
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন প্রস্তাব নেওয়া হয় সেভক-রাংপো প্রকল্পের
উত্তরবঙ্গ থেকে সড়কপথে যাঁরা সিকিম গিয়েছেন, তাঁরা বলতে পারবেন কতটা কষ্ট সহ্য করতে হয়। সেভক দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা খুবই ভয়াবহ। ফেরার সময়েও একই ঝক্কি। একটি রাস্তায় যানবাহনের সব চাপ পড়ে। বর্ষার সময় ধস নেমে এবং পাথর পড়ে আর চলাফেরার উপযোগী থাকে না। সঙ্গে ট্রাফিক জ্যাম তো লেগেই আছে। সব মিলিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত।
আমাদের উন্নত রেল ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ কিংবা ভারতীয় প্রশাসন – কেউই সিকিমে রেল যোগাযোগের কথা ভাবেননি এতদিন। ২০০৮-০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, তখন প্রস্তাব নেওয়া হয় সেভক-রাংপো রেল প্রকল্পের। কেন্দ্রীয় বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হয় সেই বছরই। রেলপথ চালু হলে সেভক থেকে রাংপো যেতে দু’ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।
প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রেলপথের ৪১.৫৫ কিলোমিটার থাকছে পশ্চিমবঙ্গে, বাকি ৩.৪১ কিলোমিটার সিকিমে। গভীর অরণ্য এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণ অঞ্চল দিয়ে চলেছে রেললাইন। কয়েকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে পরিবেশের ক্ষতি বেশিরভাগই আটকানো গিয়েছে। প্রধান স্টেশনগুলি হবে সেভক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেল্লি এবং রাংপো। এদের মধ্যে তিস্তা বাজার স্টেশন হবে ভূগর্ভস্থ।
গোটা রেলপথে ১৯টি সেতু এবং ১৪টি সুড়ঙ্গ থাকছে। যা মোট ৩৮.৫৫ কিলোমিটার জুড়ে, সফরের ৮৫ শতাংশ। সবথেকে বড়ো সুড়ঙ্গটি লম্বায় ৫,২৭০ মিটার। আর সবথেকে ছোটো সুড়ঙ্গ ৫৩৮ মিটার।

সেভক-রাংপো প্রকল্পের জন্য এখনও অবধি ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৪০৮৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৬৮২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে মার্চ ২০২০-র মধ্যে। ৬০৭ কোটি টাকা ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ। ১৪টি সুড়ঙ্গের মধ্যে ১২টির কাজ প্রায় শেষ। গোটা প্রকল্প নির্বিঘ্নে সমাপ্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছে।
এই রেলপথ চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটন তথা অন্যান্য শিল্পের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। দুই রাজ্যে যাতায়াতে অনেকটা সময় বাঁচবে। ট্রেন যাবে মহানন্দা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, কার্শিয়াং, দার্জিলিং এবং কালিম্পং ফরেস্ট ডিভিশনের ভিতর দিয়ে। তবে সেখানকার জীবজন্তুকে বিরক্ত করা হবে না কোনোভাবেই, নিশ্চিত করেছেন রেলের কর্তারা। ট্রেনে যেতে যেতে দু’চোখ ভরে দেখতে পাবেন মায়াবী প্রকৃতি। নানা রকম গাছপালা এবং জন্তু-জানোয়ার, যারা সহজে চোখে পড়ে না। এমন ভ্রমণের মজাই আলাদা।

