‘পথের পাঁচালি’-র চিত্রগ্রহণে ব্যবহৃত মিচেল ক্যামেরা স্বচক্ষে দেখে আসুন নন্দনে

নন্দনে চলছে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম-শতবর্ষ উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রদর্শনী

তকাল থেকে শুরু হয়েছে ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (27th KIFF)। সেখানে নন্দনে চলছে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম-শতবর্ষ (Centenary Year of Satyajit Ray) উপলক্ষ্যে একটি অসামান্য প্রদর্শনী। গতকাল সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায় (sandip Ray) এবং চিত্র-পরিচালক গৌতম ঘোষ (Goutam Ghosh) প্রদর্শনী উদ্বোধন করলেন। এই প্রদর্শনীতে শুধুমাত্র যে সত্যজিৎ-সৃষ্ট চলচ্চিত্রগুলি নির্মাণের তথ্য রয়েছে তাই নয়, ওঁর ছবিতে ব্যবহৃত পোশাক, ক্যামেরা, হাতে আঁকা পোস্টার, সত্যজিৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, সত্যজিতের হাতে লেখা কিছু অমূল্য সংগ্রহ এমন অসংখ্য কাজ দিয়ে সাজানো রয়েছে।

পথের পাঁচালি ছবির চিত্রগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত বিখ্যাত সেই মিচেল ক্যামেরা

সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) সম্পর্কে কিছু বলা বা লেখার জন্য একটিমাত্র প্রদর্শনী যথেষ্ট নয়। তাই এখানে চেষ্টা করা হয়েছে যতটা সম্ভব তাঁর সৃষ্টির বিভিন্ন দিককে ছুঁয়ে যাওয়া যায়। সত্যজিৎ যে শুধুমাত্র নিজের ছবির চিত্রনাট্য নিজে লিখতেন তাই নয়; গীতরচনা, সুর সংযোজনা, পোস্টার নির্মাণ, এমনকি ক্যামেরা চালানোর কাজও করতেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এই প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘পথের পাঁচালি’ (Pather Panchali) ছবির চিত্রগ্রহণে ব্যবহৃত মিচেল (Mitchel) ক্যামেরা। দীর্ঘ সেই ক্যামেরাটি নিজের চোখে দেখার সুযোগ মিলবে প্রদর্শনীতে।

সত্যজিৎ রায় নির্মিত বিভিন্ন পত্রিকার জন্য অলংকরণ, নামাঙ্কন

প্রদর্শনী ঘুরতে ঘুরতে চোখ পড়ে সন্দীপ রায়ের কিছু বয়ান। তিনি লিখেছেন, “আমাদের বাড়িতে প্রচুর বিদেশির আনাগোনা লেগে থাকত। এছাড়া বিদেশ থেকে অনেক চিঠিও আসত।” ছোটোবেলার এমন বহু অভিজ্ঞতা তিনি লিখেছেন এই প্রদর্শনীর জন্য।

“পথের পাঁচালি যতদিন করেছি, ততদিন আমি চাকরি ছাড়িনি। আমি চাকরিও করতাম, আবার শনিবার-রবিবার শুটিং করতাম। মাঝে ছুটি নিতাম।” – সত্যজিৎ রায়

‘পথের পাঁচালি’-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত সিনে সেন্ট্রাল আয়োজিত সত্যজিৎ রায়ের পূর্বাপর চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, “পথের পাঁচালি যতদিন করেছি, ততদিন আমি চাকরি ছাড়িনি। আমি চাকরিও করতাম, আবার শনিবার-রবিবার শুটিং করতাম। মাঝে ছুটি নিতাম।”

সত্যজিৎ রায়ের হাতে লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ

পথের পাঁচালির শট ডিভিশন

সিগনেট প্রেসে কাজ করার পর্বে সত্যজিৎ কয়েকটি বইয়ের অসামান্য অলংকরণ করেছিলেন। যেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পরমপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘নাম রেখেছি কোমলগান্ধার’, ‘কুমায়ুনের মানুষখেকো বাঘ’, ‘দুরন্ত দুপুর’ ইত্যাদি। প্রদর্শনীতে মিলবে সেই সমস্ত কাজের প্রথম কপি।

বিখ্যাত আমেরিকান চিত্র পরিচালক মার্টিন স্করসিজ (Martin Scorsese) সত্যজিৎ রায়ের কাজ সম্বন্ধে মন্তব্য করেছিলেন, “Ray’s magic, the simple poetry of his images and their emotional impact will always stay with me.” শুধু তাঁর কাছে নয়, সত্যজিৎ রায়ের মহা মূল্যবাণ কাজগুলি আমাদের প্রত্যেক সিনেপ্রেমীর কাছেই আজীবন থেকে যাবে।

ঘরে বাইরে ছবিতে ব্যবহৃত পোশাক

ঘরে বাইরে ছবির সংগীতের জন্য সত্যজিৎ রায়ের ব্যবহৃত সিন্থেসাইজার

চমৎকার এই প্রদর্শনীর আরও দুটি আকর্ষণ হল ‘ঘরে বাইরে’ (Ghare Baire) ছবিতে ব্যবহৃত নিখিলেশ-সন্দীপ-বিমলার কিছু পোশাক এবং ওই ছবির জন্য সত্যজিতের করা আবহ সংগীতের জন্য ব্যবহৃত একটি সিন্থেসাইজার।

সত্যজিৎ রায়ের জন্ম-শতবর্ষের শেষ লগ্নের এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ১ মে পর্যন্ত, নন্দনে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত অলংকরণগুলি করেছেন অভিজিৎ চক্রবর্তী।

Developed by DXDasia