
‘আমি বৃহন্নলা। নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।’
‘আমি বৃহন্নলা। নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।’ এমনই কিছু লাইন লেখা আছে দমদম তরুণ দলের এবারের দুর্গাপুজোর পোস্টারে। দমদমের বিখ্যাত এই পুজোর এবারের বিষয়- তৃতীয় লিঙ্গ। মহাভারতে পাণ্ডবপুত্র অর্জুন নারীর ছদ্মবেশে বৃহন্নলা নামে বিরাট রাজার কন্যা উত্তরার নৃত্যগীতের ভার নিয়েছিলেন। সেই বৃহন্নলা, যাঁরা প্রাচীন শিল্প-সাহিত্যে স্বসম্মানে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা আজ সমাজে সবচেয়ে বেশি ব্রাত্য? কেন সমাজের চোখে তাঁরা ‘প্রান্তিক’? তৃতীয় লিঙ্গের প্রসঙ্গ এলেই ভ্রূ কোঁচকায় মানুষ, তাদের বাঁকা চোখে দেখতে পাওয়া যায় হাসি-বিদ্রূপ। আজও প্রতিদিন তাঁরা লাঞ্ছনার শিকার হন। এই ‘অন্যরকম’ মানুষদের নিয়েই দমদম তরুণ দলের এই প্রয়াস দেখতে প্রতিবারের মতো এবারেও দর্শকদের ভিড় উপচে পড়বে।
এই পুজোয় এবারের ট্যাগলাইন, “আমরা দেখি চাঁদের আলো/ তোমরা দেখ কলঙ্ক।” বৃহন্নলাকে দেবীর রূপদান করবেন শিল্পী সনাতন দিন্দা। প্রতিমাশিল্পী তিনিই। মণ্ডপ সৃজনে অনির্বাণ। আলোক পরিকল্পনায় প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আবহ নির্মাণে শতদল চট্টোপাধ্যায়।
শিক্ষা মানেই যে শুধু পুঁথিগত পড়াশোনা নয়, স্বাধীনভাবে ভাবিত হওয়ার অভ্যাসও বটে। সেই অভ্যাস অনেকেই ধারণ করতে পারেন না। আজকের একুশ শতকেও তাই সমকামী কিংবা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অপমান সহ্য করতে হয়। বেছে নিতে হয় আত্মহননের পথ। এবারের দমদম তরুণ দলের এই প্রয়াস একপ্রকার প্রতিবাদও বটে।
