বিষ্ণুপুর সংগীতের ধারা ছড়িয়ে পড়েছিল মুর্শিদাবাদেও!

১৯০৫ সালে মুর্শিদাবাদে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী প্রথম অবৈতনিক সংগীত বিদ্যালয় খোলেন

বাঁকুড়া জেলা ছাড়াও বিষ্ণুপুর সঙ্গীত ধারা আরেকটি জেলায় চর্চিত হয়েছে। সেই জেলাটি হল মুর্শিদাবাদ। আমাদের পর্যবেক্ষণে তাই মুর্শিদাবাদও গুরুত্ব পেয়েছে। আসলে ১৯০৫ সালে বাংলার মুর্শিদাবাদে সেখানকার মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী সেখানে প্রথম অবৈতনিক সঙ্গীত বিদ্যালয় খোলেন। সেটির অবস্থা বর্তমানে জীর্ণপ্রায়। অন্য মতে এটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮৯৮ সালে। সেখানেই তৈরি হয় বহরমপুর সঙ্গীত সমাজ বিদ্যালয়। এটি প্রথমে কাশিমবাজারে থাকলেও, পরে স্থানান্তরিত হয় খাগড়ার চৌরাস্তার ওপরে। এটির সন্ধান পাওয়া যায় জীর্ণ অবস্থায়। সেখানেই মহারাজের বিদ্যালয়ের সঙ্গীত শিক্ষক নিযুক্ত হন রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী। তিনি মহারাজের কাছ থেকে ১২৫ টাকা বেতন পেতেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত কোষ থেকে জানা যায় এই বিদ্যালয়েরই ভুবনেশ্বর বাগচী ‘অনন্ত সাগর মাঝে’ গানটি রেকর্ড হিসেবে প্রথম প্রকাশ করেন। রেকর্ড নম্বর পি- ৩৩৩৬। মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত গবেষক রমাপ্রসাদ ভাস্কর এবং লেখক কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত তাঁদের সংগ্রহ থেকে বহু গান তুলে দেন। যার মধ্যে ভুবনেশ্বর বাগচীর গান আছে।

এখানে রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামীর আরেকজন ছাত্র ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।  ১৯০৭ সালে কাশিমবাজার রাজ বাড়িতে প্রথম সঙ্গীত সম্মেলন বসলে সেখানে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিদ্যালয়ের আরেকজন ছাত্র ছিলেন গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী। বর্তমান জীর্ণতা নিয়েও এই মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজার রাজবাড়ির ভেতরে রয়ে গিয়েছে বিখ্যাত চৈৎ সিংহের দালান। এখানে বহু সঙ্গীতগুণী সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামীর কারণেই মুর্শিদাবাদে বিষ্ণুপুর ঘরানার ধারা লালিত পালিত হয় মহারাজের আনুকূল্যে। একটা দরবারি ঘরানা কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভিতর দিয়ে তার নিজস্ব অবয়ব গড়ে তুলেছিল সেটাই একটা দেখার মতো ইতিহাস।

 

Developed by DXDasia