বিজ্ঞান আর শিল্পের বিভাজন আসলে কৃত্রিম, সাক্ষাৎকারে জানালেন চমক হাসান

বাংলাদেশের ভূমিপুত্র চমক একাধারে শিল্পী, ইঞ্জিনিয়ার ও গণিতবিদ

তিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। নেশায় শিল্পী। তিনি গান লেখেন, সুর করেন এবং গান করেন। সেইসব গান ইউটিউবের মাধ্যমে শ্রোতাদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। আবার মজার ছলে গণিত আর বিজ্ঞান শেখান, সেসবের জনপ্রিয়তাও কম নয়। পপ্যুলার সায়েন্সের উপরে লিখেছেন বই। ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা বাবা বেবি ও… (Baba, Baby O) তাঁর লেখা, সুর দেওয়া এবং গাওয়া ‘এই মায়াবী চাঁদের রাতে…’ গানটির কথা ভোলেননি কেউই। সে গান আজও অনেকের মুখে শোনা যায়। তিনি বাংলাদেশি শিল্পী ও গণিতবিদ চমক হাসান (Chamok Hasan)। একটা কৌতূহল ছিলই তাঁকে নিয়ে। কীভাবে তিনি বিজ্ঞান, গান এবং নিজের পেশাকে একসঙ্গে নিয়ে চলেন? বঙ্গদর্শন.কম-এর পক্ষ থেকে ফোনালাপ করলাম তাঁর সঙ্গে। তাঁর বিজ্ঞানভাবনা, শিল্পবোধ সব নিয়েই তিনি মন খুলে কথা বললেন। কথায় উঠে এল তাঁর কাজ, ভাবনা। ধরা পড়ল বিজ্ঞানচেতনা, শিল্পবোধ। আর বোঝা গেল, পেশার খাতিরে সুদূর আমেরিকাতে পড়ে থাকলেও জন্মভূমি আর মাতৃভাষার প্রতি টান কমেনি একফোঁটাও। এই নিখাদ বাঙালি শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ এবং গণিত ও বিজ্ঞান বিশারদের বোধ, চেতনা আর কথাবার্তা তাঁর গানের লিরিক্স আর সুরের মতনই পরিশীলিত এবং সহজ।

আপনার বিষয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। আপনি গানও লেখেন, সুর দেন, গান করেন। এই দুটো বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য আর বৈসাদৃশ্য আপনার মতে কী কী?

চমকঃ আমার মনে হয় সব বিষয়ই আসলে এক। এই বিষয়গুলি খুব আলাদা কিছু নয় আমার কাছে। আমরা যদি খুব খুঁটিয়ে দেখি, তাহলে দেখা যাবে সব বিষয়ই আসলে একটা সুতো দিয়ে বাঁধা। তা হলো মানুষের কল্পনাশক্তি। আমরা যখনই কোনও বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চর্চা করি, তা প্রথমে সৃষ্টি হয় আমাদের মনের মধ্যে। সেদিক থেকে গান আর গণিত খুব আলাদা কিছু নয় বলেই মনে করি। আর আমি আমার নিজের ভালোলাগা, ভালোবাসাকে এই দুটি বিষয়ের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। 

গানের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া তো অপেক্ষাকৃত ভাবে সহজ। কিন্তু বিজ্ঞান বা গণিতের মাধ্যমে সাধারণের কাছে পৌঁছে যাওয়া অনেক বেশি দুরূহ নয় কি?

চমকঃ আমার একটা ব্যক্তিগত ভালোলাগার বিষয় হলো গণিত। অনলাইনে গণিত শেখাই। গণিতে এমন অনেক বিষয় আছে, যা খুবই মজার আর আনন্দের। গণিতের বিভিন্ন প্যাটার্ন প্রকৃতির বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পাওয়া যায়। একটু মন দিয়ে খুঁজলেই তার দেখা মেলে। কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই যেভাবে গণিত শেখানো হয়, তাতে সাধারণের মধ্যে এই বিষয় সম্পর্কে একটা ভীতি তৈরি হয়। গণিতের নাম শুনলেই মানুষ একটা কাঠখোট্টা ব্যাপার কল্পনা করে। এই ধারণাকে ভেঙে ফেলার একটা ইচ্ছে ছিলো। গণিত নিয়ে আসলে অনেক মজা করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই ইউটিউবে গণিতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করেছিলাম। 

সংগীতচর্চার পাশাপাশি আপনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। গণিতচর্চাও করেন। পপ্যুলার সায়েন্সের বই-ও লিখেছেন। এতকিছু একসঙ্গে চর্চা করার সুবিধা আর অসুবিধা কী কী?

চমকঃ আমার মাধ্যম মূলত অনলাইন। ইউটিউব, ফেসবুক ইত্যাদি। বহুদিন আগে এই কাজগুলো শুরু করেছিলাম। তখন সবকিছুকেই কনটেন্ট ভাবার চল ছিল না। কিন্তু এখন সবই কনটেন্ট। ফলে সব বিষয়ের প্রোডাকশনের কাজ, ভিডিও এডিটিং একইরকম ভাবেই করতে হয়। এটা একটা সুবিধা যে, বিষয় পাল্টালেও আমাকে প্রোডাকশনের ভাবনা বা কাজগুলোকে পাল্টাতে হচ্ছে না। আর অসুবিধার জায়গা হলো সময়। আমাকে সময় ভাগ করে কাজ করতে হচ্ছে। একটা বিষয় নিয়ে চর্চা করলে নিরবিছিন্ন ভাবে কাজ করতে পারতাম। সেটা হচ্ছে না। কিন্তু তাও বলবো, একাধিক বিষয় নিয়ে চর্চা করায় আলাদা আনন্দ আছে। ভাবনার বৈচিত্র্য থাকে। বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া এবং তা মানুষের সামনে তুলে ধরার মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ আছে। সেটা খুবই উপভোগ্য। 

গণিতের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আপনি যে ভিডিওগুলি তৈরি করেন, সেগুলির বেশিরভাগই খুবই হালকা চালে, মজা করে উপস্থাপন করা। কিন্তু বেশিরভাগ গণিতবিদের ভিডিওগুলি বেশ গুরুগম্ভীর। তাঁদের থেকে আলাদা ভাবে গণিত উপস্থাপনের ভাবনা কীভাবে এলো?

চমকঃ আসলে গণিত নিয়ে প্রায় সবার মধ্যেই একটা ভয় কাজ করে। আমি সেই ভয়টাকেই ভাঙতে চেয়েছিলাম। কোনও বিষয়ের মধ্যে কিছু মজার উপাদান রাখা যায়, তবে তা এক ধাক্কায় অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়। মানুষ সেই বিষয়কে নতুন আঙ্গিকে দেখতে শেখে, উৎসাহিত হয়। ভিডিওগুলির বিষয় গণিতের উপাদানের গভীরতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু হালকা চালে উপস্থাপন করার কারণ একসঙ্গে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো আর গণিত সম্বন্ধে মানুষের ভয় ভাঙানো।


চমক হাসানের গণিতের ক্লাস

আপনি পপ্যুলার সায়েন্সের বইও লিখেছেন। পপ্যুলার সায়েন্সের বইতে বিজ্ঞানের সূত্রগুলি সহজ ভাষায় লেখা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারেন। কিন্তু বিজ্ঞান দিনের শেষে একটি টেকনিক্যাল বিষয়। সেগুলিকে সহজ ভাষায় বলতে গিয়ে বা সরলীকৃত করতে গিয়ে বিজ্ঞানের মূল ধারণাগুলি থেকে সরে আসার একটা ভয় থাকে। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করেন?

চমকঃ আমরা যে বিজ্ঞান চর্চা করি, সেই বিজ্ঞানের ভিত্তি হলো বিভিন্ন ধারণাজাত বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সূত্র আর বৈজ্ঞানিক মডেল। সেগুলির মাধ্যমে আমরা প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করি। এই মডেলগুলি আসলে শুরু হয় খুব সরল জায়গা থেকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলির চলনের কিছু সূত্র রয়েছে। যাদের আমরা আদর্শ গ্যাসের সমীকরণ বলি। কিন্তু বাস্তবে গ্যাসের কণাগুলি ঠিক ওইভাবে ব্যবহার করে না। আমরা তখন সূত্রগুলিকে ধীরে ধীরে জটিল করতে শুরু করি। বিভিন্ন নতুন ধারণা তার মধ্যে যুক্ত হয়, কিছু ধারণা বাদ পড়ে। বিজ্ঞান এভাবেই কাজ করে। তার মানে এই নয় যে, প্রথম সরলতম সূত্রটি পুরোপুরি ভুল হয়ে যায়। আমরা, প্রাথমিক ভিত্তিটির উপর আরও কিছু জটিল ধারণা জুড়ে দিই। এর সবথেকে ভালো উদাহরণ হলো নিউটনের গতিসূত্র এবং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ। আমি বইগুলির মাধ্যমে সেই সরল সূত্রগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। দেখানোর চেষ্টা করি, কীভাবে সরল একটা মডেল থেকে বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলি জটিলতার দিকে অগ্রসর হয়। আমার মনে হয়, কাউকে বিজ্ঞান বোঝানোর জন্য, মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই পথ অবলম্বন করাই উচিৎ। 

বিজ্ঞান পড়লেই যে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে কেউ, তেমনটা সাধারণ ভাবে দেখা যায় না। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

চমকঃ আসলে এর মূলে আমাদের দৈনন্দিন সংস্কৃতি লুকিয়ে আছে বলেই মনে করি। আমাদের বেড়ে ওঠা, রোজকার শিক্ষা থেকেই তো আমরা শিখি, আমাদের বোধ তৈরি হয়। সেই দীর্ঘদিনের ধারণা ভেঙে নতুন পথে হাঁটতে খানিক সাহস লাগে। সবাই বোধহয় সেই সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারেন না। যুক্তি দিয়ে বিচার করে বুঝতে পারেন যে কোনও একটি বিশ্বাস আসলে ভুল। কিন্তু চারপাশের মানুষ, সমাজ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে, সেসব ভেবে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন, দুটোর মধ্যে একটা সমন্বয় করে চলতে চান। তাই বিজ্ঞান পড়েও সবাই বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠতে পারেন না। তবে বিজ্ঞান থেকেই বিজ্ঞানমনস্কতা আসে। তাই এই দুটো ব্যাপার পুরোপুরি আলাদাও নয়।

আমার মতে শিল্প আর বিজ্ঞান, এই বিভাজনটা কৃত্রিম। ইউরোপের নবজাগরণের যুগে বা তার আগে এই বিভাজন এতটা প্রকট ছিল না। ধীরে ধীরে মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার বেড়েছে। মানুষও বিষয়গুলিকে বিভাজিত করে ফেলেছে। সেখান থেকেই মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শিল্প বা কলা হলো সংস্কৃতির অংশ, বিজ্ঞান একটা আলাদা বিষয়।

শিল্প যতটা মূলধারার সংস্কৃতির অংশ, বিজ্ঞান ততটা হয়ে উঠতে পারেনি। এ ব্যাপারে কী বলবেন?

চমকঃ আমার মতে শিল্প আর বিজ্ঞান, এই বিভাজনটা কৃত্রিম। ইউরোপের নবজাগরণের যুগে বা তার আগে এই বিভাজন এতটা প্রকট ছিল না। ধীরে ধীরে মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার বেড়েছে। মানুষও বিষয়গুলিকে বিভাজিত করে ফেলেছে। সেখান থেকেই মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শিল্প বা কলা হলো সংস্কৃতির অংশ, বিজ্ঞান একটা আলাদা বিষয়। বিজ্ঞান যে সংস্কৃতির অংশ, সেটা জানা, স্বীকার করা, তাকে সংস্কৃতির সংজ্ঞার মধ্যে রাখা, এসব জায়গাতে আমরা কিছু ভুল করে ফেলেছি বলে মনে হয়। তবে বিজ্ঞানকে যে মূলধারার সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠতেই হবে, সাধারণের কাছে শিল্পের মতনই জনপ্রিয় হয়ে উঠতেই হবে, তেমনও মনে করি না।     

‘বাবা, বেবি ও…’ ছবিতে আপনার লেখা আর গাওয়া গান ‘এই মায়াবী চাঁদের রাতে…’ বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবির জন্য প্রস্তাব কীভাবে পেলেন?

চমকঃ এই ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ অবাক করা একটা ঘটনা ছিলো। আমি, আমার স্ত্রী, আর সন্তানরা মিলে গান লিখি, সুর দিই, নিজেরা গাই অনেকদিন ধরেই। নিজেদের শখেই। এই গানটির শুরুও সেভাবেই। গানটি সোশ্যাল সাইটে দেওয়ার পর বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। সিনেমাটির গল্পলেখক জিনিয়া সেনের কাছেও। পরবর্তী সময়ে তিনি এবং ছবিটির প্রযোজক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে, তাঁরা গানটিকে সিনেমাতে রাখতে চান। জিনিয়াদি বলেন, আমার গানটি শুনেই ওঁর মাথায় এই গল্পটি আসে। এভাবেই পুরো বিষয়টির সূত্রপাত।

চমক-বহ্নির কণ্ঠে ‘এই মায়াবী চাঁদের রাতে’

এপার এবং ওপার বাংলার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে স্বতন্ত্র গায়ক, গীতিকার, সুরকারদের সু্যোগ পাওয়া নিয়ে কী বলবেন?

চমকঃ আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একেবারেই যোগ্য ব্যক্তি নই। আমি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একেবারেই যুক্ত নই। তবে এটুকু বলতে পারি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের সুযোগ পাওয়া উচিৎ। কিছু মানুষ পাচ্ছেন বলেও মনে হয়। আশা করি, ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরও বাড়বে, দুই বাংলাতেই।

আপনারা এতবছর আমেরিকায় থেকেও বাংলার সংস্কৃতিকে ভোলেননি। আপনার স্ত্রী ফিরোজা বহ্নি বঙ্গদর্শন.কম-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমেরিকায় জন্মালেও, আপনাদের মেয়ে ছোটোবেলায় ইংরেজি একেবারেই বলতে পারত না। আপনারা বাড়িতেও বাংলাতেই কথা বলেন নিজেদের মধ্যে। বিদেশে থেকেও বাঙালিয়ানাকে কীভাবে উদযাপন করেন?

চমকঃ বাংলা আমার নিজের ভাষা, নিজের দেশ, নিজের সংস্কৃতি। আমাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, চারপাশের মানুষ, সবকিছুর মধ্যেই তা জড়িয়ে রয়েছে। আমার আর আমার স্ত্রীয়ের পরিচয় আর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি এই ভাষা আর সংস্কৃতি। আমরা নিজেদের সবথেকে বেশি প্রকাশ করতে পারি বাংলা ভাষাতেই। বাংলা ভাষা আমাদের কাছে আবেগের এবং ভালোবাসার। আমার স্ত্রী বহ্নি লিখতে খুব ভালোবাসে। ও আগের বছর একটা বই লিখেছিল, নাম ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। আমাদের বড়ো মেয়ে বর্ণমালার জন্ম আর বেড়ে ওঠা নিয়ে। আমরা চাই, আমরা যা কিছু লিখি, বলি তা যেন আমাদের মেয়েরা বুঝতে পারে, আমাদের আবেগকে ধরতে পারে। তাই ওদেরও ছোটোবেলা থেকে বাংলা শেখানো হয়েছিল। ফলে ওরা ছোটোবেলায় শুধু বাংলাই বলতে পারত, ইংরেজির দু-একটা শব্দ ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারত না। স্কুলে ভর্তি করার সময় তাই একটু ভয়ই হয়েছিল। আমরা শিশু-বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলি। তাঁরা অভয় দেন। তাঁরা জানান, শিশুরা যে কোনও ভাষা খুব তাড়াতাড়ি শিখতে পারে। আর একাধিক ভাষা শেখা শিশুদের পক্ষে খুব উপকারী। এখন আমার সন্তানরা দুটি ভাষাই স্বচ্ছন্দে বলতে পারে। মোটকথা, আমার কাছে নিজের ভাষা, সংস্কৃতিকে স্মরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আমরাই যে বাঙালিয়ানা উদযাপন করছি, তা কিন্তু নয়। আরও অনেকেই নিশ্চয়ই করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোরিয়া টাউন বলে একটা জায়গা আছে। যেখানে কোরিয়ান মানুষজন থাকেন। তাঁরা কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি বলার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে কোরিয়ান ভাষার চর্চা করেন। আসল কথা হলো নিজের ভাষার প্রতি আবেগ, ভালোবাসা।

Developed by DXDasia