উচ্চবিত্ত থেকে শ্রমজীবী বাঙালির বাংলা ছবি দেখার প্রতি অনীহা কেন বাড়ছে?

বাংলা ছবির হাল-হকিকত | ৩য় কিস্তি

ই পর্যন্ত | বিপন্ন জনজীবন থেকে তো একটাও “হাজার চুরাশির মা” বা “অপারেশন? বসাই টুডু” উঠে এলো না। নবারুণের ক্ষুরধার ভাষার প্রয়োগও আর কেউ করল না। বাদল সরকারের মতো এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারও আর দেখা গেল না, আবার অনুভূতির জগৎটাও দেউলিয়া হয়ে পড়ে রইল। এতো বছরেও তো আরেকটা “ফিরে এসো চাকা”-র কাছাকাছি কোনো কাব্যগ্রন্থ লেখা হয়নি বা অমলচন্দ, বলরাম বসাকদের মতো গদ্যের ফর্ম নিয়ে সেভাবে কেউ নাড়াচাড়া করেনি। কাজেই, আমাদের অভিসম্পাতের সবটুকু নিশ্চয়ই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রাপ্য নয়?

_________

বাংলা ছবির হাল-হকিকত | শেষ কিস্তি

আমি যে মফস্‌সলটিতে জন্মেছি ও বড়ো হয়েছি সেখানে আমার কৈশোর পর্যন্ত মোট তিনটি একক-প্রেক্ষাগৃহ ছিল। তার মধ্যে দুটিতে শীঘ্রই তালা পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত একটিই তার প্রায় চল্লিশ বছরের ঐতিহ্যের ভার কাঁধে নিয়ে কোনোক্রমে ধুঁকতে-ধুঁকতে এগোচ্ছিল। আমার কৈশোরের সঙ্গেই সেটিরও যবনিকা পতন ঘটে। কাজেই মফস্সলের সিঙ্গল স্ক্রিনে ছবি দেখার কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার হয়নি; যদিও কলকাতার বেশ কিছু সিঙ্গল স্ক্রিনে ছবি দেখেছি, যাদের মধ্যে কয়েকটি আজ দর্শকদের সমষ্টিগত স্মৃতিতে পর্যবসিত হয়েছে। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি তিন-তিনটি সিঙ্গল স্ক্রিন থাকা সত্ত্বেও কৈশোর পর্যন্ত সেগুলির চৌকাঠ মাড়ালাম না কেন? কারণটা খুব সহজ। এর দুটো দিক রয়েছে। প্রথমটি হল, একক-প্রেক্ষাগৃহগুলিতে আমাদের যাওয়া নিষেধ ছিল। পৃথিবীর যেকোনো শহরেই শ্রমিক শ্রেণি ও মধ্যবিত্তের বসবাসের জায়গাগুলি পৃথক হয় এবং পুঁজি ব্যতীত অন্য কোনো কিছুরই লেনদেন এই দুটি জায়গার মধ্যে হয় না। ঠিক এই কারণেই আমাদের, অর্থাৎ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলেমেয়েদের ওপর থিয়েটারে গিয়ে ছবি দেখার নিষেধাজ্ঞাটা জারি করা হয়েছিল; আমাদের চোখে ওই থিয়েটারের দর্শকরা ছিল ‘লুম্পেন’ দর্শক (কারখানার শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর, রিক্সাচালক এদের একত্রে ‘লুম্পেন’ বলাটা আমাদের বুর্জোয়া স্কুলিং -এর মাধ্যমে শেখানো হয়েছিল)। হলে না যাওয়ার দ্বিতীয় কারণটি হল, আমাদের ছোটোবেলা থেকেই টেলিভিশন বাড়ির প্রায় জলজ্যান্ত সদস্যে পরিণত হয়ে গেছিল। আর, কৈশোরের মাঝামাঝি ফিল্ম পাইরেসিও প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠল। মফস্‌সলের আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠা সাইবার ক্যাফেগুলিকে বললেই তারা অত্যন্ত অল্প মূল্যে দেশ-বিদেশের ছবি পেনড্রাইভে চালান করে দিত। সুতরাং, থিয়েটারে গিয়ে ছবি দেখার প্রয়োজনীয়তাটাই একরকম ফুরিয়ে গেল। আজকাল অবশ্য মনে হয় সেই সময় আমাদের চারপাশটা খুব বিচক্ষণভাবেই আমাদের প্রজন্মের সমষ্টিগত স্মৃতি থেকে সিঙ্গল স্ক্রিনের শোনা-স্মৃতিটুকুও যেন মুছে দিতে চেয়েছিল যাতে শ্রমিক শ্রেণির সঙ্গে আমাদের দূরত্বটা অক্ষত থাকে।

