তাঁদের সংগঠন দুঃস্থ মানুষদেরও পাশে দাঁড়ায় সারা বছর
বরানগর এবং উত্তর কলকাতার কোনো পথপশু বিপদে পড়লেই ছুটে যান একঝাঁক তরুণ-তরুণী। বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। তাঁরা দুঃস্থ অসহায় মানুষদেরও পাশে দাঁড়ান নিয়মিত।

শর্মিষ্ঠা দাস নামের এক যুবতী দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অক্লান্তভাবে বরানগরের পশুপাখিদের সেবা করে চলেছেন। পাশাপাশি, কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে দুঃস্থ মানুষদের জামাকাপড় দেওয়া, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রভৃতি কাজ করে থাকেন। তাঁরই উদ্যোগে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর গঠিত হয় ‘বরানগর হেল্পিং হ্যান্ডস’ নামের এক সংগঠন।
পশুদের প্রাথমিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, কোথাও কোনো পশুর উপর নির্যাতন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া – ইত্যাদি কাজ সারা বছর এই সংগঠন নিষ্ঠার সঙ্গে করে থাকে। এছাড়া দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পুরোনো বই সংগ্ৰহ করে দেন, গরিব মানুষদের হাতে জামাকাপড় তুলে দেন তাঁরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অবশিষ্ট থাকা খাবার সংগ্ৰহ করে তা পৌঁছে দেন দরিদ্র মানুষদের কাছে।

লকডাউন চলাকালীন এই সংগঠনের পক্ষ থেকে চারটি থানার অন্তর্ভুক্ত বিশাল এলাকার কুকুরদের প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে মাংস-ভাত। গরিব কর্মহীন মানুষদের কাছে তাঁরা পৌঁছে দিচ্ছেন চাল, ডাল, আলু, সোয়াবিন, নুন, মুড়ি, চানাচুর, চিঁড়ে ভাজা, বিস্কুট, কেক। অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধেরও ব্যবস্থা করছে ‘বরানগর হেল্পিং হ্যান্ডস’।

এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা হলেন শর্মিষ্ঠা দাস, মধুরিমা চ্যাটার্জি, কাকলি দাস, প্রিয়াঞ্জনা কাঞ্জিলাল, শোভন বৈতাল, ঈশানি দাস, সৌম্যশ্রী সামন্ত, পৃথ্বীজিত মুখার্জি, অরিন্দম দাস, দীপান্বিতা চক্রবর্তী। এঁরা সবাই পড়ুয়া। শর্মিষ্ঠা দাস জানালেন, “যে আপনাকে কিছুই পরিশোধ করতে পারবে না, তার উপকার করুন। তাহলেই আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন”।