
‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে গোরা চরিত্রে গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন স্যমন্তক
চরম দাবদাহের পর কলকাতার শরীর ভিজেছে সামান্য বৃষ্টিতে। হাঁসফাঁসানি কমেছে মানুষের। এমনই এক সন্ধেয় বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী স্যমন্তক সিনহার সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত হল দক্ষিণ কলকাতার এক ক্যাফেতে। ক্যাফের আবহজুড়ে মৃদুলয়ে বেজে চলা ব্লুজ় আর আমাদের টেবিলে ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চা-কে সঙ্গী করে শুরু হল কথোপকথন। বলা ভালো আড্ডা। আড্ডার বিষয় অবশ্যই গান। বাংলা মৌলিক গান, রবীন্দ্রনাথের গানের পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলল বিশ্ব সংগীতের হালহকিকত। স্যমন্তকের গান প্রথম শুনি ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে। সেখানে প্রধান চরিত্র গোরার জন্য অন্যধাঁচে রবীন্দ্রনাথের গান গাইত যে যুবক, তাঁর নামই স্যমন্তক। পরবর্তীকালে তাঁর গান জনশ্রুত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গান ছাড়িয়ে মৌলিক গানেও একটা পরিচিতি তৈরি হয়েছে তাঁর। আরেক প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ীর সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন নিজেদের মতো। বিদেশে প্রায়ই থাকে নানান অনুষ্ঠান। জনপ্রিয়তার সঙ্গে এসেছে বহু তীর্যক মন্তব্যও। রবীন্দ্রনাথের গান নাকি তিনি অপমান করছেন! এসবের মধ্যেই সদ্যজাত অ্যালবাম ‘উল্টো কথা কই’ (রবীন্দ্রসংগীত অ্যালবাম)-এ রবীন্দ্রনাথের গান স্বরলিপি মেনে গাইলেও ম্যানারিজমগুলো আলাদা হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। ব্যবহার করেছেন হালআমলের লোফাই। ‘এ পরবাসে রবে কে’-র অ্যারেঞ্জমেন্টে যে জলোচ্ছ্বাস যোগ করেছেন, তার আঙ্গিক আর প্রকাশভঙ্গি দুটোই হয়ে উঠেছে ব্যতিক্রম। ‘এক্স=প্রেম’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘বায়নাবিলাসী’ এখনও বাজছে প্রচুর গানবিলাসী মানুষের মুঠোফোনে। এসবের মাঝেই তাঁকে প্রশ্ন করা, বাংলা গানের আদৌ কি কিছু হচ্ছে? এপ্রিলের শেষ সন্ধ্যায় আড্ডা জমল বেশ।
• ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে গোরার গলায় পরীক্ষামূলক রবীন্দ্রনাথের গান। তারপর সেটাই কি সিগনেচার স্টাইল হয়ে গেল?
চরিত্রের জন্য ওরকমভাবে গান গাওয়াটা ডিম্যান্ড ছিল। সে সময় একটা অ্যালবামও করেছিলাম, যেটা গোরার ধাঁচেই ছিল। তখন আমাদের ব্যান্ড থেকে সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর আটটা ছড়া নিয়ে কাজ করছিলাম। সেটা রিলিজ হওয়ার পর বুঝলাম মানুষ আমার থেকে অন্য কিছু আর শুনতে চাইছেন না। আর আমার কাছে কোনো চয়েসও ছিল না। মনে হয়েছিল এখন এটাই করা যাক, তাহলে পরে মানুষকে বেশি করে মৌলিক গান শোনাতে পারব। কিন্তু ততদিনে মৌলিক গানের কনসেপ্টটাই পাল্টে গিয়েছে। মৌলিক গান বেশি সিনেমায় প্রাধান্য পাচ্ছে। এর অনেক বছর পর আমি কিন্তু ওই গায়কি থেকে খানিক সরে এসেছি। রবীন্দ্রভারতী থেকে এমএ করি রবীন্দ্রসংগীতে। সেখানে একেবারে শুদ্ধ মতে গান শেখানো হয়। তবে এটা ঠিক যে, এখনও অনেক অনুষ্ঠানে গোরার গানের অনুরোধ আসে এবং আমি বলেই দিই যে, ওই চরিত্রের মতো করেই গাইছি। ওটা একটা চরিত্রের দরকারে করা হয়েছিল শুধুমাত্র। সেই দরকারটা এখন মিটে গেছে।

গানের ওপারে-র রেকর্ডিং-এ স্যমন্তক
• তখন নিশ্চয় নানান তীর্যক মন্তব্য এসেছিল!
