দিকে ঝুঁকলেও ২০১১ সালে যখন ছবিটার কাজ শুরু হয়, তখন তো আমি ‘অ্যাডম্যান’ হিসাবেই পরিচিত ছিলাম।
আমি বলব ঋতুপর্ণর বিজ্ঞাপন করার অভিজ্ঞতা এবং শৃঙ্খলা ওর ছবিতে কাজে লাগিয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক ঋতু আয়ত্ত করেছিল বিজ্ঞাপন থেকেই। তবে ওর তথ্যচিত্রে ঋতু যা করতে চেয়েছিল, তা আরও অনেক গভীর। আমি বিশ্বাস করি, রবীন্দ্রনাথের মতো একজন আইকনের দর্শন বা দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা বোঝাতে গেলে যে কোনো ছবিই হোঁচট খাবে। এই ব্যাপারগুলো পড়ে যতটা বোঝা সম্ভব, ততটা ছবির মাধ্যমে দেখানো সম্ভব নয়।

আমার মনে হয় সেই কারণেই ঋতু ডক্যুড্রামা বানাতে চেয়েছিল। সেই কারণে কাদম্বরী বা দেবেন্দ্রনাথের চরিত্রে, বা রবীন্দ্রনাথের জীবনের চারটি পর্যায়ে, ও অভিনেতাদের ব্যবহার করেছিল। ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ডক্যুড্রামা মাধ্যমটা ঋতু গ্রহণ করেছিল। ও চায়নি অন্তহীন ভয়েস ওভার বসিয়ে একটা গুরুগম্ভীর তথ্যচিত্র বানাতে, যা দর্শকদের আকৃষ্ট করবে না, কারণ তাতে নতুন কিছু থাকবে না। এই ডক্যুড্রামা ফরম্যাট সত্যজিৎ রায়ও কিছুটা ব্যবহার করেছিলেন, তবে এটাকে ঋতু অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যায়, সঙ্গে জুড়ে দেয় এক সফল বাঙালি পরিচালকের রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ছবি তৈরির গল্প। এর ফলেই ওর জোরটা ছিল ভিস্যুয়ালের ওপর, রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়নের ওপর নয়।
তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথের জীবনের বিশাল ব্যাপ্তি মাত্র দুঘণ্টার মধ্যে দেখানো অসম্ভব। সত্যজিৎ রায় যেমন তাঁর তথ্যচিত্রে সংগীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ বা কবি রবীন্দ্রনাথের ব্যাখ্যা না করে, তাঁর উদার মানবতাবাদ, বা বিশ্ব শান্তির বার্তার ওপর নজর দিয়েছিলেন, সেইটা ফ্রেমবদ্ধ করেছিলেন। আমার মতে ঋতুপর্ণও এই একই পথ বেছে নিয়েছিল।
ইন্দ্রজিৎ: স্ক্রিপ্ট শোনার সময় কি মনের মধ্যে সাউন্ডস্কেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা কাজ করছিল?
প্রবুদ্ধ: একমাত্র এটাই মনে হচ্ছিল, এবং আমি ঋতুকে সেটা বলেছিলাম, যে ছবির মিউজিকের ভিত রবীন্দ্রসংগীত হবে না। রবীন্দ্রনাথের গান যদি ব্যবহার হয়, তবে মূল গানটাই হবে, কোনো পরিবর্তন হবে না। একটা ক্ষেত্রে অবশ্য এর অন্যথা হয়েছিল, কিন্তু সেকথায় পরে আসছি। আমার বক্তব্য ছিল, রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্ব নাগরিককে নিয়ে ছবি মানে ওয়ার্ল্ড সিনেমা, সুতরাং সেই ছবির সাউন্ডস্কেপও ব্যতিক্রমী হবে। ঋতুকে যখন এটা বলি, জানতাম না প্রতিক্রিয়া কী হবে, কিন্তু দেখলাম বেশ সহজেই মেনে নিল, আমাকে নিজের মতো করেই কাজ করতে বলল।
প্রথম দিকে ঋতুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমাকে কেন? আমি তো রবীন্দ্রনাথ বা তাঁর গানের বিশেষজ্ঞ নই। ঋতুর জবাব ছিল, আমার রবীন্দ্রনাথ বিশেষজ্ঞ না হওয়াই হলো একমাত্র কারণ। এর ফলে আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা নতুনত্ব থাকবে।
একদম শুরুতে ঋতু বলেছিল, কয়েকটা প্লেব্যাক গান দরকার। এর ফলে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো। ছবির একটা দৃশ্যে ছিল, ঋতু এবং তার টিম সদলবলে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনে গেছে। দৃশ্যটার কিছুটা ঠাকুরবাড়িতেই শুট করা হয়েছিল। বাকিটা সেট ডিজাইন করে শুট করা হয়েছিল। ঠাকুরবাড়ি ঘুরতে ঘুরতে ঋতু জানাল, ভানুসিংহের পদাবলির ‘গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে’ গানটা ও এই দৃশ্যে ব্যবহার করবে। অথচ স্ক্রিপ্টে এই গানের উল্লেখ নেই, অতএব আমি কিছুই জানি না। ঋতুর মধ্যে এই ব্যাপারটা ছিল, শুটিংয়ের চিরাচরিত প্রথা ভেঙে কাজ করার এই প্রবণতা। ওর শেষ কথা হতো, “আমি চাই এটা হোক”। অর্থাৎ সেটা করতে হবেই। কীভাবে হবে, সেটা তোর ব্যাপার।

যাই হোক, ঠাকুরবাড়ি পৌঁছেই ঋতু বলল, “শোন, আমি এই গানটা ব্যবহার করতে চাই।” ততদিনে আমরা একে অন্যকে ‘তুই’ সম্বোধন করছি। আমার কাজ হলো এমনভাবে গানটাকে তৈরি করা, যার ছন্দে ছন্দে ঋতু ঠাকুরবাড়ির বারান্দা দিয়ে হাঁটবে, এবং ওর দেখা হবে একেবারে ছেলেমানুষ রবীন্দ্রনাথ, এবং তার পর আরেকটু বেশি বয়সী রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে।
এর পর ও যে কথাটা বলল, সেটা আমার কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়েছিল সেই সময়। আমাকে ঋতু বলেছিল, এই গানের মধ্যে দিয়ে 'ভানুসিংহের পদাবলী'র বিরল নান্দনিক নির্যাসটুকু, বা ‘exotic essence’ বেরিয়ে আসবে। সুতরাং গানটাকে ভেঙে, ফের গড়ে, ঢেলে সাজাতে হবে। এর কারণ, ঋতু নিজেকে রাধার জায়গায় বসিয়েছিল। অন্যদিকে ছিলেন কৃষ্ণরূপী রবীন্দ্রনাথ। এই সুরের মধ্যে ক্রমশ একটা খেলা চলবে, যেখানে তাঁরা একে অপরকে দেখতে পাবেন।
একদম সত্যি কথা বলতে, শুনে মনে হয়েছিল, কী অদ্ভুত আইডিয়া। কিন্তু মানুষটার নাম ঋতুপর্ণ ঘোষ, যে ততদিনে নিজের একটা স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে, এবং রূপান্তরের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। এই দৃশ্যে শুধুমাত্র রাধাকেই দেখা যাবে, গোপিনীদের নয়। এবং এর ঠিক পরেই একটা ঝড় উঠবে। প্রেমের ঝড়, নাকি ভক্তির, না আবেগের, সেটা তর্কসাপেক্ষ, কিন্তু ‘গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে’র সুর থেকেই ঝড়ের সুর বেরিয়ে আসবে।
