৬০-৭০ শতাংশ বাজেট কমছে, বাড়ছে সাবেকি একচালার পুজো
রাজধানী কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্য দুর্গাপুজো। প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় তার প্রস্তুতি। এই বছরটা যেন কেমন ফিকে হয়ে গেছে। সেই উদ্দীপনা আর নেই। কলকাতার দুর্গাপুজো ঘিরে ব্যবসা হয় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার। তাই উৎসব তো সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা যায় না। এবার পুজো উদ্যোক্তা থেকে শিল্পীরা প্রত্যেকেই খাপ খাওয়াতে চান নিউ নর্মালের সঙ্গে।
পুজোর প্রস্তুতি কোথায় কেমন! আসুন জানা যাক। কালীঘাট অঞ্চলের তিনটি বিখ্যাত পুজো বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘ, ৬৬ পল্লী ও নেপাল ভট্টাচার্য লেনের থিম অপু ট্রিলজি। সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এই প্রয়াস। বাদামতলার থিম পথের পাঁচালি, ৬৬ পল্লীর অপরাজিত আর নেপাল ভট্টাচার্য লেনে পাওয়া যাবে অপুর সংসারের ছবি। এই তিনটি মণ্ডপের পুজো দেখার জন্য গাড়ি থেকে নামার প্রয়োজন হবে না। সোজা ড্রাইভ–ইন পথে গাড়ি নিয়ে এক কিমি দূরত্বে থাকা তিনটি পুজোই অনায়াসে দেখে নেওয়া যাবে।
যোধপুর পার্ক ৯৫ পল্লীর পুজো এবার ট্যাবলোর মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরিয়ে দেখানো হবে। প্রতিমার আদলে একটি রেপ্লিকাও থাকবে ট্যাবলোতে। পুজোর দায়িত্বে শিল্পী সুশান্ত পাল। পুজোর থিম লৌকিক।
যোধপুর পার্ক সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এবার প্রতিমা সরিয়ে আনবেন পাড়ার ব্যাঙ্কোয়েটে। বাইরের কোনও দর্শক সেখানে ঢুকতে পারবেন না। রাস্তার ধারে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে পুজোর খুঁটিনাটি সব দেখানো হবে।
কাশী বোস লেনের ৮৩ তম বছরের পুজো আবার পুরোপুরি ডিজিটাল নির্ভর। একচালার সাবেকি প্রতিমা গড়ছেন পরিমল পাল। খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠান হয়ে গেছে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। পুজোর ক’টা দিনও নির্দিষ্ট অ্যাপ ও ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে পুজোর সব আচার–অনুষ্ঠান দেখা যাবে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে পুজো উদ্যোক্তারা প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ বাজেট কমিয়ে এনেছেন। সেইসঙ্গে বেড়েছে আড়ম্বরহীন সাবেকি একচালার পুজো। পুজো এবার এমনই। এই নতুন স্বাভাবিকত্বকে মেনে নিয়ে সমস্ত সর্তকতা অবলম্বন করে পালন করতে হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে।