কিন্তু, বৈষম্যের বিরোধিতায় যদি বৈষম্য নেমে আসে?

লকডাউনের পরিস্থিতিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের সংখ্যা

বিজ্ঞানে যখন থিয়োরি লেখা হয়, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ‘প্রোপোজিশন’। ধারে কাছে বাংলা হল, বিবৃতি। যে সে বিবৃতি নয়, সংশ্লিষ্ট গবেষণার ফল বা গবেষণার সাম্ভাব্য ফলের পূর্বাভাসস্বরূপ হাইপোথিসিসের যে বয়ান তাই-ই হল প্রোপোজিশন। এই বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এই যে, বিবৃতি যদি কতগুলো অংশে বিভক্ত হয় তাহলে সেই অংশ যেন একে অপরের সঙ্গে স্ববিরোধীতায় না থাকে। থাকলে পুরো বিবৃতি বা প্রপোজিশনটিই ভুল। যেমন আমি বললাম, ‘আমি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, জার্মান, স্প্যানিশ ভাষা জানি, অর্থাৎ আমি দু’টোর বেশি ভাষা জানি না’। এই বাক্যটিকে একটি সম্পূর্ণ বিবৃতি ধরলে এবং ‘অর্থাৎ’ এই সংযুক্তিটির আগের ও পরের দুটি বাক্যকে যদি এই বিবৃতির দুটি বিবৃতাংশ ধরা হয়, তাহলে তারা স্ববিরোধীতায় অবস্থান করছে। ফলে পুরো বিবৃতিটিই ভুল।

নারী-পুরুষের শারিরীক-মানসিক লৈঙ্গিক সম্পর্কও এরকম একটা প্রোপোজিশন। একটা দাবি। দাবিটা কী? শিশ্ন নিয়ে জন্মালেই সে ছেলে, যোনি নিয়ে জন্মালেই সে মেয়ে। এটাই প্রাথমিক লিঙ্গ-শর্ত। তাই নামকরণ থেকে জামা কেনা, খেলনা পছন্দ থেকে সাজগোজ সবেতেই ছোটো থেকেই পুরদস্তুর এই দ্বিত্ব ভাব চোখে পড়ে। সমস্যা বাধে যদি বড়ো হয়ে সেই বাচ্চাটি সমাজের চাপিয়ে দেওয়া এই শারীরিক-মানসিক সম্পর্ক তত্ত্বটি মানতে না পারেন। না মানার কারণ একটাই— সে নিজে সেটা অনুভব করতে পারছেন না। তারা রিবেল করছেন বা তাদের অজান্তেই (কখনও বা জ্ঞানত) তাদের ব্যবহারিক জীবনেও এই দ্বন্দ্বের ছাপ পড়ছে। সমাজের বেঁধে দেওয়া লিঙ্গ-শর্তকে এরা অতিক্রম করছেন বা transcends করছেন তাই তাদের বলা হয় ট্রান্সজেন্ডার

নারী-পুরুষের শারিরীক-মানসিক দাবির মতোই আরেকটি দাবি আছে— উভয় লিঙ্গের জন্য কিছু আদর্শ ব্যবহার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেটা সাজগোজ থেকে কথাবলা, হাঁটাচলা থেকে বসা, কার কোনটা কাজ সবেতেই বিস্তৃত। কিন্তু এই ‘আদর্শ ব্যবহার পঞ্জিটি’ অত্যন্ত অস্বচ্ছ, আমাদের মাথায় ছাড়া এটা কোথাও লেখা নেই, ফলে যুগে যুগে নারীদের ওপর সমাজের পুরুষপান্ডারা তাদের মর্জি মতো জোরজুলুম চালিয়ে এসেছে, দেশ কাল ধর্ম অভেদে। আর পূর্বোল্লিখিত যাদের মন বিদ্রোহ করছিল, যারা তাদের এই শরীর নিয়ে খুশি ছিলেন না তারা? তাদেরকে সমাজ আরও হীনভাবে রেখে এসেছে। 

