পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির ছেলে অর্কের নজিরবিহীন উদ্যোগ
চেনা শহর-মফস্সল-গ্রাম সব একটু একটু করে পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে মানুষ-পরিবার-বিচ্ছেদের সমীকরণ। মানসিকতাও বদলাচ্ছে ক্রমশ। পরিস্থিতি বদলালেও কিছু মানুষ তাঁদের যাপনে খুঁজে নিতে চান নতুন কিছু। এই একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তির উপায়। চেনা ছক থেকে সম্পূর্ণ বাইরে আসার চেষ্টা। এমনই কিছু চিন্তাভাবনা চলছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির ছেলে অর্ক পালের মধ্যে। অবাধ স্বাধীনতা আর কাজের অদম্য ইচ্ছে থাকলে সম্ভব হয়ে ওঠে অনেককিছুই। অর্ক পাল পেশায় ব্যবসায়ী। সেখান থেকে টাকা জমিয়ে আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে ক্রাউড ফান্ডিং- ‘আঁচল’ নামক একটি সংগঠনের জন্য টাকা জমিয়েছিলেন। ২৮ মে ২০১৯, বঙ্গদর্শনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অর্ক তাঁদের ‘আঁচল’-এর কাজ সম্পর্কে বিশদে জানিয়েছিলেন। তারপরেও তিনি অন্য একটি সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন।

প্রায় সাত-আট মাস আগের পরিকল্পনা। যাত্রা শুরু হয়েছিল মেমারির বাড়ি থেকে। একটি সাইকেলকে সঙ্গী করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, শিলিগুড়ি হয়ে এই মুহূর্তে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন অর্ক। দুই-তিনদিন থাকার পর ময়নাগুড়ি থেকে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন কোচবিহার। সেখান থেকে আসাম রাজ্যের রাস্তা। সাইকেলে চড়েই সারা বাংলা ঘুরে তিনি বার্তা দিয়েছেন প্রত্যেকে যাতে প্লাস্টিক বর্জন করে। সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। এখনও মানুষ প্লাস্টিকের পরিবর্তে কী ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সচেতন নয়। তাই অর্ক বাচ্চাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা তোলা যায়।

পরিবেশ রক্ষা ও প্লাস্টিকের ব্যবহার রুখতে সাইকেলে চেপে সচেতনতামূলক প্রচারে ময়নাগুড়ি ব্লকের সুভাষনগর জুনিয়র বেসিক স্কুল ও চূড়াভাণ্ডার ঝাঝাঙ্গি অ্যাডিশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকদিন প্রচার চালান অর্ক। সেইসঙ্গে গাছ লাগিয়ে সকলকে গাছ লাগানো ও গাছ রক্ষার বার্তাও দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের এক তারিখে সাইকেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। অর্ক বারবার বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের দুটি বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত। একটি হল, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা। দ্বিতীয়টি হল, গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যা। যেভাবে চারিদিকে গাছ কাটা হচ্ছে তার ক্ষতিপূরণে আমাদের প্রত্যেকেরই গাছ লাগানো উচিত। এই সচেতনতা প্রচারের উদ্দেশ্যেই বাড়ি থেকে বের হয়েছি”।

সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অর্কদের মতো হয়তো অনেকেই আছেন। নিজেদের উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের হয়ে কথা বলার লোক চিরকালই কম। কিন্তু এটা হার নয়। বরং সমাজের মূল স্রোতের বাইরে বেরিয়ে কীভাবে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায় আর কীভাবে ভালোবাসা যায়, মানুষকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করা যায়, তার একটা অন্যরকম সংজ্ঞা দিতে চাইছেন অর্ক।