পত্রিকাটি প্রকাশ করছে চন্দননগর স্পর্শ অ্যানিমাল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি
এই পৃথিবী যতটা মানুষের ঠিক ততটাই না-মানুষদেরও। আজকের হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীর বুকেও এই কথা মনে রেখে ভালোবেসে যারা ওদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে বন্ধুত্বের হাত, তারাই প্রতিনিয়ত পৃথিবীকে করে তুলছে আরও সুন্দর, আরও বাসযোগ্য। এই না-মানুষদের ভালোবেসেই তাদের বন্ধু হয়ে সমাজকে আরও একটু সুন্দর করে তুলছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চন্দননগর স্পর্শ অ্যানিমাল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। যারা প্রতিদিন চন্দননগর অঞ্চলের পথ-কুকুরদের খাওয়ানোই নয়, পাশাপাশি চন্দননগর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল-এর কুকুরদের চিকিৎসার দায়িত্বও তুলে নিয়েছে নিজেদের কাঁধে। এই ভালোবাসা আরও ছড়িয়ে দিতে এবার তাদের নতুন উদ্যোগ ভৌ-ভৌ – বাংলার প্রথম সারমেয় ম্যাগাজিন।

‘ভৌ-ভৌ’ সারমেয়দের নিয়ে লেখা প্রথম ত্রৈমাসিক বাংলা পত্রিকা। পথ-কুকুর এবং বাড়ির পোষ্য কুকুর তাদের মানসিকতা, তাদের যত্নআত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত সম্বলিত এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় এই বছরেরই চলতি মাসে। এই ধরনের পত্রিকার গুরুত্ব কতখানি? সম্পাদক সঞ্চিতা পাল এই প্রসঙ্গে বঙ্গদর্শন.কম-কে জানান, “নিজের পত্রিকা প্রকাশের স্বপ্ন বহুদিন ধরেই ছিল, প্রথমে ভ্রমণ ম্যাগাজিনের কথা ভাবলেও তারপর ভাবলাম ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ম্যাগাজিন থাকলেও পোষ্যদের নিয়ে কোনো ম্যাগাজিন নেই। আর তাছাড়া এখন অনেকেই এই প্রাণীদের ভালোবাসেন আর প্রাণীদের প্রতি মানুষের সচেতনতাও এখন অনেক বেড়েছে। তাই মানুষকে ওদের সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলতে এই ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছি। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মানুষ আমাদের সাহায্য করেছেন। পত্রিকাটির নামকরণ করেছেন গোপা রাণা এবং প্রচ্ছদ করেছেন শাশ্বত মুখোপাধ্যায়”। এছাড়াও কুকুরের এক্টোপ্যারাসাইট ইনফেস্টেশন ও তার ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করেছেন ডাঃ চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী, প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন অর্ণব দাস, আইন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন আইনজীবী মিতা বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ বিশেষজ্ঞরা। পত্রিকাটির সূচিপত্রের দিকে তাকালেই এর বিষয় বৈচিত্র্য এবং প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।
তবে শুধু সারমেয়দের নিয়ে কেন? এই প্রসঙ্গে সঞ্চিতা পাল জানান, “সব পশুদেরই ভালোবাসি, তাদেরও খেতে দিই, কিন্তু কুকুররা যেহেতু সবসময় রাস্তাতেই থাকে তাই ওদের অসুবিধা একটু বেশি হয়। তাই ওদের একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন”। শুধু খাওয়ানো নয় চন্দননগর ও পাশাপশি অঞ্চলের অসুস্থ কুকুরদের চিকিৎসা, শুশ্রূষা করা হয় এবং তাদের আশ্রয়ও দেওয়া হয়। শুধু পথ-কুকুর নয়, বাড়ির পোষ্যদেরও বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা, অসুস্থ অবস্থায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও কোভিডকালীন সময়ে গরু, হনুমানদেরও খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে বন দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা মেনে হনুমানদের খাওয়ানো বন্ধ করা হয়েছে। এবং প্যাকেটজাত খাবার হনুমানের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক তাই পাউরুটি, বিস্কুট এই ধরনের খাবার দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।

সারমেয়দের নিয়ে পত্রিকার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের উৎসাহ কেমন? সঞ্চিতা জানান, “মানুষ ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছেন। বিনোদন ও শিল্প জগতের অনেক তারকা উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন। এছাড়াও অনেকে এই পত্রিকাকে মাসিক পত্রিকা করার ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছেন, তবে এই মুহূর্তেই মাসিক পত্রিকা হিসাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” ভৌ-ভৌ পাওয়া যাচ্ছে কলেজ স্ট্রিটের এশিয়ান পাবলিকেশন ও অন্যত্র।
মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধুদেরও প্রাপ্য মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসাই ছড়িয়ে সমাজকে আরও সামাজিকতার পাঠ শেখাচ্ছে চন্দননগর স্পর্শ অ্যানিমাল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ছড়িয়ে পড়ুক আলো, ছড়িয়ে যাক ভালো।