গোটা ছবিতেই কিছু মোটিফ ফিরে ফিরে আসে, যেটা আমার ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। যেমন প্রায় ৫০ বছর বয়সে এসে ঋতুপর্ণ ঘোষের পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হওয়ার কাহিনি, এবং সেই রূপান্তরের নেপথ্যে ওর একটা বিশেষ মানসিকতা, যার প্রভাব পড়ছিল ওর কাজের ওপর। এটা কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, তবে এর ফলে ওর কাজে যে নতুন একটা আঙ্গিক এসেছিল, তাতে আমি অভ্যস্ত ছিলাম না।
তবে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ঋতুপর্ণর অগাধ জ্ঞান তো ছিলই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ওর তীক্ষ্ণ মেধা এবং শিল্প বিষয়ে প্রখর অনুভূতিপ্রবণতা। এবং এই যোগফল ঋতুকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল।
ইন্দ্রজিৎ: এই সূত্র ধরে একটা কথা বলতে ইচ্ছা করছে… ঋতুপর্ণ গড়পড়তা বাঙালির চেয়ে রবীন্দ্রনাথকে অনেক বেশি উপলব্ধি করতেন। এই ছবিটা তাঁর কাছে একটা সুযোগ ছিল, রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনার গভীরতার সঙ্গে নিজের একাত্মতা প্রকাশ করার…
প্রবুদ্ধ: অবশ্যই। নাহলে কেন আর নিজেকে ছবির মধ্যে রাখবে? তবে এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল ঋতু যে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তার তীব্র শৈল্পিক প্রকাশ।
হেঁটে ঘরে ঢুকছেন ঋতুপর্ণ
ইন্দ্রজিৎ: এরপর গানটা নিয়ে তুই কী করলি?
প্রবুদ্ধ: প্রথমত, গানটাকে সোলো হিসেবে ব্যবহার করিনি। গোপিনীরা না থাকলেও একটা ভিড়ের ছাপ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, কাজেই কোরাস এলো। তবে কোরাসের মাঝখানে একটা ব্রেক দেওয়ার জন্য কৌশিকী চক্রবর্তীর গলায় তান ব্যবহার করলাম। কলাবতী রাগ ব্যবহার করলাম, যদিও মূল গানটা কলাবতীর কাছাকাছিও নয়, এবং সেই রাগে গানটাকে বসানোর জন্য একটা যাকে বলে 'টোনিক শিফট' দিলাম।
মূলত তিনটে যন্ত্র ব্যবহার করেছিলাম। গিটারের ষোলোটা লেয়ার নিয়ে খেলেছিলাম, টিউনিংটাই পাল্টে নিয়ে। যেহেতু ইউরোপিয়ান নোট প্যাটার্নে বাজাতে পারব না, তাই টেকনিকটা বদলে একটা সেতারের আবহ নিয়ে এসেছিলাম, ওই ঝংকারটা চাইছিলাম। পাশাপাশি, খোল, পাখোয়াজ এবং বাঁশিও ছিল।
‘জীবনস্মৃতি’র ঠিক আগেই ঋতু ‘চিত্রাঙ্গদা’ শেষ করেছে, যেখানে প্রচুর ঘুঙুর ব্যবহার হয়েছিল। সেই এক ট্রাঙ্ক ভর্তি ঘুঙুর আমাকে দিয়ে ঋতু বলেছিল, সুযোগমতো ব্যবহার করতে।
এখন ‘গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে’ রেকর্ড করা হয় দুটো স্টুডিওতে। একটাতে কণ্ঠস্বর এবং গিটার, আরেকটায় খোল, পাখোয়াজ, এবং ৬০-৭০ কেজি ঘুঙুর! ঘুঙুর ব্যবহার করেছিলাম দু'ভাবে। এক, সেগুলোতে সরাসরি আঘাত করে । দুই, ‘উইন্ড চাইম’-এর মতো। স্টুডিওর দুটো থামের মাঝখানে দড়ি বেঁধে, তাতে ঘুঙুর ঝুলিয়ে, বিভিন্ন জায়গায় মাইক্রোফোন রেখে ঘুঙুরের ওপর হাত চালালে যে আওয়াজটা হয়, সেটা রেকর্ড করতাম। গোটা একটা শিফট লেগেছিল স্রেফ ঘুঙুরের আওয়াজ রেকর্ড করতে।
ইন্দ্রজিৎ: রেকর্ডিংয়ে ঋতু থাকত?
প্রবুদ্ধ: শুধু গানের রেকর্ডিংয়ের সময় থাকত। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সময় নয়।
(চলবে…)