প্রচুর। একবার আমায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ডাকা হয়েছিল একটা কনফারেন্সে। সেখানে প্রচুর সমালোচনা করা হয় আমাকে। এমনকি আমার সহশিল্পীদেরও নানান কথা শুনতে হয়েছে। একজন বিখ্যাত গায়ক আমাকে অপমান করেন ২০১১ সালে। পাশাপাশি এটাও ঠিক, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী সেই সময় গোরার গান পছন্দ করেছিলেন।
• এক অংশের শ্রোতার মত, বাংলা গানে কিচ্ছু হচ্ছে না। সবটাই কারোর দ্বারা অনুপ্রেরণা বা নকল করার চেষ্টা। মৌলিক বাংলা গানের অভাব বোধ করছেন অনেকেই। সত্যিই কি বাংলা গানে কিছু হচ্ছে না?
দ্যাখো, কিছুটা তো সত্যি। সারা পৃথিবীতে গানবাজনা নিয়ে এতকিছু হয়ে গিয়েছে, সত্যিই তো আর নতুন কী করব আমরা! এবং যে পরীক্ষানিরীক্ষাগুলো এখন আমরা বাংলায় করছি, সেগুলো বিদেশে হয়তো ষাট-সত্তরের দশকেই হয়ে গিয়েছে। এখানে একটা সময় বাংলা গানে বিপ্লব হয়েছে। কবীর সুমন, অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা, মহীনের ঘোড়াগুলি বা অন্যান্য ব্যান্ডের গান হয়েছে। তবে এখন একেবারেই যে ভালো গান হচ্ছে না, এটা নয়। দেখা যাচ্ছে, মৌলিক বাংলা গান করলে যেকটা ভিউয়ার হচ্ছে, একটা কভারড বা হিন্দি গান করলে তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রোতা পাওয়া যাচ্ছে। এই সহজ পথটা হয়তো অনেকেই অবলম্বন করছেন। ঝুঁকি নেওয়া কমে গিয়েছে। একমাত্র সিনেমার গান শুনছেন। শ্রোতা অন্যান্য বাংলা গান তেমন শুনছেন না হয়তো। আর নতুন মৌলিক গান সামনে না আসার আরেকটা কারণ হচ্ছে এফএম, টিভি আর কিছু মিউজিক কোম্পানি। তাঁরা যদি প্রমোট করার দায়িত্ব না নেন, তাহলে সংগীতশিল্পীরা উদ্বুদ্ধ হবেন কীভাবে! আমাকেই সুর দিতে হচ্ছে, মিক্স করতে হচ্ছে, রেকর্ড করতে হচ্ছে – অর্থাৎ আমাকেই সবটা করতে হচ্ছে। এই এফর্টটা সবাই দিতে পারেন না।
রবীন্দ্র সংগীতের ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর গায়কি আর কলকাতার গায়কি আলাদা। যেহেতু আমি ছোটো থেকে শুধুমাত্র রবীন্দ্রসংগীত গাইনি, অনেক ধরনের গান গাওয়ার একটা চর্চা ছিল, সেইজন্য হয়তো স্বতন্ত্র স্টাইল তৈরি হয়েছে। স্বরলিপি মেনেই গাইছি, কিন্তু গলার টেক্সচারের জন্য হয়তো আলাদা শোনাচ্ছে। আর একটা সত্যি কথা তোমায় বলি, আমি নিজেও আসলে বোঝার চেষ্টা করছি যে, আমার গায়কি কোথায় আলাদা।
• কীরকম গান সাধারণত শোনো তুমি?
রক মিউজ়িক, লোকসংগীত এবং নব্বইয়ের বাংলা মৌলিক গান আমার প্রথম প্রেম। এখন লোফাই মিউজ়িক খুব টানছে। আর সেটা নিয়ে কাজ করারও চেষ্টা করছি। তাছাড়া জ্যাজ় শুনি, খুব যে বুঝি তা বলব না, তবে কানে শুনতে ভালো লাগে।

স্যমন্তক-সাহানা
• তুমি রবীন্দ্রনাথের গান করো। যদিও তোমার আর বিশ্বভারতীর ঘরানা একেবারে আলাদা। আমি লক্ষ্য করেছি, রবীন্দ্রগানের ম্যানারিজ়মগুলো তুমি গায়কিতে আনছ না, অথচ স্বরলিপি মেনেই সবটা হচ্ছে। এটা কি খুব সচেতনভাবেই?
