June 23, 2023 | 8:02 AM

কীভাবে তৈরি হয় সূর্য মোদকের ঐতিহাসিক জলভরা? ঘুরে দেখালো বঙ্গদর্শন.কম

জলভরা সন্দেশের বয়স প্রায় ২১৩ বছর

ন্দননগরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য। যা আদি ও অক্ষয়। হুগলির চন্দননগর বললেই রসেবশে বাঙালির চোখে ভাসবে জলভরার চেহারা, আর জিভে আসবে জল। বাঙালিকে আক্ষরিক অর্থে রসময় করে তুলেছিল জলভরা সন্দেশ। তার যেমন আকার, তেমনই তার স্বাদ। মিষ্টির উপরের অংশ কিছুটা কামড় দিলেই টসটস করে জল বেরিয়ে আসবে। যেমনটা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২১৩ বছর আগে।

জলভরা সন্দেশ কীভাবে আবিষ্কৃত হল, তা কমবেশি সকলেই জানেন। জমিদার গিন্নির জামাই ঠকানো গল্প আজ ঘরে ঘরে সমাদৃত। মানকুণ্ডু বা চন্দননগর অঞ্চলের কোনও এক জমিদার বাড়ির মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে নতুন জামাইকে ঠকানোর জন্যই নাকি জমিদার গিন্নি স্থানীয় ময়রা সূর্য মোদক-কে একটি জামাই-ঠকানো মিষ্টি তৈরি করতে বলেন এবং তারই ফল আজকের জলভরা সন্দেশ।

স্থানীয় ও দূরদূরান্তের মানুষ আজও মুগ্ধ এই টইটম্বুর জলভরায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে সত্যজিৎ রায় – যুগ যুগ ধরে জলভরা ও মোতিচুরে মজেছেন বিখ্যাত বাঙালি। শোনা যায়, মোতিচুরের নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আরও কত কত গল্প বলেন শুভেন্দুবাবু, সত্যজিৎ রায় নাকি চন্দননগরের ওপর দিয়ে কোথাও গেলেই এই দোকানে দাঁড়িয়ে মিষ্টি কিনে নিয়ে যেতেন। এরকমই নাকি একবার বোলপুরে শ্যুটিং-এ যাওয়ার পথে সূর্য মোদকের দোকানে সন্দেশ খেয়ে তিনি অগ্রিম দশ টাকা জমা রেখে যান ফেরার পথে সন্দেশ নিয়ে যাবেন বলে।

আদি সূর্য কুমার মোদকের বর্তমান কর্ণধার তথা প্রপৌত্র শুভেন্দু মোদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, জলভরা ২০০ বছর আগে যেভাবে তৈরি হত, সেই প্রক্রিয়া নাকি আজও এক। দোকানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১০ সালে সূর্য কুমার মোদকের হাত ধরে। এই জলভরার বিশেষত্ব হল, এটি তৈরি হয় ক্রিমযুক্ত গরুর দুধের খাঁটি ছানা থেকে। শুভেন্দুবাবু আরও বলেন, গরুর দুধ দোয়ানো মাত্র সেই দুধ মাটির কড়ায় জ্বাল দিতে বসানো হয়। তারপর একটা খেজুর গাছের কাঠি বা তাড়ু দিয়ে অনবরত নাড়ানো হয়, যাতে তলায় ধরে না যায়। জলভরার জন্য পাক হয় কড়া।

দোকানে ঢুকতেই দেখা গেল, গরম গরম মিষ্টি থালাভর্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে কেমন হু-হু করে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ও দূরদূরান্তের মানুষ আজও মুগ্ধ এই টইটম্বুর জলভরায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে সত্যজিৎ রায় – যুগ যুগ ধরে জলভরা ও মোতিচুরে মজেছেন বিখ্যাত বাঙালি। শোনা যায়, মোতিচুরের নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আরও কত কত গল্প বলেন শুভেন্দুবাবু, সত্যজিৎ রায় নাকি চন্দননগরের ওপর দিয়ে কোথাও গেলেই এই দোকানে দাঁড়িয়ে মিষ্টি কিনে নিয়ে যেতেন। এরকমই নাকি একবার বোলপুরে শ্যুটিং-এ যাওয়ার পথে সূর্য মোদকের দোকানে সন্দেশ খেয়ে তিনি অগ্রিম দশ টাকা জমা রেখে যান ফেরার পথে সন্দেশ নিয়ে যাবেন বলে। কিন্তু অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরার কারণে আর মিষ্টি নিয়ে যাওয়া হয়নি। শুভেন্দু মোদক জানালেন, সেই দশ টাকা নাকি আজও জমা রাখা আছে সত্যজিৎ রায়ের নামে।

চন্দননগরের সূর্য মোদক-এর জলভরা তৈরির পদ্ধতি ও ইতিহাস খুব সংক্ষেপে ভিডিও করা হল বঙ্গদর্শন.কম-এর পাঠক ও দর্শকদের জন্য।

___________________
প্রতিবেদন ও সম্পাদনা: সুমন সাধু
ক্যামেরা ও সহযোগিতা: মৌনী মণ্ডল, তথাগত চৌধুরী
*বঙ্গদর্শনে শুরু হয়েছে চন্দননগর ভিডিও সিরিজ। এক্সক্লুসিভ সেই ভিডিওগুলি দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন
বঙ্গদর্শনের ইউটিউব চ্যানেল
 

Developed by DXDasia