
বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় উৎসববে আলোর রোশনায় মেতে উঠবে তিলোত্তমা
পুজো আসতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন। প্রায় তিন-চারমাস আগে থেকেই ক্লাবগুলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে উন্মাদনা-উদ্দীপনা। ক্লাবকর্তা থেকে থিমশিল্পী, দর্শনার্থী থেকে প্রতিমাশিল্পী- উত্তর বনাম দক্ষিণের লড়াই প্রতিবছরের মতোই জমজমাট। সমস্ত আবেগ, ভালোবাসা দিয়ে শিল্পীরা নতুন নতুন ভাবনায় হাজির করেন এক একটি থিম। যে শিল্প শুধুমাত্র পুজোর চারটে দিনে থেমে থাকে না। তার রেশ চলতে থাকে বছরের পর বছর। এককথায় শিল্পীদের ছোঁয়ায় যা হয়ে ওঠে অমোঘ। ২০১৯ সালের কলকাতা। আলোর রোশনায় মেতে উঠবে তিলোত্তমা। বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় উৎসব।
কালীঘাট মিলন সংঘের এবারের থিম ‘মনোভূমি’। মানুষের ভিতরে জমতে থাকা আবেগ কখনও হাসে, কখনও কাঁদে। কখন কী হবে, তা নির্ভর করে আশেপাশের পরিবেশের উপর। মণ্ডপে তাই ধাপে ধাপে দেখানো হবে হতাশা, আনন্দ, শান্তি, রাগ, স্বস্তি। আর এই সবকিছু পেরিয়ে দর্শক ধীরে ধীরে পৌঁছে যাবেন দেবীর কাছে, যেখানে অপেক্ষা করবে একটা স্বপ্নিল পরিবেশ।
দক্ষিণের অন্যতম বড়ো পুজো টালিগঞ্জ হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি। ৫৯তম বর্ষে এবারের বিশেষ আকর্ষণ হাজারিবাগের গ্রামের আদিবাসীদের হাতে আঁকা চিত্র। কলকাতা এই ধরনের চিত্রকলার সঙ্গে পরিচিত নয়। সেই কারণে লুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন অজেয় সংহতি। দুর্গাকে পরানো হবে খড়ের গয়না।
বালিগঞ্জের বিখ্যাত পুজো বালিগঞ্জ কালচারাল এবছর ৬৯তম বছরে পা রাখছে। দু’টি পরিবেশবান্ধব উপকরণ বাঁশ ও লোহা দিয়ে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। থাকবে বাঁশের তৈরি জালি। মরচে ধরা লোহায় পড়বে আলোর ছটা। এই পুজো প্রবীণ ও নবীনের মেলবন্ধন।
দক্ষিণের পাশাপাশি আমরা বেছে নিয়েছি উত্তরের বড়ো তিনটি পুজোকে। খান্নার বিখ্যাত নলিন সরকার স্ট্রিট এবছর ৮৭ বছরে পা রাখবে। এবারের থিম ‘কর্মই ধর্ম’। ধর্ম একটা শব্দ মাত্র, আসলে একজন মানুষ কাজ বা সৃষ্টির জন্যই অমরত্ব পান। এই ভাবনাই এবার উঠে আসবে। সর্বধর্মসমন্বয় ফুটিয়ে তুলতে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে মন্দির-মসজিদ-গির্জা।
উত্তরের বিখ্যাত পুজো টালা বারোয়ারি। এবার ৯৯ বছরে পা রাখল। এই ৯৯-কেই থিম করে বিষয়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনায় মোড়া ৯৯’। বিহার-ওড়িশা থেকে আনা হচ্ছে একধরনের বিশেষ ঘাস। ঘাস ছাড়াও থাকছে মাটি ও বাঁশের কাজ।
সুকিয়া স্ট্রিটের বৃন্দাবন মাতৃমন্দির ১১০ বছরে পা রাখছে। কলকাতার অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী পুজো এটি। এই মণ্ডপে দেখা যাবে নদিয়ার বাতকুল্লার আসন শিল্প, দিনাজপুরের বাঁশের কাজ, মেদিনীপুরের পটচিত্র, পুরুলিয়ার মুখোশ এবং বর্ধমানের শোলা। থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘একশো দশের ছোট্ট গলি, এই বাংলার কথা বলি’। প্রতিমায় থাকবে শোলার সাজ।
উত্তর বনাম দক্ষিণের লড়াই কখনোই থামবে না। বেশ শক্ত এবং জোরালো কণ্ঠেই পুজোকর্তারা বলতে পারেন, তাঁদের পুজোই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু পুজোর চার-পাঁচটা দিন দর্শনার্থীদের ভিড়ই বলে দেবে তাঁদের চোখে সেরার সেরা কোনটি। বাকিটা উল্লাসের। যে উল্লাস ধ্বনিত হবে বাংলার ঘরে ঘরে।
