প্রাচীন তমলুকের মায়াবী আকর্ষণ

এক সময় তাম্রলিপ্ত ছিল সমৃদ্ধ বন্দর

দেবী বর্গভীমার মন্দির 

যারা মনে করেন কলকাতা খুব প্রাচীন, তাঁরা একবার চোখ ফেরাতে পারেন তমলুকের দিকে। ঘুরে আসতে পারেন পূর্ব মেদিনীপুরের এই শহরে। মহাভারত ও পুরাণে শহরটির নাম রয়েছে ‘তাম্রলিপ্ত’, ঐতিহাসিক নথিপথে ‘তমালিকা’, বিদেশিদের বিবরণে ‘তামলিত্তি’ এবং ব্রিটিশ শাসকদের বর্ণনায় ‘তমোলুক’। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ফলে জানা গিয়েছে, যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৩০০ বছর আগেও সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এখানে। বেশিরভাগ সময় ধরে বঙ্গোপসাগরের তীরে বন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই শহর। 

মোগলমারি

প্রাচীন যুগে তাম্রলিপ্ত ছিল সমৃদ্ধ বন্দর। মৌর্য সাম্রাজ্যের বাণিজ্য জাহাজগুলো এখান থেকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বিশ্বে পাড়ি জমাত। মোগলমারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে জানা গিয়েছে, খুব কাছেই স্থাপিত হয়েছিল বৌদ্ধ বিহার। যার উল্লেখ পাওয়া যায় চিনা পর্যটন ফা-হিয়েন এবং হিউয়েন সাংয়ের লেখায়। মহাভারতে বলা আছে, রূপনারায়ণ নদীর ধারে তাম্রলিপ্ত ছিল ভীমের জয় করা সাম্রাজ্যের অংশ। রাজগৃহ (রাজগির), শ্রাবস্তী, পাটলিপুত্র (পাটনা), বারাণসী, চম্পা, কৌশাম্বীর মতো নগরের সঙ্গে এই বন্দরের যোগাযোগ ছিল।  

হিউয়েন সাং 

এখন তমলুকের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পান উৎপাদন এবং রপ্তানিতে নজর কেড়েছে। পর্যটন থেকেও ভালো রোজকার হয়। দর্শনীয় জায়গার মধ্যে আছে দেবী বর্গভীমার মন্দির, ময়ূরধ্বজ বংশের তমলুক প্রাসাদ, ছবির মতো সুন্দর পিকনিক স্পট গেওঁখালি এবং রক্ষিত বাটী, যেখানে অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনগুলি গুপ্ত বৈঠকে মিলিত হত। 

দেবী বর্গভীমা 

এগুলোর মধ্যে দেবী বর্গভীমার মন্দিরই সবচেয়ে পুরোনো। ময়ূর বংশের এক রাজা প্রায় ১১৫০ বছর আগে এই প্রাচীন কালী মন্দির স্থাপন করেন। হিন্দু এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতি, বাংলা এবং ওড়িশার মন্দির স্থাপত্যের আশ্চর্য সমন্বয়। সারা বছর ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এখানে পড়েছিল দেবী সতীর বাম গোড়ালি। তাই ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই মন্দির। রাজ্য সরকার যাকে হেরিটেজ বলে ঘোষণা করেছে। 

বর্গভীমা মন্দির আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাংলায় মুসলিম বিজয়ের পর মধ্যযুগে এটিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়, যার উল্লেখ পাওয়া যায় পুরোনো বাংলা সাহিত্যে। সেইসব পুঁথিপত্রের হিসেব অনুযায়ী মন্দির অনেক বেশি প্রাচীন। যা আমরা জানি, তার থেকেও বেশি। তবে ঐতিহাসিক প্রমাণ কিছু মেলেনি। নববর্ষ, দুর্গাপুজো, কালীপুজোর মতো উৎসব-অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় বর্গভীমা মন্দিরে।

বর্গভীমা মন্দিরের ফলক 

কলকাতা থেকে তমলুক ৮৭ কিলোমিটার দূরে। খড়গপুর থেকেও দূরত্ব মোটামুটি একই। জাতীয় সড়ক ৬ এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ দিয়ে পৌঁছনো যায় এই প্রাচীন শহরে। সবথেকে কাছের রেল স্টেশন তমলুক নিজেই। গাড়ি চালিয়ে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন। কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকেও প্রচুর বাস ছাড়ে। তার একটা ধরেও যেতে পারেন স্বচ্ছন্দে।

মৃত্তিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি

কেবল বর্গভীমা মন্দির দেখতে চাইলে একদিনে ফিরে আসা যায়। তবে আশেপাশে গন্তব্যে যদি যেতে চান, তাহলে কয়েকদিন থাকতে হবে। কাছেই মেদিনীপুর শহরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব মৃত্তিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন রানি শিরোমণি পর্যটক আবাস)। সেখান থেকে গাড়িতে তমলুক পৌঁছতে লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। আত্মীয় বন্ধুবান্ধব নিয়ে কয়েকদিন আরামে থাকতে পারবেন। 

বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Website: https://www.wbtdcl.com/
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
 

Developed by DXDasia