এই প্রথম দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকছে শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয়

২৩১ বছরে পা দেবে এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো

কথায় আছে, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। বাকি আর মাত্র দুই মাস৷ কিন্তু করোনা ভাইরাস এক ঝটকায় পাল্টে দিয়েছে সামগ্রিক পরিস্থিতি৷ দর্শনার্থী থেকে পুজো উদ্যোক্তা, সকলের মনে একটাই প্রশ্ন— এবছর পুজো কি আদৌ হবে? 

ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউই। তাছাড়া দুর্গাপুজোর মতো উৎসব এবার এড়িয়ে চলাই উচিত। কিন্তু মন তো মানে না। ঠিক যখন একের পর এক মনখারাপের খবর আসছে, তখন কলকাতা তথা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দর্শনার্থীদের জন্য আরও একটি মনখারাপের খবর হল ঐতিহ্যবাহী শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো এবছর বন্ধ থাকছে। না, দুর্গাপুজো বন্ধ থাকছে না। দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকছে। সংরক্ষিত হচ্ছে মিডিয়া কভারেজ।

যদিও সমাধান বের করেছেন শোভাবাজার রাজবাড়ির ছোটো তরফের সদস্যরা। তাঁরা নিয়মকানুনের কিছু বদল এনে এই পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রথমবার দর্শনার্থীদের  রাজবাড়ির পুজোয় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পুজো প্রাঙ্গনে একমাত্র উপস্থিত থাকবেন বাড়ির সদস্যরাই। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের উপরেও। একেকটি সংবাদমাধ্যমের দুই জন করে কর্মী পাবেন প্রবেশাধিকার। এছাড়াও কাটছাঁট হচ্ছে দেবীর ভোগ ও মিষ্টি পদেও। চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে প্রতিমার ওজন কমানোর। থাকবে না ঢাকিদের প্রদর্শনী। ঢাক শোনা যাবে একমাত্র সাউন্ড সিস্টেমে। ঠাকুর নিয়ে আসা ও বিসর্জনের জন্য প্রতিবছর থাকেন ৩২ জন কুলি। কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেই সংখ্যাও।

শোভাবাজার রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ প্রতিমা নিরঞ্জন। কিন্তু এবছর ট্রলির সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উৎসব এখন অনেকখানি ভার্চুয়াল জায়গায় চলে গেছে। সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং ‘নিউ-নর্মাল’কে স্বাগত জানাতে এসব আমাদের মেনে চলতেই হবে।
 

Developed by DXDasia