
দূরের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে আসা উচ্চ ক্ষমতার অতিবেগুনি রশ্মি ধরা পড়েছে ভারতের উপগ্রহে
বিগ ব্যাংয়ের পর সৃষ্টি হল পদার্থ, কিন্তু মহাবিশ্ব তখনও অন্ধকারে ঢাকা। প্রথম আলোর জন্ম কীভাবে হল? সেই রহস্য উন্মোচনে নতুন দিশা আনলেন বাঙালি বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে একদল গবেষক।
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ অ্যাস্ট্রোস্যাটের টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে বহু দূরের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে আসা উচ্চ ক্ষমতার অতিবেগুনি রশ্মি। এই রশ্মি নাসার টেলিস্কোপেও ধরা পড়েনি। তাকে বিশ্লেষণ করে এখনও পর্যন্ত মহাবিশ্বের প্রাচীনতম আলোর উৎসের খোঁজ পেলেন কনক সাহার নেতৃত্বাধীন গবেষক দল। এই বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত ‘নেচার অ্যাস্টোনমি’ পত্রিকায়। যদিও ভবিষ্যতে আরও প্রাচীন আলোর উৎসের সন্ধান পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যাস্ট্রোস্যাট উপগ্রহের টেলিস্কোপটি নির্মাণ করেছেন পুনের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইইউকা) এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের বিজ্ঞানীরা। দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীরা সেই টিমে আছেন। ৯৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ‘AUDFs01’ নামের এক নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে আসা রশ্মি ধরা পড়ে অ্যাস্ট্রোস্যাটের টেলিস্কোপে। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ২৮ ঘণ্টা ওই রশ্মিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। আইইউকার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর কনক রায় এই কর্মকাণ্ডের মূল কাণ্ডারী। গবেষণার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করতে লেগে যায় আরও দু’বছর।
বিজ্ঞানী কনক সাহা আদতে কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় অনার্স নিয়ে বিএসসি করেন। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয় নিয়ে এমএসসি পাশ করেন। ২০০৮ সালে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজ়িক্স থেকে। বিশ্বের নানা দেশে গবেষণা করেছেন, তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকায়। নক্ষত্রপুঞ্জের রহস্য বরাবরই তাঁর প্রিয়। সেই আগ্রহ থেকেই এমন যুগান্তকারী আবিষ্কার, যা পরবর্তীকালে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সহায়ক হবে।