এটুকু আমরা জানি। এবার বিষয় হল, বিজ্ঞানেও অনেকসময় থিয়োরির প্রোপোজিশনে সীমাবদ্ধতা থাকে। অর্থাৎ থিয়োরি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও বোধগম্য ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা থাকে যা সেই থিয়োরি ব্যাখ্যা করতে অপারগ। যাদের বলা হয় ব্যতিক্রম। ‘কেন এই ব্যতিক্রম?’ সেই নিয়েও গবেষণা হয় বইকি। মূলত চেষ্টা করা হয় কী করে আগের থিয়োরির প্রোপোজিশনের গাঁটটিকে আলগা করে বা নতুনভাবে বলে আরও বেশি সংখ্যক প্রাকৃতিক ঘটনাবলীর ব্যাখ্যাস্বরূপ সেই থিয়োরিটিকে প্রস্তুত করা যায়। যাতে ব্যতিক্রমের সংখ্যা কমে। যে থিয়োরি যত ভালোভাবে যত বেশি সংখ্যক প্রাকৃতিক ঘটনাবলীকে ব্যাখা করতে সক্ষম সেই থিয়োরি তত বেশি ব্যবহারিক।  

যেকোনো থিয়োরির একটি ব্যতিক্রমই সেই থিয়োরির সীমাবদ্ধতা বোঝাতে যথেষ্ট। অতএব, সমাজে উপস্থিত ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরাই প্রমাণ করেন সমাজে প্রচলিত শারীরিক লিঙ্গ ও মানসিক লিঙ্গের যে অলঙ্ঘনীয় গাঁটছড়ার প্রপোজিশন তা সীমাবদ্ধ। কারণ তা দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। 

তাই, প্রশ্ন উঠেছিল শারীরিক ও মানসিক গাঁটছড়ার প্রোপোজিশনের ব্যবহারিকতা নিয়ে। বোঝা গেল আদতে শারীরিক লিঙ্গ ও মানসিক লিঙ্গ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটো সিস্টেম। একই কথা প্রযোজ্য যৌনাভিমুখতা বা সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের ক্ষেত্রেও (এটিও প্রাথমিক লিঙ্গ-শর্তের মধ্যে পড়ে)। তাই বলে এই নয় যে এই দুটি সিস্টেমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক বা correlation নেই। বরং correlationটিই তো এতদিন ধরে আসতে আসতে তৈরি করা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আদর্শ লিঙ্গের যে ধারণা সেটা তৈরিই হয়েছে জৈবিক শরীরের ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখার জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো এত বিজ্ঞান বোঝেন না। ফলে আমরা আমাদের থেকে আলাদা যারা, যারা পূর্বোল্লিখিত correlationটি দেখাতে পাচ্ছেন না তাদেরকে আলাদা করে দিয়েছি।

ঐতিহাসিকভাবে এটা ঘটে আসছে। তাদের ‘ছক্কা’ ‘হিজরা’ ‘হাফ লেডিস’ ‘হোমো’ ইত্যাদি নাম দিয়েছি। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মরেছে। একদিকে যেমন এদের আলাদা করা গেছে, তেমনই আমার যত না পাওয়া, যত মানসিক ও শারীরিক হেনস্তা, অপ্রাচুর্যতার বোধ এবং যৌন হতাশা তার সমস্ত রাগটা এদের ওপর উগরে দিতে পেরেছি। 

ট্রান্সজেন্ডাররা সংখ্যায় কম, বা বেশি হলেও অসংগঠিত, তাই মূলস্রোতের বিবৃতির বিরুদ্ধ-বিবৃতি তারা গড়ে তুলতে পারেনি। আজ তারা নিজেদের সংগঠিত করতে পেরেছেন কিছুটা। কিন্তু আজও তাদের সংগ্রামের অনেকটা অংশ খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের সংস্থান করতেই সীমাবদ্ধ। 

কিন্তু বিশ্বের এই করোনা-অতিমারির পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার দরকার পড়ছে কেন? পড়ছে এই কারণে, আপনারা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আছেন, তারা জানেন সেখানে এখন ইউটিউব-টিকটক একটি দ্বৈরথ চলছে। ইউটিউবার ক্যারি মিনাতি একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন টিকটকার আমির সিদ্দিকির একটি ভিডিওর জবাব স্বরূপ। সেই ভিডিওটিতে ক্যারি মিনাতি আমির সিদ্দিকিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে গিয়ে তাকে ‘বেটি’ ‘ছক্কা’ ‘মিঠা’(হিন্দি বলয়ে বলা হয় মূলত) ইত্যাদি বলে রোস্ট করেছেন। বলেছেন মিঠা, তাই মিষ্টির দোকানে দুশো টাকায় বিক্রি করে দেওয়া যাবে ইত্যাদি। শুধু তাই নয় ক্যারি অনেক নারীবিদ্বেষি কথাবার্তাও বলেছেন গালির অছিলায়। তিনি পরে লাইভে এসে এই যুক্তি দেখিয়েছেন গালাগালি কি কেউ এত ভেবে দেয় নাকি! ঠিক কথাই! 

সমস্যাটা এটুকু হলে এই প্রবন্ধটি লেখার দরকার পড়ত না। সমস্যাটা হচ্ছে, ক্যারি মিনাতির ভিডিওটি দু-একদিনের মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা নন-মিউজিক ভিডিওর তকমা পেতে চলেছিল। কিন্তু তার আগেই ইউটিউব হেট-স্পিচের আওতায় তার এই ভিডিওটি ইউটিউব থেকে ডিলিট করে দিয়েছে। এতে তার ভক্তরা বেজায় চটেছেন। তারা টিকটকারদের ওপর তো বিরূপ ছিলই, এখন যেহেতু এলজিবিটি গোষ্ঠী ক্যারির বিদ্বেষমূলক বাচনকে হাতিয়ার করে তার ভিডিওর বিরুদ্ধাচারণ করছেন তাই তার ভক্তরা এখন এলজিবিটি গোষ্ঠীর ওপরও ক্ষুব্ধ। এতে তাদের বিদ্বেষমূলক বাচন বেড়েছে বৈ কমেনি।

কলকাতার এলজিবিটি সম্প্রদায়ভুক্ত একজন ক্যারি মিনাতির এই ভিডিওর বিরুদ্ধে একটি ভিডিও তৈরি করে তাকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন যে ‘ডার্ক হিউমার’ আর ‘বুলিং’ এক জিনিস নয়। ক্যারির ভক্তরা সেই ভিডিওর তলায় এসে যা যা কমেন্ট করেছেন, তা কোনো মহিলার ভিডিওর তলায় করলে ‘রেপ থ্রেট’ দেওয়ার অপরাধে তারা এতক্ষণে জেলে থাকতেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই কাজকর্মে মহিলারাও আছেন। তাদের একজন আবার একজন সমকামীকে ছোটো করবেন বলে তার ইনবক্সে ‘দিদি’ সম্বোধন করে জানতে চেয়েছেন তিনি তার সঙ্গে 'শুতে' কত টাকা নেবেন। এখানেই থেমে নেই, আরেকজন ভক্ত একজন সমকামী ব্যক্তির মা’কে তুলে নিয়ে গিয়ে 'রেপ' করে দেবে এই হুমকিও দিয়েছেন। তার নামে সাইবার সেলে মামলা করার কথা বলা হলে, হুমকিদাতার মা এসে তার ছেলের কৃতকর্মের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চান ও অনুরোধ করেন তিনি যেন তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা না করেন। এটা তো মাত্র একটা উদাহরণ।

ক্যারি অত্যন্ত সফল একজন ইউটিউবার। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় এক কোটি, এই ঘটনার পর তা আরো বেড়েছে। আজকাল তাদের জন্য আরেকটা শব্দও ব্যবহার করা হয়— ‘সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার’ অর্থাৎ তিনি সমাজের একটা অংশকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। এটা যদি তার ক্ষমতা হয়ে থাকে, যে ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সে টিকটকারদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন, তাহলে তার বোঝা উচিৎ যে, ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে আসে দায়িত্ববোধ। এই দ্বৈরথের ফলে এলজিবিটি মানুষদের ওপর এই যে বিদ্বেষমূলক বাচন নেমে আসছে এবং সেটা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নেই, সেটা তাদের পরিবার পর্যন্ত চলে গেছে, এই দায়িত্ব কি ক্যারি মিনাতি অস্বীকার করতে পারেন?

৩৭৭ ধারার আংশিক বিলুপ্তির পরে আমরা সাময়িক সাফল্য পেলেও কোনোদিন ভাবিনি সমাজ আমাদের বুকে জড়িয়ে নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ভাবা হয়েছিল, লড়াইয়ের একটি ধাপ পার করা গেছে, আরও অনেকটা রাস্তা পার করতে হবে। ভাবা হয়েছিল, লড়াই কঠিন কিন্তু এখনকার জেনারেশন অনেক বেশি উদার, তাদের নিয়ে পথ চলা আগের সময়ের তুলনায় সোজা হবে। কিন্তু এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমরা কতটা ভুল ছিলাম। লড়াইয়ের ব্যাপারেও আর এই জেনারেশনের উদারতার ব্যাপারেও। 

লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের সংখ্যা। রিপোর্ট বলেছে শুধুমাত্র ফ্রান্সেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২%। আমেরিকাতেও কেসের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। ভারতে তাহলে কী অবস্থা হতে পারে তা আমাদের বুঝতে অসুবিধা থাকার কথা না। একই কথা প্রযোজ্য এলজিবিটি গোষ্ঠীর মানুষজনদের ক্ষেত্রেও। এই অতিমারির কালে তাদের অনেককেই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার স্বীকার হতে হচ্ছে। এর মধ্যেই সারা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে এলজিবিটি মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বাচনের নগ্ন প্রদর্শন ও উৎযাপন। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হবে তা বলাই বাহুল্য। চিন্তার কথা এই যে, লকডাউন সিচুয়েশনে যদি এভাবে থ্রেট আর ভারবাল-বুলিং চলতে থাকে, কে বলতে পারে, লকডাউন উঠে গেলে এই আক্রমণ শারীরিক আক্রমণ হয়ে নেমে আসবে না? তার দায় কি ক্যারি মিনাতি নেবেন?

নিরাশার কথা হল এই যে, এই ভক্তদের মনে এই নিয়ে ক্ষোভ আছে যে ভারতের একটি ভিডিও বিশ্বের সবচেয়ে-বেশি-দেখা ভিডিও হতে হতেও হল না। কিন্তু তাদের মনে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ ছিল না যে এই ভিডিওটিতে নারীজাতি এবং এলজিবিটি গোষ্ঠীকে একপ্রকার গালাগালির বেস হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আফসোসের কথা হল, ভিডিওটি ডিলিট হয়ে যাওয়ার পর যে ক্ষোভ তাতে মনে হয় ভারতের বিশ্বকে দেওয়ার আর কিছু ছিল না বা নেই, বিশ্বে ভারতকে এখন একটি হেটস্পিচ্‌ ভিডিওকে বিশ্বের-সবচেয়ে-দেখা-ভিডিও বানিয়ে জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করতে হবে।

প্রবন্ধের প্রথমে স্ববিরোধীতার কথা বলেছি। এখানেও একটি স্ববিরোধিতা আছে। কিছুদিন আগে একজন মহিলা সাংসদের পোশাক নিয়ে মন্তুব্য করে তীব্র বিরোধিতার স্বীকার হয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক দলের রাজ্য সম্পাদক। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রতিবাদের ন্যূনতম নেই। বৈষম্যের প্রকার ভেদে মূল কথা তো এই যে মানুষ মাত্রই সকলের বাঁচার এবং সুস্থভাবে বাঁচার সমান অধিকার প্রাপ্য। যখন কিছু মানুষ এই অধিকার ভোগ করেন, আর কিছু মানুষ করেন না তখন তাকে আমরা বলি বৈষম্য। কিন্তু বৈষম্যের বিরোধিতায় যদি বৈষম্য হয়? প্রশ্ন থাকলো। প্রশ্ন থাকলো, মহিলা সাংসদ সমাজের মূলস্রোতের প্রাথমিক লিঙ্গ-শর্ত মেনে চলেন বলেই কি তিনি বৈষম্যের স্বীকার হলে তার বিরূদ্ধে প্রতিবাদ হয়, আর এলজিবিটি গোষ্ঠীর লোকেরা লিঙ্গ-শর্ত মানেন না বলেই, তারা বৈষম্যের শিকার হলে কিংবা রেপ-থ্রেট পেলে সেটা নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হয় না? বৈষম্যের বিরোধিতাতেও তাই আমরা বৈষম্যের স্বীকার?

মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবিঃ শুভম সেনগুপ্ত (বঙ্গদর্শন আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত)।

Developed by DXDasia