
টেরাকোটার নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে
ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড়ে ঐতিহাসিক জনপদ কালনা। পূর্ব বর্ধমান জেলার এই শহরটিকে ‘অম্বিকা কালনা’ নামেও ডাকা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী কালীর আরেক রূপ অম্বিকা। সেই দেবীর নামেই শহরের এমন নামকরণ। প্রাচীন যুগে কালনা বাংলার অন্যতম প্রধান নদী বন্দর ছিল। মধ্যযুগেও এই জনপদ ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। টেরাকোটার মন্দির স্থাপত্যের জন্য কালনার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে। ‘মন্দিরের শহর’ নামেও জায়গাটি পরিচিত।
ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড়ে ঐতিহাসিক জনপদ কালনা
কালনায় দর্শনীয় স্থান প্রচুর। প্রথমেই দেখতে পারেন ১০৮টি শিবমন্দির, যা নবকৈলাশ নামেও পরিচিত। ১৮০৯ সালে বর্ধমানের রাজা তেজচন্দ্র বাহাদুর এগুলি প্রতিষ্ঠা করেন। দুটি বৃত্তের মধ্যে ৩৪টি মন্দির রয়েছে ভিতরে ও ৭৪টি বাইরে। সবক’টি মন্দিরই আটচালা রীতিতে নির্মিত। মন্দির প্রাঙ্গণের কেন্দ্রে অবস্থান করছে একটি জলাধার।
টেরাকোটার মন্দির স্থাপত্যের জন্য কালনার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে
নবকৈলাস মন্দিরের উল্টোদিকেই রাজবাড়ি। সেখানে রয়েছে বেশ কিছু টেরাকোটা মন্দির। দেখতে পাবেন পুরোনো আমলের কামান। রাজবাড়ি কমপ্লেক্সে ঢুকে বাঁ দিকে প্রতাপেশ্বর শিবমন্দির। বর্ধমানের জমিদারপুত্র প্রতাপচাঁদের স্মৃতিতে এটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৪৯ সালে। মন্দিরটি ‘রেখ দেউল’ রীতির সুন্দর নিদর্শন। পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কাজ চোখ জুড়িয়ে দেয়।
প্রতাপেশ্বর শিবমন্দির
প্রতাপেশ্বর মন্দিরের টেরাকোটা কারুকার্য
প্রতাপেশ্বর মন্দিরের পাশেই রাসমঞ্চ। তার ছাদ ভেঙে গিয়েছে অনেকদিন আগেই। আরেকটু এগোলেই লালজি মন্দির। ১৭৩৯ সালে বর্ধমানের মহারানি ব্রজকিশোরী দেবী এটি নির্মাণ করান। ২৫টি চূড়াবিশিষ্ট এই পঁচিশরত্ন মন্দিরে পূজিত হন রাধাকৃষ্ণ। লালজি মন্দিরের বাঁদিকে গিরিগোবর্ধন মন্দির। উত্তর ভারতের গোবর্ধন পর্বতের অনুকরণে এটি নির্মিত। মন্দিরের ছাদে মানুষ এবং অন্যান্য নানা প্রাণীর অবয়ব রয়েছে। পাশেই দেখতে পাবেন রূপেশ্বর শিব মন্দির। তারপর পঞ্চরত্ন শিব মন্দির। এই পাঁচটি আটচালা মন্দির পেরোলে বিজয় বৈদ্যনাথ মন্দির। টেরাকোটার কাজ এই মন্দিরেও দেখা যায়।
রাসমঞ্চ
রূপেশ্বর মন্দির
১৭৫১ সালে বর্ধমানরাজ ত্রিলোকচন্দ্রের মাতা লক্ষ্মীকুমারী দেবী প্রতিষ্ঠা করেন কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির। এই মন্দিরের গঠন প্রায় লালজি মন্দিরের মতোই, কেবল সামনের মণ্ডপটি বাদে। এখানেও রাধাকৃষ্ণ পূজিত হন। মন্দিরগাত্রে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কৃষ্ণের লীলা। গোটা এলাকাটির তত্ত্বাবধান করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ।
কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির
রাজবাড়ি কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে চলে যান ভাগীরথীর তীরে মহিষাসুরমর্দিনী ঘাটে। এছাড়া গোপালবাড়ি মন্দির, অনন্ত বাসুদেব মন্দিরও ঘুরতে পারেন। তবে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির দেখতে ভুলবেন না। অনেকে বলেন, এটি কালনার প্রাচীনতম মন্দির। অম্বিকা কালনা মন্দিরও বলা হয় একে। কালনা শহরে আরও বেশ কয়েকটি পুরোনো মন্দির রয়েছে।
অম্বিকা কালনার অবস্থান
শৈল্পিক ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান

