যন্ত্র ও কণ্ঠ সংগীতের ধ্রুপদী সমারোহ
বিষ্ণপুরে গড়ে উঠেছিল বাংলার একমাত্র সংগীত ঘরানা। সম্ভবত ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ শতাব্দী নাগাদ। যদিও তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ১৭ শতকে। হিন্দুস্তানী মার্গ সংগীতের দুই ধারার একটি, অর্থাৎ ধ্রুপদে যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখায় বিষ্ণুপুর। এখানে ছিল মল্ল রাজাদের শাসন। প্রাচীন জনপদটি তাই মল্লভূম নামেও পরিচিত। ইতিহাস সাক্ষী আছে, বিষ্ণুপুর এক সময়ে ছিল পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।

মুঘল সম্রাট ঔরংজেবের আমলে দিল্লির দরবার থেকে বিষ্ণুপুরে চলে আসেন বাহাদুর খাঁ। তিনি ছিলেন তানসেনের বংশধর এবং সেনিয়া ঘরানার বিশিষ্ট গায়ক। কণ্ঠসংগীত ছাড়াও বীণা, রবাব, সুরশৃঙ্গারের মতো বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী। মল্লভূমের রাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহদেব তাঁকে সভাগায়ক নিযুক্ত করেন। বহু গুণী মানুষ বাহাদুর খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকেন। তাঁর অন্যতম প্রধান শিষ্য পণ্ডিত রামশঙ্কর ভট্টাচার্যকে বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন অনেক গবেষক।

আরও পড়ুন: পর্যটন সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াল বাংলা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে প্রত্যেক বছর মল্লভূমে আয়োজিত হয় 'বিষ্ণুপুর সংগীত উৎসব'। বাংলার নিজস্ব মার্গ সংগীত আজও জীবন্ত। তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এই উৎসবের মাধ্যমে। খাজুরাহো এবং কোনার্কের নৃত্য উৎসবের মতোই বিষ্ণুপুর সংগীত উৎসব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এবছর করোনা অতিমারির কারণে জাঁকজমক অনেকটাই কম। তবে সমকালীন হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সংগীতের সেরা ব্যক্তিত্বরা হাজির থাকছেন। থাকছে কণ্ঠ এবং যন্ত্র সংগীতের যৌথ সমারোহ।

এবছর জানুয়ারির ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে উৎসব। পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য, পণ্ডিত তন্ময় বসু, পণ্ডিত সন্দীপন সমাজপতি, পণ্ডিত দেবাশীষ ভট্টাচার্য, পণ্ডিত রোনু মজুমদার এবং আরো অনেক শিল্পী উপস্থিত থাকছেন। প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। শেষ দিন অবশ্য রাত ৮টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হবে কঠোরভাবে।