এই শতকের প্রথম দশকেই রাজ্যের ৮০০টি সিঙ্গল স্ক্রিনের সংখ্যা নেমে ৩৫০তে এসে দাঁড়িয়েছিল। সুতরাং, এই মুহূর্তে সংখ্যাটা কত হতে পারে সেটা আন্দাজ করে নেওয়া খুব কঠিন নয়। গত এক দশক ধরে গড় বাংলা ছবির মান যেভাবে নেমেছে তার সঙ্গে একটা সাযুজ্য রেখেই সিঙ্গল স্ক্রিনগুলোর সংখ্যাও কমেছে।

কয়েকদিন আগে সমাজমাধ্যমে একটি ভ্লগ হঠাৎ নজরে পড়ল। আমার বয়সই একটি ছেলে তার ক্যামেরায়, আমাদের জেলার এক দশক হল বন্ধ হয়ে যাওয়া – এককালের সবচেয়ে বড়ো – সিঙ্গল স্ক্রিনটির ভগ্নাবশেষ ঘুরে-ফিরে দেখাচ্ছে। ভাঙাচোরা প্রজেকশান রুম, শ্যাওলা পড়ে যাওয়া ব্যালকনিতে ওঠার সিঁড়ি, একাকী পড়ে থাকা বক্স – এসবই যেন অত্যন্ত চেনা এক অতীতের কথা বলছিল। এই অতীতের কোনো প্রত্যক্ষ স্মৃতি আমার না থাকলেও, ঘরোয়া আড্ডায় আগের প্রজন্মকে বেশ কয়েকবারই এই অতীতে ফিরে যেতে দেখেছি। এ যেন ফেলে আসা সময়ের ভগ্নাবশেষ, যাকে ইতিহাস এখনও পুরোপুরি ভুলে যেতে দিচ্ছে না… বারেবারে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই সময়টির দিকে। আসলে এই স্মৃতির টুকরোগুলো আমাদের সবার কাছেই গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ভাষায় এক-একটি “স্যাঙ্কচুয়ারি অব দি পাস্ট!”

এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া একক-প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যার কোনো পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য হাতের কাছে নেই। তবে, বছর দশেক আগের একটি গবেষণাপত্রে দেখছি বলা হয়েছে এই শতকের প্রথম দশকেই রাজ্যের ৮০০টি সিঙ্গল স্ক্রিনের সংখ্যা নেমে ৩৫০তে এসে দাঁড়িয়েছিল। সুতরাং, এই মুহূর্তে সংখ্যাটা কত হতে পারে সেটা আন্দাজ করে নেওয়া খুব কঠিন নয়। গত এক দশক ধরে গড় বাংলা ছবির মান যেভাবে নেমেছে তার সঙ্গে একটা সাযুজ্য রেখেই সিঙ্গল স্ক্রিনগুলোর সংখ্যাও কমেছে। অর্থাৎ, তথাকথিত ‘লুম্পেন দর্শক’ মুখ ফিরিয়েছে। আজকাল দেখি সংস্কৃতি-মনোজ্ঞ ভদ্রলোক বাঙালির প্রতিনিধি বুর্জোয়া শ্রেণিটি সিঙ্গল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে ক্রমাগত তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু বাংলা ছবির চরাচর জুড়ে যে শূন্যতা ও নিস্তব্ধতাটি বর্তমানে বিরাজ করছে তার জন্যে দায়ী কি এই শ্রেণিটিই নয়? বাংলায় ফিল্ম একজিবিশনের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যাবে এই শ্রেণিটির বরাবর প্রবণতাই ছিল যে সে তার নিজের ছবি দেখার জন্য আলাদা একটি স্পেস তৈরি করবে। অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণির থেকে সে বিছিন্ন হবে। এই স্পেসটি সে তৈরি করতে সক্ষমও হয়েছিল। মাখন ঝরে পড়া পপকর্ণ ও কফির গন্ধে ম-ম করতে থাকা মাল্টিপ্লেক্সগুলির সামনে এক দশকও সিঙ্গল স্ক্রিনগুলিকে টিকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন শ্রেণিটিই যখন নির্মাতার আসনটিও আগেভাগে দখল করল, তখন দেখা গেল সে তার নিজের শ্রেণির দর্শককেই ধরে রাখতে পারল না বেশিদিন। আর, অচিরেই হিন্দি-তামিল ছবি রাজ্যজুড়ে ফিল্ম প্রদর্শনীর ব্যবসাটি হাইজ্যাক করে নিল।