দ্যাখো, রবীন্দ্র সংগীতের ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর গায়কি আর কলকাতার গায়কি আলাদা। যেহেতু আমি ছোটো থেকে শুধুমাত্র রবীন্দ্রসংগীত গাইনি, অনেক ধরনের গান গাওয়ার একটা চর্চা ছিল, সেইজন্য হয়তো স্বতন্ত্র স্টাইল তৈরি হয়েছে। স্বরলিপি মেনেই গাইছি, কিন্তু গলার টেক্সচারের জন্য হয়তো আলাদা শোনাচ্ছে। আর একটা সত্যি কথা তোমায় বলি, আমি নিজেও আসলে বোঝার চেষ্টা করছি যে, আমার গায়কি কোথায় আলাদা।
তাছাড়া একটা এসরাজ বা তানপুরা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান আমার ভালোই লাগে। আবার গিটার বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীতও ভালোলাগে। তবে কিবোর্ডে একতারা বা দোতারা বাজিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়ার যে একটা চল আছে, সেইটা একেবারেই ভালোলাগে না।
• তুমি কি তোমার শ্রোতাদের চেনো? অর্থাৎ কাদের জন্য তুমি গাইছ বা কারা তোমার গান শুনছে?
নবীন এবং প্রবীণরা আমার গান শোনেন। মধ্যবয়সীরা আমার গান কতটা শোনেন বলতে পারব না। মৌলিক গান কলেজের ছেলেমেয়েরা বেশি শোনে আর রবীন্দ্রনাথের গান শোনেন প্রবীণরা বেশি।
• রবীন্দ্রনাথের গান নাকি মৌলিক গান — কোনটায় আস্থা বেশি?
অবশ্যই মৌলিক গান।
• কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান তোমায় অনেক বেশি পরিচিতি দিয়েছে।
হ্যাঁ, সেটা ঠিক। যে বয়স থেকে আমি রবীন্দ্র সংগীত গাইছি, তখনকার বোধ আর এখনকার বোধ সম্পূর্ণ আলাদা। বয়স আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে এখন রবীন্দ্রনাথের গান আরও বেশি ভালোবেসেছি। কিন্তু দিনের শেষে মৌলিক বাংলা গানেই আস্থা রাখি।
• সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘উল্টো কথা কই’-এ তোমার গাওয়া ‘এ পরবাসে রবে কে’ শুনে মনে হয়েছে নিজের গায়কি থেকে খানিক সরে এলে!
আমার তা মনে হয় না। এভাবেই তো আমি গান করি। ‘এ পরবাসে রবে কে’ অন্যান্য গানের চেয়ে বেশি ভালোবাসি বলে হয়তো গানের প্রতি দরদটা ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই গানটা বহু বছর কোথাও গাইনি। বহু বছর এই গানটার মধ্যে থেকেছি। এই গানটা আগে দুইবার স্টুডিওতে রেকর্ড করেছিলাম অ্যালবামের জন্য। কিন্তু কিছুতেই পছন্দ হচ্ছিল না। তারপর বাড়িতে নিজের মতো করে গাইলাম। নিজের স্পেসে বসে গানটা গাওয়ার পর একটা সন্তুষ্টি হয়েছিল। ‘উল্টো কথা কই’ অ্যালবামের অন্যান্য গানের চেয়ে এই গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট বা মেজাজ একটু আলাদাই বলতে পারো। আসলে গান একটা ছবি তৈরি করে। রবীন্দ্রনাথের এই গান আমার কাছে অনিশ্চয়তার গান। আবহে তাই অনবরত সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস। পাড়ে আসছে, ধাক্কা খাচ্ছে, আবার ফেরত যাচ্ছে।

• মৌলিক গানের চেয়ে কি কভারড গান শুনতে মানুষ বেশি পছন্দ করছেন?
