নাগাল্যান্ড থেকে শিলিগুড়ির গ্রামে এসেছেন সারমেয়দের শৃঙ্খলা শেখাতে
নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বাড়ি কুনসাং ছোপেলের (Kunsang Chhopel)। নাগাল্যান্ড থেকে শিলিগুড়ির (Siliguri) প্রত্যন্ত এক গ্রামে এসেছেন সারমেয়দের শৃঙ্খলা শেখাতে। এমনকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেই সারমেয়রা চলে যাচ্ছে মানুষের বাড়ি বাড়ি। পৌঁছে যাচ্ছে নেপাল (Nepal), ভুটান (Bhutan) এমনকি বাংলাদেশেও (Bangladesh)। বাড়ির পোষা কুকুর যাতে হঠাৎ ভয় না পেয়ে যায় বা তেড়ে না আসে, তার জন্যই এই প্রশিক্ষণ। তাতে করে পরবর্তীকালে তাকে সহজেই পোষ মানানো যাবে।
কুনসাং ছোপেল কুকুরদের নিয়মিত ব্যায়াম করাচ্ছেন। হাঁটাহাঁটিরও বন্দোবস্ত করেছেন। কুকুরের শরীরে যাতে অতিরিক্ত চর্বি না জমে, তার জন্য প্রতিদিন সময় ধরে দৌড়ঝাঁপ ও বিভিন্ন খেলাধুলার বন্দোবস্ত করেছেন। দেখা যাচ্ছে ‘স্ট্যান্ড আপ’ বললে তারা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, ‘সিট’ বললে বসে পড়ছে, আবার ‘স্লিপ’ বললে ঘুমিয়ে যাচ্ছে বাধ্য শিশুর মতো।
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া মাটিগাড়ার পাথরঘাটায় রয়েছে প্রত্যন্ত গ্রাম নেহালুজোত। সেখানেই এই বিশেষ ‘ডগ ক্যানাল’। কুকুরদের নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কুনসাং ছোপেল।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণীটি
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া মাটিগাড়ার পাথরঘাটায় (Matigara – Patharghata) রয়েছে প্রত্যন্ত গ্রাম নেহালুজোত। সেখানেই এই বিশেষ ‘ডগ ক্যানাল’ (Dog Cannel)। কুকুরদের নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কুনসাং ছোপেল। কুনসাংয়ের বাড়ি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে। ছোটো থেকেই কুকুর ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা তাঁকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে। ডুয়ার্স (Dooars) লাগোয়া দলসিংপাড়ায় বহুদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর নিয়ে কুনসাং এবং তাঁর টিম কাজ করে চলেছেন।

কুনসাংয়ের বাড়ি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে। ছোটো থেকেই কুকুর ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা তাঁকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে।
যদিও লকডাউনের সময় এই পেশা ধাক্কা খায়। তাই আর্থিক সংকটে পড়ে কিছু কুকুরকে দত্তক দেন। তখন কুকুরের সংখ্যা ছিল ৯০। তা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৩০-এ। ডুয়ার্সের দলসিংপাড়া ছেড়ে কুনসাং চলে আসেন পাথরঘাটায়। সেখানেই এখন জার্মান, অস্ট্রেলিয়ান, তিব্বতি-সহ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুরদের পাঠ দেওয়া হচ্ছে সম্প্রীতির। শিখে নিচ্ছে কীভাবে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। তারা একসঙ্গেই থাকছে, ঘুমাচ্ছে, ব্যায়াম করছে। সন্তান প্রসব করলে তাদেরকেও ধীরে ধীরে শেখানো হচ্ছে সম্প্রীতির পাঠ। কুনসাং-এর বন্ধু হয়ে উঠেছে তারা।

নাগাল্যান্ডে থাকার সময়ই কুকুরদের নিয়মশৃঙ্খলা শেখানোর ক্লাস কীভাবে নিতে হয়, তা শিখে নেন। শুরুর দিকে বিদেশ থেকেও কুকুর এনেছেন তিনি। এখন আর তার প্রয়োজন পড়ে না। অনেকের বাড়িতে করোনার (Corona) সময় প্রিয়জনের বিয়োগ হয়। সেই বিয়োগ ব্যথা ভুলতে অনেকেই বাড়িতে কুকুরছানা কিনে আনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ওদের মতো হৃদয় মনে হয় আর কেউ জয় করতে পারে না। কুকুর ভালোবাসেন না এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল নয়। তবে কুকুর ভালোবাসেন এমন কোটি কোটি মানুষের কাছে কুনসাং ছোপেলের এই গল্প নিঃসন্দেহে আশার আলো যোগায়।