দ্বিতীয় বছরে পা দিচ্ছে ‘চন্দননগর বিধানসভা উৎসব’
চন্দননগরের কথা বলেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে ফরাসি আমলের স্মৃতি, জগদ্ধাত্রী পুজো, আলোর রোশনাই কিংবা সূর্য কুমার মোদকের জল ভরা সন্দেশ। তবে, সম্প্রতি আরেকটি কারণেও বাংলার আম-জনতার মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে এই শহর। গত বছরের ২ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি সেন্ট মেরির মাঠে গোটা চন্দননগর জড়ো হয়েছিল। সেবারই প্রথম ‘চন্দননগর বিধানসভা উৎসব’ আয়োজিত হয়। আর, প্রথম আয়োজনেই তাক লাগিয়ে দেয় এই উৎসব। এমনিতেই সৃজন এবং মননের চর্চায় অবদান রেখে থাকেন এই শহরের অধিবাসীরা। এবছরও তাঁরা সৃষ্টিশীলতার রঙিন উদযাপনে মেতে উঠতে চলেছেন। ‘চন্দনগর বিধানসভা উৎসব ২০২০’ আয়োজিত হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।

চন্দননগরের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছেন। চোখ ধাঁধানো আলোয় রঙিন জগদ্ধাত্রী কার্নিভাল ইতিমধ্যেই সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই গত বছর ‘চন্দননগর বিধানসভা উৎসব’-এর পথ চলা শুরু হয়েছিল। চন্দননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগ এবং উৎসাহে বাংলায় সারা ফেলে দিয়েছিল এই উৎসব। চন্দননগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোর থেকে যার আমেজ অনেকটাই ভিন্ন। এবারও তিনি উৎসবের মাধ্যমে এই শহরের উদ্দীপনাকে প্রাণবন্ত রূপ দিতে প্রয়াসী হয়েছেন। গতবারের মতো এবছরও উৎসবের আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে চন্দননগর পৌরনিগম এবং ভদ্রেশ্বর পৌরসভা। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটও থাকছে সহযোগিতায়।
আগামী ৩ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি চন্দননগরের সেন্ট মেরির মাঠে মহাসমারোহে চলবে উৎসব। এই ক’দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। চন্দননগরবাসীকে মাতিয়ে তুলতে প্রথম দিন, সোমবার আসছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মাধুরী দে এবং গুরুজিৎ সিং। চন্দননগরের বিধায়ক এবং মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজেই একজন স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী। প্রখ্যাত শিল্পী জোজোর সঙ্গে তিনি সংগীত পরিবেশন করবেন ৪ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। ৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার থাকছেন লোপামুদ্রা মিত্র, রূপঙ্কর বাগচি এবং অরিত্র দাশগুপ্ত। শেষ দিন, ৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে যাত্রা ‘গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম’। মঞ্চায়নে ‘চৈতন্য অপেরা’। এছাড়া, প্রতিদিন স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান তো থাকছেই। গতবারের মতোই এবারের উৎসবেও চন্দননগর বিধানসভার কৃতি ব্যক্তিত্বদের প্রদান করা হবে ‘চন্দননগর গৌরব’ সম্মাননা।
এই উৎসবে সামিল হতে পারেন সবাই। আপনিও চলে আসুন, বন্ধু-পরিজনকে সঙ্গে আনুন। উৎসবে যোগ দিতে আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে চন্দননগরবাসী।