হিন্দি সিনেমা দেখলেই সেটা বোঝা যায়। সেখানে মৌলিক গানের পাশাপাশি কিন্তু প্রচুর পুরোনো গানগুলোর রিমেক হচ্ছে। হয়তো সময়টাই এটা। এবং অবশ্যই এটা একটা সহজ পথ। ধরো, আমার বাবা-মা দাদু-দিদারা সুধীন দাশগুপ্ত, সলিল চৌধুরী, অখিলবন্ধু ঘোষের গান শুনে বড়ো হয়েছেন। সেই গানগুলো এখন যখন আমরা গাইছি, একটা নস্টালজিয়া তো আসছেই। সেগুলো সাধারণ মানুষ ভীষণ কানেক্ট করতে পারেন। ছবিতেও রবীন্দ্রনাথের গান নানাভাবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া আমার মনে হয়, প্রচার মাধ্যমগুলোর একটা বড়ো ভূমিকা থাকে ভালো মৌলিক গান শোনানোয়। সেখানে কিন্তু কভারড গানই বেশি বাজছে। আসলে মানুষের একটা কনফোর্ট জ়োন তৈরি হয়ে গেছে আর সেখান থেকে তাঁরা বেরোতে চাইছেন না। একটা নতুন কিছু শুনতে গেলে তাঁকেও ভিতরে ভিতরে প্রস্তুত হতে হবে। কোথাও হয়তো অনুষ্ঠান করতে গিয়েছি, সেখানে দেখা যাচ্ছে কভারড গানের অনুরোধ বেশি আসছে। কারণ শ্রোতা সেই গানের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও গাইতে পারছেন। এতে করে তিনি আনন্দ পাচ্ছেন।
দ্যাখো, কিছুটা তো সত্যি। সারা পৃথিবীতে গানবাজনা নিয়ে এতকিছু হয়ে গিয়েছে, সত্যিই তো আর নতুন কী করব আমরা! এবং যে পরীক্ষানিরীক্ষাগুলো এখন আমরা বাংলায় করছি, সেগুলো বিদেশে হয়তো ষাট-সত্তরের দশকেই হয়ে গিয়েছে। এখানে একটা সময় বাংলা গানে বিপ্লব হয়েছে। কবীর সুমন, অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা, মহীনের ঘোড়াগুলি বা অন্যান্য ব্যান্ডের গান হয়েছে। তবে এখন একেবারেই যে ভালো গান হচ্ছে না, এটা নয়।
• একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে, কলকাতার ক্যাফে-কালচারে বাংলা গান শোনা এবং শোনানো কি কমে আসছে?
সারা পশ্চিমবঙ্গেই বোধহয় বাংলা গানের চর্চা একটু কমে এসেছে। শুধুমাত্র বাংলা গান গাওয়া যায় এরকম ক্যাফে কলকাতায় কম। আমাকে ব্যক্তিগত স্তরে অনেক ক্যাফে থেকেই বলা হয়েছে, সব বাংলা গান গাইবেন না। তাছাড়া এখন এফএম খুললেই হিন্দি গান। তার ফলে কমবয়সীদের মধ্যে বাংলা গান না শোনার একটা অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। তুমি বলতে পারো, তাহলে ছবিতে তো বাংলা গান হচ্ছে। কিন্তু কটা মৌলিক গান হচ্ছে সেখানে!
অনেকেই বলেন নতুন কিছু পাচ্ছি না। কিন্তু নতুন কিছু পেতে হলে তো তোমাকে খুঁজতে হবে। সেই সন্ধানটা কি আমরা আদৌ করছি! বাজারের বাইরে বেরোতে গেলে খোঁজার চোখ থাকতে হবে।

• ফিল্মে গান না গাইলে তাকে গায়ক হিসেবে ধরা হয় না? ওটাই কি গায়ক হওয়ার শেষ মাপকাঠি?
ধরো ব্যাংকে যাচ্ছি, কেউ একজন আমায় ডেকে বললেন তুমি স্যমন্তক তো! আচ্ছা তোমাকে কেন আর টিভিতে দেখতে পাচ্ছি না! তুমি কি গান গাওয়া ছেড়ে দিলে? এই প্রশ্নের সম্মুখীন আমায় হতে হয়েছে অজস্রবার। সিনেমায় গান গাইলে টিভিতে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। তারপর মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে আমার মুখ। সেখানে আমার গানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে ‘ফেস ভ্যালু’। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ছবিতে গান গাইলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানো যায়। অন্যান্য মাধ্যমে সেই সুযোগ কম। সৃজিত মুখার্জির ছবিতে ‘বায়নাবিলাসী’ গাইলাম কিছু মাস আগে। সেখানে তো দেখতে পেলাম ছবির গান কত তাড়াতাড়ি শ্রোতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁরাই গানটাকে জনপ্রিয় করে তুললেন। কিন্তু নিজে যখন একটা গান প্রকাশ করছি, তার দশ শতাংশও মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এটা ঘটনা। এটাই হচ্ছে।
এটা বলতে কোনো সমস্যা নেই, বাংলা ছবিতে আমার গলাটার হয়তো দরকার পড়ছে না। এখন তো সংগীত পরিচালকদের হাতে সবটা নেই। তাছাড়া এখন অনেককিছুই সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক। আমার অত ফলোয়ারস নেই। তাই হয়তো আমার কথা কারোর মাথায় আসছে না। আমার গলা তাঁদের বিক্রয়যোগ্য বলে মনে হচ্ছে না হয়তো।
___________________
স্যমন্তক সিনহার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সুমন সাধু