আসলে বাংলা ছবির রাজকোষ বরাবরই শহর কলকাতার চাইতে জেলাগুলির ওপর একটু বেশিই নির্ভরশীল ছিল [এখনও আছে]। স্বাভাবিকভাবেই তাই জেলাগুলিতে একক-প্রেক্ষাগৃহের আধিক্যও বেশি ছিল এবং জেলার দর্শকদের হলে যাওয়ার সঙ্গে একটি ছবির বক্স-অফিসে সাফল্য বা ব্যর্থতার সম্পর্কটি শাশ্বতভাবে সমানুপাতিক। তাই, জেলার সিঙ্গল স্ক্রিনগুলির ইতিহাস সংক্ষেপে একটু ঝালিয়ে নিলে এই আলোচনাটির প্রাসঙ্গিকতা আরেকটু বাড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।

প্রথমত বুঝতে হবে আমাদের দেশে ফিল্ম প্রদর্শনীর ব্যবসাটি শুরু হয়েছিল একেবারে অন্যভাবে। গত শতাব্দীর প্রথমার্ধে হলিউড একটি স্টুডিও নেক্সাস তৈরি করেছিল মার্কিন মুলুকে। সেই দেশের বড়ো শহরগুলির মাত্র ১৬ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহের নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেও ওয়ার্নার ব্রোস, প্যারামাউন্ট পিকচার্স, ট্যুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্সের মতো সংস্থাগুলি অনায়াসেই মোট মুনাফার ৭৫ শতাংশ আয় করত। সেই জায়গায় আমাদের দেশে ফিল্ম প্রদর্শনীর ব্যবসাটি দাঁড়িয়েছিল একক মালিকানার ওপর আর মালিকদের ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষাগুলো ব্যবসার চাইতে অনেক বেশি ঝুঁকে ছিল সামাজিক সম্মান অর্জন করতে পারার দিকে। ধৃতি সুন্দর রায়চৌধুরীর একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, গত শতকের মাঝামাঝি বিপন্ন জমিদার শ্রেণি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে উঠে আসা ভুঁইফোঁড় বুর্জোয়া শ্রেণিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরতলি ও মফস্‌সলে ফিল্ম প্রদর্শনের ব্যবসাটি শুরু হয়েছিল।

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই রাজ্যের একক-প্রেক্ষাগৃহগুলি পথ চলা শুরু করেছিল। এই শতকে মাল্টিপ্লেক্সের উত্থান ও কাজের অভাবে জেলার মানুষের ব্যাপকভাবে কলকাতামুখী হওয়ার সাথেসাথেই জেলার হলগুলি থেকে চেনা জন-জোয়ার অবলুপ্ত হতে শুরু করে।

বারুইপুরের জমিদার রমেন্দ্র রায়চৌধুরীর জমিদারি যখন আর লাভের মুখ দেখছিল না তখন তিনি রেলওয়েতে লোহালক্কড় সাপ্লাইয়ের ব্যবসা শুরু করেন। এতে তাঁর কপাল ফিরলে ১৯৪২ সালে তিনি বাড়ির কাছেই বকুলতলার মাঠে বারুইপুর শো হাউজ-এর পত্তন করেন। অনতিবিলম্বে এলাকায় একটি কারখানা চালু হলে, সেখানকার শ্রমিকদের দৌলতে রায়চৌধুরীদের ব্যবসা রমরমিয়ে চলতে থাকে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাতে জমিদার বিভূতিভূষণ ব্যানার্জী শুরু করেন ‘মিলন’ সিনেমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের প্রত্যাঘাতে জার্মানরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিভূতিভূষণকে একটি জার্মান কোম্পানির সম্পূর্ণ দায়ভার দিয়ে যায়। এতেই আমতলা ও গোপালনগরের ব্যানার্জীদের কপাল খোলে। সাতের দশক পর্যন্ত বারুইপুরে ‘বারুইপুর শো হাউজ’ ও ‘মিলন’ ভালোই ব্যবসা করেছিল। যদিও বিভূতিবাবুর নাতি তপন দেব ব্যানার্জীর একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানতে পেরেছিলাম যে তাঁর ঠাকুরদার কাছে মুনাফার থেকেও জরুরি ছিল সামাজিক সম্মান ও পরিচিতি অর্জন করা, যা সিনেমাহলটি তাঁকে এনে দিয়েছিল।

এই একক-মালিকানার চিত্রে একটি ব্যতিক্রম হল সাতের দশকে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তৈরি হওয়া ‘নিউ মিতালি’ সিনেমা হল। তৎকালীন বাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জয়নাল আবেদিন, আবদুল কাদির-সহ আরও চারজন যুবক মিলে এই সিনেমা হলটির প্রতিষ্ঠা করেন। এরকম আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই রাজ্যের একক-প্রেক্ষাগৃহগুলি পথ চলা শুরু করেছিল। এই শতকে মাল্টিপ্লেক্সের উত্থান ও কাজের অভাবে জেলার মানুষের ব্যাপকভাবে কলকাতামুখী হওয়ার সাথেসাথেই জেলার হলগুলি থেকে চেনা জন-জোয়ার অবলুপ্ত হতে শুরু করে। 

যখন ‘খাদান’, ‘বহুরূপী’, ‘ধূমকেতু’-র মতো ছবিগুলি রাজ্যের অভ্যন্তরে অন্যান্য প্রদেশের ছবিগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করছে ও তাদের গল্প বলার ধরনেও একটি পরিবর্তন আসছে, তখন বলতেই হয় সাময়িকভাবে হলেও এখন বাংলা ছবির কার্ভ আ্যসেন্ডিং।

এককালে শ্রমিকদের সঙ্গে এক আসন ভাগ করতে আপত্তি থাকার কারণে গ্রামীণ জমিদার ও তাঁদের অনুচরবৃন্দরা যে বক্সগুলি তৈরি করেছিল সেগুলি ধীরে ধীরে হয়ে উঠলো কুকীর্তির ডিপো। ক্রমশ জেলার সিঙ্গল স্ক্রিনগুলিতে কেউ আর ছবি দেখতে যেত না, বরং যেত অন্যান্য উদ্দেশ্যে। ইন্দ্রনীল রায়ের আনন্দবাজার পত্রিকায় ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় গত দশকে সিঙ্গল স্ক্রিনগুলির বক্সে জুগল না হলে টিকিট পাওয়া যেত না। বক্সগুলিতে পার্টিশন দিয়ে হল মালিকরা ইচ্ছে করে একই জুগলকে বারবার টিকিট বিক্রি করতেন। প্রয়োজনে অগ্রিম বুকিং করে দিতেন। কিন্তু এর চূড়ান্ত ফলাফলটি ছিল সবার কাছেই অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ। চন্দ্রকোনার ‘পূজা’ সিনেমার বক্সে ২০১৪ সালে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ও এরপরেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অন্যান্য হল মালিকরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়। এর ফলে ‘পূজা’ যেমন বন্ধ হয়ে যায় তেমনই এর প্রভাব পড়ে অন্যান্য সিঙ্গল স্ক্রিনগুলির ওপরেও।

বাংলা ছবির এই মুহূর্তে একটা সমস্যা যেমন শিক্ষিত বাঙালি থেকে শ্রমজীবী বাঙালি সবারই বাংলা ছবি দেখার প্রতি অনীহা, তেমনই আরেকটা সমস্যা হল প্রেক্ষাগৃহের অভাবে বা শহুরে মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের বাড়াবাড়ি দামের কারণে একটি বৃহত্তর মানুষের নিরুপায় হয়ে কদাচিৎ তৈরি হওয়া ভালো ছবিগুলি না দেখতে পারা। এমতাবস্থায় যখন ‘খাদান’, ‘বহুরূপী’, ‘ধূমকেতু’-র মতো ছবিগুলি রাজ্যের অভ্যন্তরে অন্যান্য প্রদেশের ছবিগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করছে ও তাদের গল্প বলার ধরনেও একটি পরিবর্তন আসছে, তখন বলতেই হয় সাময়িকভাবে হলেও এখন বাংলা ছবির কার্ভ আ্যসেন্ডিং। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে রাজ্যের কিছু হল-মালিক পুনরায় তাঁদের বন্ধ হয়ে যাওয়া সিঙ্গল স্ক্রিনের শাটার তুলবেন। তবে কোষাগারে শ্রীবৃদ্ধির পাশাপাশি ছবির মানকে উন্নত করার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে নির্মাতাদের। খেয়াল রাখতে হবে দাঁড়িপাল্লায় ব্যবসা এবং ছবির নান্দনিকতার মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখতে না পারলে এই কার্ভ ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র অসীমের ভাষায় – “যত উঠবে, তত নামবে!”

_____________ 
মতামত লেখকের নিজস্ব | বাংলা ছবির হাল-হকিকত, সমাপ্ত

Developed by DXDasia